প্রসূতির রাস্তায় সস্তান প্রসব, অভিযুক্ত পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তারকে প্রত্যাহার
jugantor
প্রসূতির রাস্তায় সস্তান প্রসব, অভিযুক্ত পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তারকে প্রত্যাহার

  গাইবান্ধা প্রতিনিধি  

১৭ আগস্ট ২০২০, ২০:৩২:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ঠাঁই না পেয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসবের ঘটনায় অভিযুক্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার গভীর রাতে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র থেকে বিতাড়িত হয়ে শহরের ডিবি রোডে সন্তান প্রসব করেন জেমি বেগম নামে এক প্রসূতি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অসুস্থ অবস্থায় মা ও শিশুকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ার গৃহবধূ জেমি বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে সিনএনজিযোগে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে আসেন।

সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার উপস্থিত না থাকায় কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তার প্রসূতিকে ভর্তি না করিয়ে তাদের অন্যত্র যেতে বলেন।

নিরুপায় প্রসূতির স্বজরা কাকুতি-মিনতি করতে থাকলে কেন্দ্রে থাকা পরিদর্শিকাসহ স্বাস্থ্যকর্মী ও আয়ারা প্রসূতিসহ তার স্বজনদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে বিতাড়িত হওয়ার পর প্রসূতি জেমি বেগমের প্রসব বেদনা তীব্র আকার ধারণ করলে জেলা শহরের ডিবি রোডের পরিত্যক্ত একটি ঘরে মেয়েসন্তান প্রসব করেন ওই প্রসূতি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অসুস্থ অবস্থায় মা ও শিশুকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

বিষয়টি তদন্তে ১২ আগস্ট বুধবার বিকালে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে রংপুর বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা পরিচালক মাহবুব হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও সহকারী উপ-পরিচালক ডা. ফারুক আজম।

এছাড়া জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলামের পক্ষ থেকে সহকারী উপ-পরিচালক ডা. ফারুক আজমকে প্রধান করে আরও একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিঠি গঠন করা হয়।

কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহবুবা খাতুন ও ফুলছড়ি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেদওয়ান ইসলাম। পৃথক দুটি কমিটি ২ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করে।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সোমবার দুপুরে জানান, ওই সময় দায়িত্বরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তার, আয়া জিথি বেগম ও নৈশপ্রহরী মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তারকে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে।

তবে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র বদলি করায় স্থানীয় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সভা সমাবেশ ও মানববন্ধন।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৬ এপ্রিল সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের প্রসূতি মিষ্টি আকতারকে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেন কেন্দ্রের সিনিয়র স্বাস্থ্যকর্মী তৌহিদা বেগম। পরে এই প্রসূতি কেন্দ্রের কয়েকশ' গজ দূরেই অটোরিকশায় সন্তান প্রসব করেন।

প্রসূতির রাস্তায় সস্তান প্রসব, অভিযুক্ত পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তারকে প্রত্যাহার

 গাইবান্ধা প্রতিনিধি 
১৭ আগস্ট ২০২০, ০৮:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গাইবান্ধা
গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ঠাঁই না পেয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসবের ঘটনায় অভিযুক্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার গভীর রাতে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র থেকে বিতাড়িত হয়ে শহরের ডিবি রোডে সন্তান প্রসব করেন জেমি বেগম নামে এক প্রসূতি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অসুস্থ অবস্থায় মা ও শিশুকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ার গৃহবধূ জেমি বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে  সিনএনজিযোগে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে আসেন।

 

সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার উপস্থিত না থাকায় কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তার প্রসূতিকে ভর্তি না করিয়ে তাদের অন্যত্র যেতে বলেন।

 

নিরুপায় প্রসূতির স্বজরা কাকুতি-মিনতি করতে থাকলে কেন্দ্রে থাকা পরিদর্শিকাসহ স্বাস্থ্যকর্মী ও আয়ারা প্রসূতিসহ তার স্বজনদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে বিতাড়িত হওয়ার পর প্রসূতি জেমি বেগমের প্রসব বেদনা তীব্র আকার ধারণ করলে জেলা শহরের ডিবি রোডের পরিত্যক্ত একটি ঘরে মেয়েসন্তান প্রসব করেন ওই প্রসূতি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অসুস্থ অবস্থায় মা ও শিশুকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

 

বিষয়টি তদন্তে ১২ আগস্ট বুধবার বিকালে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে রংপুর বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা পরিচালক মাহবুব হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়।

 

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও সহকারী উপ-পরিচালক ডা. ফারুক আজম।

 

এছাড়া জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলামের পক্ষ থেকে সহকারী উপ-পরিচালক ডা. ফারুক আজমকে প্রধান করে আরও একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিঠি গঠন করা হয়।

 

কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহবুবা খাতুন ও ফুলছড়ি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেদওয়ান ইসলাম। পৃথক দুটি কমিটি ২ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করে।

 

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সোমবার দুপুরে জানান, ওই সময় দায়িত্বরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তার, আয়া জিথি বেগম ও নৈশপ্রহরী মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তারকে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে।

 

তবে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র বদলি করায় স্থানীয় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সভা সমাবেশ ও মানববন্ধন।

 

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৬ এপ্রিল সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের প্রসূতি মিষ্টি আকতারকে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেন কেন্দ্রের সিনিয়র স্বাস্থ্যকর্মী তৌহিদা বেগম। পরে এই প্রসূতি কেন্দ্রের কয়েকশ' গজ দূরেই অটোরিকশায় সন্তান প্রসব করেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন