যুগান্তরের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধির বাড়িসহ ১১ প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা
jugantor
যুগান্তরের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধির বাড়িসহ ১১ প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা

  কুমিল্লা ব্যুরো  

০৪ আগস্ট ২০২০, ১০:২২:২৭  |  অনলাইন সংস্করণ

যুগান্তরের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধির বাড়িসহ ১১ প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা
ছবি: যুগান্তর

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া নেয়া কেন্দ্র করে দফায় দফায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা দৈনিক যুগান্তরের কুমিল্লা ব্যুরোর রিপোর্টারের বাড়িসহ ১১ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার দুপুরে উপজেলার পৌর এলাকার পান্নারপুলে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে পান্নারপুল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে ঈদ উপলক্ষে অটোরিকশার অতিরিক্ত পাঁচ টাকা ভাড়া নেয়া কেন্দ্র করে পান্নারপুল স্টেশনে ইটভাটা ব্যবসায়ী এমএ কাইয়ুম ভূঁইয়ার ভাতিজা ওমর ফারুকের সঙ্গে চালকের বাকবিতণ্ডা হয়। এতে অটোচালক ও ওমর ফারুকের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

এর কিছুক্ষণ পর ওমর ফারুক এলাকা থেকে দলবলসহ এসে ওই সিএনজি স্ট্যান্ডে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ১০টি অটোরিকশা এবং তিনটি দোকান ভাঙচুর করা হয়।
 
পরে দেবিদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ারসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয় গ্রুপ আগামী ১২ আগস্ট সামাজিকভাবে বসে বিষয়টি সুরাহা করে নেবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনার পর সিএনজি চালক এবং হাতাহাতির ঘটনায় জড়িতরা যার যার বাড়িতে চলে যান। তবে ওমর ফারুকের চাচা এইচবিসি নামক ইটভাটার পরিচালক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া (সবুর) এবং দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ওমর ফারুক ভূঁইয়া, হাবিব, সালাউদ্দিন, আলামিন, জহির, ইব্রাহীম, পলাশ, ইকরাম, ইনজামসহ অর্ধশতাধিক বখাটে পুনরায় পান্নারপুলে এসে ১১টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা নগদ অর্থ এবং মালামাল লুটে নেয়া হয়।

পান্নারপুল স্ট্যান্ডে এসব তাণ্ডব ঘটানোর পর অদূরে সাংবাদিক আবুল খায়ের, সিদ্দিক বেপারি এবং মালেক মিয়ার বাড়িতেও অতর্কিতভাবে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় হামলার আলামত নষ্ট করার জন্য বাড়িতে থাকা সিসি টিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে কুমিল্লা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোনো সময় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পান্নারপুল এলাকায় ৩০ জনের অধিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
 
এদিকে কোনো প্রকার ইস্যু ছাড়াই সাংবাদিকের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এবং কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম দেবিদ্বার থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সাংবাদিক আবুল খায়ের জানান, এসব ঘটনায় আমি কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত নই এবং ঘটনাটি অটোচালক ও যাত্রীদের মধ্যে ঘটেছে। কিন্তু কোনো প্রকার ইস্যু ছাড়াই আমার বাড়িসহ আশপাশের তিনটি বাড়ি কী কারণে ভাঙচুর করা হলো তা বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার বলেন, কোনো প্রকার ইস্যু ছাড়াই সাংবাদিকের বাড়িসহ আশপাশের তিনটি বাড়িতে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশ সুপার যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য   নির্দেশনা দিয়েছেন। ঘটনায় জড়িতরা কিছুতেই আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারবে না।

যুগান্তরের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধির বাড়িসহ ১১ প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা

 কুমিল্লা ব্যুরো 
০৪ আগস্ট ২০২০, ১০:২২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
যুগান্তরের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধির বাড়িসহ ১১ প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা
ছবি: যুগান্তর

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া নেয়া কেন্দ্র করে দফায় দফায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা দৈনিক যুগান্তরের কুমিল্লা ব্যুরোর রিপোর্টারের বাড়িসহ ১১ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার দুপুরে উপজেলার পৌর এলাকার পান্নারপুলে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে পান্নারপুল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে ঈদ উপলক্ষে অটোরিকশার অতিরিক্ত পাঁচ টাকা ভাড়া নেয়া কেন্দ্র করে পান্নারপুল স্টেশনে ইটভাটা ব্যবসায়ী এমএ কাইয়ুম ভূঁইয়ার ভাতিজা ওমর ফারুকের সঙ্গে চালকের বাকবিতণ্ডা হয়। এতে অটোচালক ও ওমর ফারুকের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

এর কিছুক্ষণ পর ওমর ফারুক এলাকা থেকে দলবলসহ এসে ওই সিএনজি স্ট্যান্ডে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ১০টি অটোরিকশা এবং তিনটি দোকান ভাঙচুর করা হয়।

পরে দেবিদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ারসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয় গ্রুপ আগামী ১২ আগস্ট সামাজিকভাবে বসে বিষয়টি সুরাহা করে নেবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনার পর সিএনজি চালক এবং হাতাহাতির ঘটনায় জড়িতরা যার যার বাড়িতে চলে যান। তবে ওমর ফারুকের চাচা এইচবিসি নামক ইটভাটার পরিচালক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া (সবুর) এবং দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ওমর ফারুক ভূঁইয়া, হাবিব, সালাউদ্দিন, আলামিন, জহির, ইব্রাহীম, পলাশ, ইকরাম, ইনজামসহ অর্ধশতাধিক বখাটে পুনরায় পান্নারপুলে এসে ১১টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা নগদ অর্থ এবং মালামাল লুটে নেয়া হয়।

পান্নারপুল স্ট্যান্ডে এসব তাণ্ডব ঘটানোর পর অদূরে সাংবাদিক আবুল খায়ের, সিদ্দিক বেপারি এবং মালেক মিয়ার বাড়িতেও অতর্কিতভাবে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় হামলার আলামত নষ্ট করার জন্য বাড়িতে থাকা সিসি টিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে কুমিল্লা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোনো সময় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পান্নারপুল এলাকায় ৩০ জনের অধিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে কোনো প্রকার ইস্যু ছাড়াই সাংবাদিকের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এবং কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম দেবিদ্বার থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সাংবাদিক আবুল খায়ের জানান, এসব ঘটনায় আমি কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত নই এবং ঘটনাটি অটোচালক ও যাত্রীদের মধ্যে ঘটেছে। কিন্তু কোনো প্রকার ইস্যু ছাড়াই আমার বাড়িসহ আশপাশের তিনটি বাড়ি কী কারণে ভাঙচুর করা হলো তা বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার বলেন, কোনো প্রকার ইস্যু ছাড়াই সাংবাদিকের বাড়িসহ আশপাশের তিনটি বাড়িতে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশ সুপার যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। ঘটনায় জড়িতরা কিছুতেই আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারবে না।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন