ক্যাডার দিয়ে চাল চুরি, অভিযোগকারীর স্বামীকে খুঁজছে চেয়ারম্যান
jugantor
ক্যাডার দিয়ে চাল চুরি, অভিযোগকারীর স্বামীকে খুঁজছে চেয়ারম্যান

  পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি  

৩০ জুলাই ২০২০, ২১:৪২:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দশমিনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহামুদ লিটনের বিরুদ্ধে চাল চুরির তদন্ত নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তের দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপজেলা চত্বরে অভিযুক্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তার ক্যাডার বাহিনী। এমনকি তদন্তে অংশ নেয়া ভুক্তভোগীদের হামলা-মামলার ভয় দেখানো হয়েছে।  

এছাড়াও তদন্ত বানচালে আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে দফায় দফায় মিছিল, শোডাউন, স্লোগান দিয়ে উপজেলা চত্বরকে আতঙ্কিত করে রাখা হয়। ফলে মুখ খোলার সাহস পায়নি অনেকেই। অনেক ভুক্তভোগী তদন্তে অংশ নিতে ইউএনও চত্বরে হাজির হলেও ক্যাডারদের ভয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছে। সেক্ষেত্রে তদন্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ।

সম্প্রতি ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহামুদ লিটনের বিরুদ্ধে ডিসির কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। প্রথম দফা অভিযোগে ভুক্তভোগীদের পূর্ণ পরিচয় না থাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযোগ করা হয়।

৩০ জুলাই তদন্তের দিন ধার্য করে পটুয়াখালী ডিডিএলজির শাখার উপ-পরিচালক ও এডিসি হেমায়েত উদ্দিনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেন ডিসি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে তদন্তের এক দিন পূর্বে বুধবার সংশ্লিষ্ট ইউএনও মোসা. তানিয়া ফেরদৌসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অভিযোগকারীদের নোটিশ দেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ অভিযোগে কারও পরিচয় ছিল না। অথচ দ্বিতীয় দফা অভিযোগে ভুক্তভোগীদের পরিচয় উল্লেখ করে দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী জানান, অভিযোগ দেয়ার পর থেকেই তার স্বামীকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে লিটনের লোকজন। বৃহস্পতিবার তদন্তে অংশ নিতে উপজেলা চত্বরে হাজির হলে চেয়ারম্যান লিটনের লোকজন তাকে আটকে পেটাতে ঔদ্ধত্য হয় এবং অনেক অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে অভিযোগ দেয়ার জন্য। এর আগে বাড়ি থেকে উপজেলা চত্বরে পৌঁছানো পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের একটি বাহিনী তার পিছু নেয়।

ওই নারী আরও জানান, তদন্ত কর্মকর্তার কাছে গেলে শুধু জানতে চেয়েছেন চাল ঠিকমতো পায় কিনা। একসঙ্গে চার ভুক্তভোগী তদন্ত কর্মকর্তার রুমে প্রবেশ করলেও একজনের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। বাকিদের কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও এক ভুক্তভোগী বলেন, অভিযোগ দেয়ার পর থেকে চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাসিয়ে আসত। ভুক্তভোগীদের প্রভাবিত করে ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাও চালানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দশমিনা উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমার জানামতে, একাধিক ভুক্তভোগী চাল না পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরেছেন। তবে ভুক্তভোগীরা যথেষ্ট আতঙ্কগ্রস্ত। যে ব্যক্তির কাছে জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা লাঞ্ছিত হতে পারে, তার কাছে উপজেলা-ইউনিয়নের নেতারা আমরা তুচ্ছ। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কী বলতে হবে তা লিটনের ক্যাডার বাহিনীরা কার্ডধারীদের শিখিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও সকাল থেকে লিটনের পক্ষে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কবির হোসেন, যুবলীগ নেতা তারেক রহমান, কথিত যুবলীগ নেতা শহিদ, বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ প্যাদা, সাবেক যুবলীগ নেতা মোশারফ হোসেন ও আলোচিত হত্যা মামলার আসামি লুৎফর রহমানসহ অর্ধশত লোক তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে অভিযোগকারীদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করে।

চেয়ারম্যানের পক্ষে তারিকুল ইসলামের ফেসবুকে আপলোড করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কার্ডধারীরা ভীত হয়ে বলছেন- তারা ১৯ মাসের চাল পেয়েছেন। অথচ ১৮ মাসের চাল বিতরণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, আপনারা ঘটনাস্থলে আসেন। কারা অভিযোগ করছে দেখে যান। আমি তো এর কিছুই জানি না। 

এ প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা এডিসি হেমায়েত উদ্দিন বলেন, তদন্ত সঠিক হয়েছে। কিন্তু এখন বলার কোনো সুযোগ নাই। তদন্তের দিন উপজেলা চত্বরে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে নানা মহলের প্রভাব ছিল- এমন প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ক্যাডার দিয়ে চাল চুরি, অভিযোগকারীর স্বামীকে খুঁজছে চেয়ারম্যান

 পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি 
৩০ জুলাই ২০২০, ০৯:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দশমিনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহামুদ লিটনের বিরুদ্ধে চাল চুরির তদন্ত নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তের দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপজেলা চত্বরে অভিযুক্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তার ক্যাডার বাহিনী। এমনকি তদন্তে অংশ নেয়া ভুক্তভোগীদের হামলা-মামলার ভয় দেখানো হয়েছে।

এছাড়াও তদন্ত বানচালে আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে দফায় দফায় মিছিল, শোডাউন, স্লোগান দিয়ে উপজেলা চত্বরকে আতঙ্কিত করে রাখা হয়। ফলে মুখ খোলার সাহস পায়নি অনেকেই। অনেক ভুক্তভোগী তদন্তে অংশ নিতে ইউএনও চত্বরে হাজির হলেও ক্যাডারদের ভয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছে। সেক্ষেত্রে তদন্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ।

সম্প্রতি ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহামুদ লিটনের বিরুদ্ধে ডিসির কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। প্রথম দফা অভিযোগে ভুক্তভোগীদের পূর্ণ পরিচয় না থাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযোগ করা হয়।

৩০ জুলাই তদন্তের দিন ধার্য করে পটুয়াখালী ডিডিএলজির শাখার উপ-পরিচালক ও এডিসি হেমায়েত উদ্দিনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেন ডিসি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে তদন্তের এক দিন পূর্বে বুধবার সংশ্লিষ্ট ইউএনও মোসা. তানিয়া ফেরদৌসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অভিযোগকারীদের নোটিশ দেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ অভিযোগে কারও পরিচয় ছিল না। অথচ দ্বিতীয় দফা অভিযোগে ভুক্তভোগীদের পরিচয় উল্লেখ করে দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী জানান, অভিযোগ দেয়ার পর থেকেই তার স্বামীকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে লিটনের লোকজন। বৃহস্পতিবার তদন্তে অংশ নিতে উপজেলা চত্বরে হাজির হলে চেয়ারম্যান লিটনের লোকজন তাকে আটকে পেটাতে ঔদ্ধত্য হয় এবং অনেক অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে অভিযোগ দেয়ার জন্য। এর আগে বাড়ি থেকে উপজেলা চত্বরে পৌঁছানো পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের একটি বাহিনী তার পিছু নেয়।

ওই নারী আরও জানান, তদন্ত কর্মকর্তার কাছে গেলে শুধু জানতে চেয়েছেন চাল ঠিকমতো পায় কিনা। একসঙ্গে চার ভুক্তভোগী তদন্ত কর্মকর্তার রুমে প্রবেশ করলেও একজনের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। বাকিদের কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও এক ভুক্তভোগী বলেন, অভিযোগ দেয়ার পর থেকে চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাসিয়ে আসত। ভুক্তভোগীদের প্রভাবিত করে ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাও চালানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দশমিনা উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমার জানামতে, একাধিক ভুক্তভোগী চাল না পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরেছেন। তবে ভুক্তভোগীরা যথেষ্ট আতঙ্কগ্রস্ত। যে ব্যক্তির কাছে জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা লাঞ্ছিত হতে পারে, তার কাছে উপজেলা-ইউনিয়নের নেতারা আমরা তুচ্ছ। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কী বলতে হবে তা লিটনের ক্যাডার বাহিনীরা কার্ডধারীদের শিখিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও সকাল থেকে লিটনের পক্ষে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কবির হোসেন, যুবলীগ নেতা তারেক রহমান, কথিত যুবলীগ নেতা শহিদ, বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ প্যাদা, সাবেক যুবলীগ নেতা মোশারফ হোসেন ও আলোচিত হত্যা মামলার আসামি লুৎফর রহমানসহ অর্ধশত লোক তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে অভিযোগকারীদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করে।

চেয়ারম্যানের পক্ষে তারিকুল ইসলামের ফেসবুকে আপলোড করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কার্ডধারীরা ভীত হয়ে বলছেন- তারা ১৯ মাসের চাল পেয়েছেন। অথচ ১৮ মাসের চাল বিতরণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, আপনারা ঘটনাস্থলে আসেন। কারা অভিযোগ করছে দেখে যান। আমি তো এর কিছুই জানি না।

এ প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা এডিসি হেমায়েত উদ্দিন বলেন, তদন্ত সঠিক হয়েছে। কিন্তু এখন বলার কোনো সুযোগ নাই। তদন্তের দিন উপজেলা চত্বরে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে নানা মহলের প্রভাব ছিল- এমন প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন