বিনা খরচে দলিল পেয়ে কাঁদলেন ভূমিহীন কাজলী বেগম
jugantor
বিনা খরচে দলিল পেয়ে কাঁদলেন ভূমিহীন কাজলী বেগম

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি  

১২ আগস্ট ২০২০, ২৩:২০:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গতবারের ভয়াবহ নদী ভাঙনে সর্বস্বহারা ৩০০ পরিবারের মধ্যে মঙ্গলবার প্রথম দফায় ৫৪টি পরিবারপ্রধানের হাতে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্তের দলিল তুলে দেয়া হয়েছে। উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন তার কার্যালয় থেকে এ দলিল হস্তান্তর করেন।

জমির বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে পরবর্তীতে সরকারিভাবে ঘর তুলে দেয়ারও উদ্যোগ রয়েছে প্রশাসনের। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এসি ল্যান্ড কার্যালয়ের বাইরে কথা হয় জমির দলিল হাতে পাওয়া অসহায় কাজলী বেগমের (৬৫) সঙ্গে। তিনি জমি পাওয়ার আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, গত বছর দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়ালজানি গ্রামের আরও অনেকের মতো আমারও ভিটে-বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তারপর থেকে রাস্তার ধারে একমাত্র মেয়ে ও দুটি নাতি-নাতনি নিয়ে মাথাগুঁজে ছিলাম।

তিনি বলেন, ভাঙনের কিছুদিন পরই এসি ল্যান্ড আমার খোঁজ করে নাম নিয়ে আসেন। তিনি ভরসা দেন আপনাদের বেশিদিন রাস্তার ধারে থাকতে হবে না। আজকে তার কথা অনুযায়ী আমি ১০ শতাংশ জমির একটি দলিল হাতে পেলাম। শুনেছি দলিল খরচের জন্য সরকারিভাবে কিছু খরচ লাগে। কিন্তু এসি ল্যান্ড আমার কাছ থেকে সে টাকাটাও নেননি। আমি তার জন্য এবং দেশের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার জন্য প্রাণভরে দোয়া করছি।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন মজিদ শেখেরপাড়ার সাইদ মোল্লা (৪৫), মজিদ মোল্লা (৭০), রূপবান বেগমসহ (৩৫) আরও অনেকেই জানান, নদী ভাঙনে সব হারানোর পর পরিবার-পরিজন নিয়ে রাস্তার ধারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলাম। আজকে দলিল হাতে পেয়ে মনে শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য সরকার সত্যিই কাজ করছে। আমাদের জমি পেতে কারও সঙ্গে দেন-দরবার করতে হয়নি। এসি ল্যান্ড নিজে ঘুরে ঘুরে ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গতবারের নদী ভাঙনে ভিটে-মাটি হারা হয় অন্তত সহস্রাধিক পরিবার। এদের মধ্যে বেশির ভাগ পরিবার নিজেদের উদ্যোগে জমি কিনে/লিজ নিয়ে অথবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। কিন্তু আমাদের জরিপ অনুযায়ী ৩০০ পরিবার তাদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি। তারা রাস্তার ধারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিল। প্রথম ধাপে এদের মধ্য থেকে আজকে ৫৪ জনের হাতে দলিল তুলে দিলাম। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে দলিল হস্তান্তর করা হবে।

এ কাজে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে অবৈধ সুযোগ নিতে না পারে সেজন্য তিনি নিজে সরেজমিন ঘুরে ঘুরে তালিকা প্রস্তুত এমনকি দাফতরিক বেশিরভাগ কাজ নিজ হাতে সম্পন্ন করেছেন বলে এসি ল্যান্ড জানান।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরও বলেন, ইউএনও হিসেবে আমার পদোন্নতি হয়েছে। আর হয়তো সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ এই উপজেলায় আছি। শেষ বেলায় কিছু অসহায় মানুষের মুখে হাসি দেখে যাওয়া আমার জন্য অনেক মানসিক শান্তির বিষয়।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি এ উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ উপজেলায় চলমান নদীভাঙন কবলিত অসহায় পরিবারগুলোর পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। প্রাথমিকভাবে তাদের মাথাগোঁজার জন্য জমির বন্দোবস্ত এবং পরবর্তীতে ওই জমিতে ঘর তুলে দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

বিনা খরচে দলিল পেয়ে কাঁদলেন ভূমিহীন কাজলী বেগম

 গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি 
১২ আগস্ট ২০২০, ১১:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গতবারের ভয়াবহ নদী ভাঙনে সর্বস্বহারা ৩০০ পরিবারের মধ্যে মঙ্গলবার প্রথম দফায় ৫৪টি পরিবারপ্রধানের হাতে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্তের দলিল তুলে দেয়া হয়েছে। উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন তার কার্যালয় থেকে এ দলিল হস্তান্তর করেন।

জমির বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে পরবর্তীতে সরকারিভাবে ঘর তুলে দেয়ারও উদ্যোগ রয়েছে প্রশাসনের। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এসি ল্যান্ড কার্যালয়ের বাইরে কথা হয় জমির দলিল হাতে পাওয়া অসহায় কাজলী বেগমের (৬৫) সঙ্গে। তিনি জমি পাওয়ার আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, গত বছর দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়ালজানি গ্রামের আরও অনেকের মতো আমারও ভিটে-বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তারপর থেকে রাস্তার ধারে একমাত্র মেয়ে ও দুটি নাতি-নাতনি নিয়ে মাথাগুঁজে ছিলাম।

তিনি বলেন, ভাঙনের কিছুদিন পরই এসি ল্যান্ড আমার খোঁজ করে নাম নিয়ে আসেন। তিনি ভরসা দেন আপনাদের বেশিদিন রাস্তার ধারে থাকতে হবে না। আজকে তার কথা অনুযায়ী আমি ১০ শতাংশ জমির একটি দলিল হাতে পেলাম। শুনেছি দলিল খরচের জন্য সরকারিভাবে কিছু খরচ লাগে। কিন্তু এসি ল্যান্ড আমার কাছ থেকে সে টাকাটাও নেননি। আমি তার জন্য এবং দেশের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার জন্য প্রাণভরে দোয়া করছি।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন মজিদ শেখেরপাড়ার সাইদ মোল্লা (৪৫), মজিদ মোল্লা (৭০), রূপবান বেগমসহ (৩৫) আরও অনেকেই জানান, নদী ভাঙনে সব হারানোর পর পরিবার-পরিজন নিয়ে রাস্তার ধারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলাম। আজকে দলিল হাতে পেয়ে মনে শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য সরকার সত্যিই কাজ করছে। আমাদের জমি পেতে কারও সঙ্গে দেন-দরবার করতে হয়নি। এসি ল্যান্ড নিজে ঘুরে ঘুরে ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গতবারের নদী ভাঙনে ভিটে-মাটি হারা হয় অন্তত সহস্রাধিক পরিবার। এদের মধ্যে বেশির ভাগ পরিবার নিজেদের উদ্যোগে জমি কিনে/লিজ নিয়ে অথবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। কিন্তু আমাদের জরিপ অনুযায়ী ৩০০ পরিবার তাদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি। তারা রাস্তার ধারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিল। প্রথম ধাপে এদের মধ্য থেকে আজকে ৫৪ জনের হাতে দলিল তুলে দিলাম। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে দলিল হস্তান্তর করা হবে।

এ কাজে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে অবৈধ সুযোগ নিতে না পারে সেজন্য তিনি নিজে সরেজমিন ঘুরে ঘুরে তালিকা প্রস্তুত এমনকি দাফতরিক বেশিরভাগ কাজ নিজ হাতে সম্পন্ন করেছেন বলে এসি ল্যান্ড জানান।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরও বলেন, ইউএনও হিসেবে আমার পদোন্নতি হয়েছে। আর হয়তো সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ এই উপজেলায় আছি। শেষ বেলায় কিছু অসহায় মানুষের মুখে হাসি দেখে যাওয়া আমার জন্য অনেক মানসিক শান্তির বিষয়।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি এ উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ উপজেলায় চলমান নদীভাঙন কবলিত অসহায় পরিবারগুলোর পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। প্রাথমিকভাবে তাদের মাথাগোঁজার জন্য জমির বন্দোবস্ত এবং পরবর্তীতে ওই জমিতে ঘর তুলে দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন