শেরপুরে বন্যার পানি-সাপের কামড়ে দুইজনের মৃত্যু
jugantor
শেরপুরে বন্যার পানি-সাপের কামড়ে দুইজনের মৃত্যু

  শেরপুর প্রতিনিধি  

২২ জুলাই ২০২০, ২৩:৩৫:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

শেরপুরের চরাঞ্চলের ১২টি ইউনিয়নের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

বন্যার পানিতে ডুবে শেরপুর সদর উপজেলার বলাইরচর ইউনিয়নের চরশ্রীপুর গ্রামের উমিলা বেগম নামে ৫০ বছর বয়স্ক এক নারীর মারা গেছে। এদিকে নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে সোবাহান মিয়া ভুষি নামে ৫২ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। 

বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণের স্বল্পতার পাশাপাশি গো খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যার্তদের জন্য ৮৫ মেট্রিক টন খয়রাতি চাল ও ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পোড়ারদোকান ও শিমুলতলীর দুটি ডাইভারশনের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ৬ দিন ধরে শেরপুর থেকে জামালপুর হয়ে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। 

শেরপুর জেলা খামারবাড়ির উপপরিচালক মোহিত কুমার দে জানান, বন্যায় ৪৩০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ১২৬ হেক্টর সবজি, ৬২ হেক্টর পাট ও ১৫৭ হেক্টর আউশসহ মোট ৭৭৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

ছাগলের জন্য কাঁঠাল গাছের পাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে বন্যার পানির স্রোতে ডুবে শেরপুর সদর উপজেলার চরশ্রীপুর কান্দাপাড়া গ্রামে নিহত উমেলা বেগম (৫০) এক নারী মারা গেছে। সে চরশ্রীপুর কান্দাপাড়া গ্রামের আবুবকর সিদ্দিক ওরফে উমর ফারুকের স্ত্রী। মঙ্গলবার রাতে বন্যার পানিতে ডুবে ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুন।

বলাইরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, বন্যায় চার দিন ধরে বাড়িঘরে পানি ওঠায় ছাগলের খাবার নিয়ে উমেলা বেগম দুশ্চিন্তায় পড়েন। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উঁচু স্থান থেকে ছাগলের খাবার কাঁঠাল গাছের পাতা সংগ্রহের জন্য বন্যার পানি ভেঙে যাওয়ার সময় পানির তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে পড়নের শাড়ি পেঁচিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়। বিকালে ভাটির দিকে তার লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।

এদিকে শেরপুরের নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে সোবাহান মিয়া ভূষি (৫২) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছে। একই সময়ে সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন জামাল মিয়া (৫০)।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে সোবাহান মিয়া ভূষি ও হুরমুজ মিয়ার ছেলে জামাল মিয়া (৫০) বন্যার পানিতে কারেন্ট জাল দিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে মাছ ধরতে যান। তাদের দুজনকেই বিষাক্ত সাপে কামড় দেয়। এতে দুই জনই আহত হয়।

তাদেরকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বুধবার ভোরে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোবাহানকে মৃত ঘোষণা করেন। জামাল মিয়া অচেতন অবস্থায় সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান ইউএনও।

শেরপুরে বন্যার পানি-সাপের কামড়ে দুইজনের মৃত্যু

 শেরপুর প্রতিনিধি 
২২ জুলাই ২০২০, ১১:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শেরপুরের চরাঞ্চলের ১২টি ইউনিয়নের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

বন্যার পানিতে ডুবে শেরপুর সদর উপজেলার বলাইরচর ইউনিয়নের চরশ্রীপুর গ্রামের উমিলা বেগম নামে ৫০ বছর বয়স্ক এক নারীর মারা গেছে। এদিকে নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে সোবাহান মিয়া ভুষি নামে ৫২ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণের স্বল্পতার পাশাপাশি গো খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যার্তদের জন্য ৮৫ মেট্রিক টন খয়রাতি চাল ও ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পোড়ারদোকান ও শিমুলতলীর দুটি ডাইভারশনের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ৬ দিন ধরে শেরপুর থেকে জামালপুর হয়ে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।

শেরপুর জেলা খামারবাড়ির উপপরিচালক মোহিত কুমার দে জানান, বন্যায় ৪৩০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ১২৬ হেক্টর সবজি, ৬২ হেক্টর পাট ও ১৫৭ হেক্টর আউশসহ মোট ৭৭৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

ছাগলের জন্য কাঁঠাল গাছের পাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে বন্যার পানির স্রোতে ডুবে শেরপুর সদর উপজেলার চরশ্রীপুর কান্দাপাড়া গ্রামে নিহত উমেলা বেগম (৫০) এক নারী মারা গেছে। সে চরশ্রীপুর কান্দাপাড়া গ্রামের আবুবকর সিদ্দিক ওরফে উমর ফারুকের স্ত্রী। মঙ্গলবার রাতে বন্যার পানিতে ডুবে ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুন।

বলাইরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, বন্যায় চার দিন ধরে বাড়িঘরে পানি ওঠায় ছাগলের খাবার নিয়ে উমেলা বেগম দুশ্চিন্তায় পড়েন। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উঁচু স্থান থেকে ছাগলের খাবার কাঁঠাল গাছের পাতা সংগ্রহের জন্য বন্যার পানি ভেঙে যাওয়ার সময় পানির তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে পড়নের শাড়ি পেঁচিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়। বিকালে ভাটির দিকে তার লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।

এদিকে শেরপুরের নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে সোবাহান মিয়া ভূষি (৫২) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছে। একই সময়ে সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন জামাল মিয়া (৫০)।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে সোবাহান মিয়া ভূষি ও হুরমুজ মিয়ার ছেলে জামাল মিয়া (৫০) বন্যার পানিতে কারেন্ট জাল দিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে মাছ ধরতে যান। তাদের দুজনকেই বিষাক্ত সাপে কামড় দেয়। এতে দুই জনই আহত হয়।

তাদেরকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বুধবার ভোরে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোবাহানকে মৃত ঘোষণা করেন। জামাল মিয়া অচেতন অবস্থায় সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান ইউএনও।