শিশু ফাহাদের লাশ লুকিয়ে উদ্ধারেও অংশ নেয় কিশোর ইমন!
jugantor
শিশু ফাহাদের লাশ লুকিয়ে উদ্ধারেও অংশ নেয় কিশোর ইমন!

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো  

১৯ আগস্ট ২০২০, ২২:২০:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় নিখোঁজের ৩ দিন পর ডোবা থেকে খলিলুর রহমান ফাহাদ (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইমন নামে এসএসসি পাস এক প্রতিবেশী কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ইমন ফাহাদের লাশ লুকিয়ে রেখে উদ্ধার কাজেও অংশ নেয়।

পুলিশের কাছে ১৬১ ধারার জবানবন্দি শেষে মঙ্গলবার বিকালে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবদুন নূরের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ইমন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ইমন জানায়, অল্প অল্প সাঁতার কাটতে জানত ফাহাদ। সে তাকে ভালো করে সাঁতার কাটতে শিখাতে চেয়েছিল। এজন্য তারা সাবেক আইন, বিচার ও নৌপরিবহন উপমন্ত্রী প্রয়াত এবিএম জাহিদুল হকের পুকুরে যায়। এ সময় কয়েকজন কৃষি শ্রমিকও ওই পুকুরে গোসল করতে নামায় এপারের পানি ঘোলা হয়ে ওঠে। সে ফাহাদের বুকের নিচে একটি হাত রেখে সাঁতরে তাকে নিয়ে পুকুরের ওপারে যাওয়ায় চেষ্টা করে।

ইমন জানায়, মধ্য পুকুর পার হওয়ার আগেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে হাতের ওপর ফাহাদের স্পন্দনহীন ও প্রাণহীন দেহ ভাসতে দেখে আঁতকে ওঠে সে। তখন সে এ মৃত্যুর দায় এড়াতে ভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেয়। কৃষি শ্রমিকরা গোসল সেরে ওঠে যাওয়ার পর ইমন ফাহাদের প্রাণহীন দেহ পার্শ্ববর্তী একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে নিয়ে লুকিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর খোঁজাখুঁজি ও লাশ উদ্ধারের সময় ইমন পুলিশ এবং ফাহাদের স্বজনদের সঙ্গ দেয়।

ফাহাদ গত ১০ আগস্ট সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশের আইন বিচার ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী প্রয়াত এবিএম জাহিদুল হকের বাড়ির পুকুরে গোসল করতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও বাড়িতে না ফেরায় আশপাশসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ফাহাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ১১ আগস্ট পাকুন্দিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা আবদুল কুদ্দুছ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ২টার দিকে একটি ডোবার কচুরিপানার মধ্য থেকে নারান্দী গ্রামের আবদুল কুদ্দুছের ছেলে এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহাদের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফাহাদের বাবা আবদুল কুদ্দুছ বাদী হয়ে এ মামলা রুজু করেন।

পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনার সময় ওই পুকুরে কয়েকজন কৃষি শ্রমিক গোসল করেছিল বলে জানতে পারে। জেলার মিঠামইন উপজেলার ওই পাঁচজন শ্রমিককে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডের ‘ক্লু’ পায় পুলিশ।

পুলিশ জানতে পারে, তারা গোসল করার সময় এক কিশোরও এক ছোট্ট শিশুকে নিয়ে পুকুরে গোসল করতে নামে। পরে পুলিশ তাদের দেয়া বর্ণনানুযায়ী খোঁজ নিয়ে ফাহাদের প্রতিবেশী জনৈক মোজাম্মেল হকের ছেলে ইমনকে সোমবার গ্রেফতার করে।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো. মফিজুর রহমান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম শ্যামল আটক কিশোর ইমনের ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শিশু ফাহাদের লাশ লুকিয়ে উদ্ধারেও অংশ নেয় কিশোর ইমন!

 কিশোরগঞ্জ ব্যুরো 
১৯ আগস্ট ২০২০, ১০:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় নিখোঁজের ৩ দিন পর ডোবা থেকে খলিলুর রহমান ফাহাদ (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইমন নামে এসএসসি পাস এক প্রতিবেশী কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ইমন ফাহাদের লাশ লুকিয়ে রেখে উদ্ধার কাজেও অংশ নেয়।

পুলিশের কাছে ১৬১ ধারার জবানবন্দি শেষে মঙ্গলবার বিকালে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবদুন নূরের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ইমন।  

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ইমন জানায়, অল্প অল্প সাঁতার কাটতে জানত ফাহাদ। সে তাকে ভালো করে সাঁতার কাটতে শিখাতে চেয়েছিল। এজন্য তারা সাবেক আইন, বিচার ও নৌপরিবহন উপমন্ত্রী প্রয়াত এবিএম জাহিদুল হকের পুকুরে যায়। এ সময় কয়েকজন কৃষি শ্রমিকও ওই পুকুরে গোসল করতে নামায় এপারের পানি ঘোলা হয়ে ওঠে। সে ফাহাদের বুকের নিচে একটি হাত রেখে সাঁতরে তাকে নিয়ে পুকুরের ওপারে যাওয়ায় চেষ্টা করে। 

ইমন জানায়, মধ্য পুকুর পার হওয়ার আগেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে হাতের ওপর ফাহাদের স্পন্দনহীন ও প্রাণহীন দেহ ভাসতে দেখে আঁতকে ওঠে সে। তখন সে এ মৃত্যুর দায় এড়াতে ভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেয়। কৃষি শ্রমিকরা গোসল সেরে ওঠে যাওয়ার পর ইমন ফাহাদের প্রাণহীন দেহ পার্শ্ববর্তী একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে নিয়ে লুকিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর খোঁজাখুঁজি ও লাশ উদ্ধারের সময় ইমন পুলিশ এবং ফাহাদের স্বজনদের সঙ্গ দেয়।

ফাহাদ গত ১০ আগস্ট সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশের আইন বিচার ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী প্রয়াত এবিএম জাহিদুল হকের বাড়ির পুকুরে গোসল করতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও বাড়িতে না ফেরায় আশপাশসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ফাহাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ১১ আগস্ট পাকুন্দিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা আবদুল কুদ্দুছ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ২টার দিকে একটি ডোবার কচুরিপানার মধ্য থেকে নারান্দী গ্রামের আবদুল কুদ্দুছের ছেলে এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহাদের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফাহাদের বাবা আবদুল কুদ্দুছ বাদী হয়ে এ মামলা রুজু করেন। 

পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনার সময় ওই পুকুরে কয়েকজন কৃষি শ্রমিক গোসল করেছিল বলে জানতে পারে। জেলার মিঠামইন উপজেলার ওই পাঁচজন শ্রমিককে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডের ‘ক্লু’ পায় পুলিশ।

পুলিশ জানতে পারে, তারা গোসল করার সময় এক কিশোরও এক ছোট্ট শিশুকে নিয়ে পুকুরে গোসল করতে নামে। পরে পুলিশ তাদের দেয়া বর্ণনানুযায়ী খোঁজ নিয়ে ফাহাদের প্রতিবেশী জনৈক মোজাম্মেল হকের ছেলে ইমনকে সোমবার গ্রেফতার করে।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো. মফিজুর রহমান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম শ্যামল আটক কিশোর ইমনের ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন