ক্ষতিপূরণ না দিয়ে বিদ্যুৎ লাইনের নিচের গাছ কাটার অভিযোগ
jugantor
ক্ষতিপূরণ না দিয়ে বিদ্যুৎ লাইনের নিচের গাছ কাটার অভিযোগ

  বাগেরহাট প্রতিনিধি  

১০ আগস্ট ২০২০, ২১:৪৪:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সামান্য ক্ষতিপূরণ দিয়েই নির্মাণাধীন মোংলা-বাগেরহাট ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন বিদ্যুৎ লাইনের নিচের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দরিদ্র ওই সংখ্যালঘু পরিবারগুলো প্রতিকার পেতে রোববার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের কাঠি গ্রামের কয়েকটি দরিদ্র সংখ্যালঘু পরিবারের

বসতবাড়ির উপর দিয়ে মোংলা-বাগেরহাট ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে।

বছরখানেক আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি চিঠি দিয়ে মোংলা-বাগেরহাট ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ হবে বলে তাদের জানানো হয়। সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল সামাজিক বনবিভাগ ও কৃষিবিভাগের মাধ্যমে স্থানীয় জমির মালিকদের ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া হবে।

কিন্তু ভুক্তভোগীরা বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। সামান্য টাকা দেয়ার পর একের পর এক হুমকি, পুলিশ ও প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে লাইন নির্মাণ করেছে। ১৫ দিন আগে তাদের মূল্যবান ফলন্ত গাছগুলো কেটে ফেলেছে। স্বল্পশিক্ষিত পরিবারগুলো ভেবেছিল গাছ কাটার পর সম্পূর্ণ টাকা দেয়া হবে। কিন্তু পরে আর কোনো টাকা দেয়া হয়নি। এমনকি বারবার সরকারি ক্ষতিপূরণের নির্ধারিত তালিকা দেখতে চাইলেও তাদের তা দেখানো হয়নি।

ভুক্তভোগী অম্বরিশ মণ্ডল জানান, আমি নিঃসন্তান, স্ত্রী অসুস্থ বিছানায়। সারাজীবন পরের বাড়ি নারকেল-সুপারি পেড়ে জীবনধারণ করেছি। এখন আগের মতো শরীরে শক্তি নেই। ঘরের পাশে সামান্য জমিতে থাকা নারকেল সুপারি বিক্রি করে কোনোরকমে আমাদের দুজনের সংসার চলে। আমাদের বেঁচে থাকার শেষ সম্বলও হারিয়েছে। এর তেমন কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি।

জগদিশ মণ্ডল, গৌতম কুমার মণ্ডল, সুপ্রিয়া বৈরাগী জানান, নারকেল সুপারি গাছগুলোই ছিল আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস। আমাদের সামান্য টাকা দিয়ে বিদায় দেয়া হয়েছে। বারবার সরকারি রেট অনুযায়ী আমাদের টাকা দিতে অনুরোধ করলেও তাতে কেউ কর্ণপাত করেনি। উল্টো আমাদের নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর কোনোকিছুই জানেন না বলে জানান।
যোগাযোগ করা হলে বাগেরহাট সামাজিক বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আবুল কালাম জানান, সরকারি নির্দেশনা পেলে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কিন্তু ওই অঞ্চলে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন নির্মাণের বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনবাজার-মাওয়া-মোংলা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর চন্দ্র দত্ত অফিসিয়ালি বক্তব্য দেয়ার তিনি কেউ না জানিয়ে বলেন, নিয়মানুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা দেয়া হয়।

ক্ষতিপূরণ না দিয়ে বিদ্যুৎ লাইনের নিচের গাছ কাটার অভিযোগ

 বাগেরহাট প্রতিনিধি 
১০ আগস্ট ২০২০, ০৯:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সামান্য ক্ষতিপূরণ দিয়েই নির্মাণাধীন মোংলা-বাগেরহাট ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন বিদ্যুৎ লাইনের নিচের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দরিদ্র ওই সংখ্যালঘু পরিবারগুলো প্রতিকার পেতে রোববার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের কাঠি গ্রামের কয়েকটি দরিদ্র সংখ্যালঘু পরিবারের

বসতবাড়ির উপর দিয়ে মোংলা-বাগেরহাট ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে।

বছরখানেক আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি চিঠি দিয়ে মোংলা-বাগেরহাট ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ হবে বলে তাদের জানানো হয়। সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল সামাজিক বনবিভাগ ও কৃষিবিভাগের মাধ্যমে স্থানীয় জমির মালিকদের ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া হবে।

কিন্তু ভুক্তভোগীরা বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। সামান্য টাকা দেয়ার পর একের পর এক হুমকি, পুলিশ ও প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে লাইন নির্মাণ করেছে। ১৫ দিন আগে তাদের মূল্যবান ফলন্ত গাছগুলো কেটে ফেলেছে। স্বল্পশিক্ষিত পরিবারগুলো ভেবেছিল গাছ কাটার পর সম্পূর্ণ টাকা দেয়া হবে। কিন্তু পরে আর কোনো টাকা দেয়া হয়নি। এমনকি বারবার সরকারি ক্ষতিপূরণের নির্ধারিত তালিকা দেখতে চাইলেও তাদের তা দেখানো হয়নি।

ভুক্তভোগী অম্বরিশ মণ্ডল জানান, আমি নিঃসন্তান, স্ত্রী অসুস্থ বিছানায়। সারাজীবন পরের বাড়ি নারকেল-সুপারি পেড়ে জীবনধারণ করেছি। এখন আগের মতো শরীরে শক্তি নেই। ঘরের পাশে সামান্য জমিতে থাকা নারকেল সুপারি বিক্রি করে কোনোরকমে আমাদের দুজনের সংসার চলে। আমাদের বেঁচে থাকার শেষ সম্বলও হারিয়েছে। এর তেমন কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি।

জগদিশ মণ্ডল, গৌতম কুমার মণ্ডল, সুপ্রিয়া বৈরাগী জানান, নারকেল সুপারি গাছগুলোই ছিল আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস। আমাদের সামান্য টাকা দিয়ে বিদায় দেয়া হয়েছে। বারবার সরকারি রেট অনুযায়ী আমাদের টাকা দিতে অনুরোধ করলেও তাতে কেউ কর্ণপাত করেনি। উল্টো আমাদের নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর কোনোকিছুই জানেন না বলে জানান।
যোগাযোগ করা হলে বাগেরহাট সামাজিক বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আবুল কালাম জানান, সরকারি নির্দেশনা পেলে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কিন্তু ওই অঞ্চলে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন নির্মাণের বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনবাজার-মাওয়া-মোংলা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর চন্দ্র দত্ত অফিসিয়ালি বক্তব্য দেয়ার তিনি কেউ না জানিয়ে বলেন, নিয়মানুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা দেয়া হয়।