তিন ফুট পানির নিচে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র
jugantor
তিন ফুট পানির নিচে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র

  বাগেরহাট প্রতিনিধি  

২৩ আগস্ট ২০২০, ১৮:৩৯:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাব ও ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে সুন্দরবনের অন্যতম উঁচু পর্যটন স্থান চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র। ফলে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলসহ দেশের একমাত্র হরিণ, কুমির ও বাটারগুল বাচকা কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রটিতে থাকা বন্যপ্রাণীর অবস্থা সংকটাপন্ন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে পানি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যা থেকে রক্ষা পায়নি কুমিরের ডিম তা দেয়ার জন্য উঁচু মাটির একাধিক কেল্লা। কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে করমজল প্রজনন কেন্দ্রর ট্যাংকগুলো। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে কুমিরের ডিমপাড়া প্রাকৃতিকভাবে মাটির কেল্লাগুলো ডুবে যাওয়ায় এবার সুন্দরবনে ডিম থেকে বাচ্চা বৃদ্ধির অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, সুন্দরবনের তুলনামূলক উঁচু স্থান হিসেবে পরিচিত করমজল পর্যটন কেন্দ্রও ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। লবণ ও বালুযুক্ত কাদা মাটির পানিতে করমজলের কুমির প্রজনন কেন্দ্রর ট্যাংকগুলো ডুবে গেছে। তবে বেষ্টনী থাকায় এখানকার কুমির ও বাটারগুল বাচকা কচ্ছপগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, তবে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন এলাকায় বিচরণরত কুমিরগুলোর আবাসস্থল ও ডিমপাড়ার অসংখ্য মাটির কেল্লা ডুবে গেছে। ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা বৃদ্ধি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মো. আজাদ কবির বলেন, কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা বের হতে তিন মাসের কিছুটা কম সময় বা ৮৫ থেকে ৯০ দিন লাগে। সে হিসাবে আর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক উপায়ে কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা বের হওয়ার কথা। গত দুই দিনের অত্যধিক পানির কারণে কুমিরের উঁচু মাটির কেল্লা ডুবে থাকায় এবার ডিম থেকে বাচ্চা বের হবে কিনা তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

সুন্দরবনের তুলনামূলক অনেক উঁচু স্থান করমজলও কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বনের অন্যান্য স্থানের চিত্র আরও খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে জানান করমজল প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তার দাবি সুন্দরবনের অভ্যন্তরে পরিকল্পিতভাবে কয়েকশ' মিটার পর পর অন্তত ১০০ পুকুর খনন করা গেলে জলাধার তৈরিসহ খননকৃত মাটি দিয়েই তুলনামূলক আরও উঁচু মাটির কেল্লা তৈরি করা গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ধরনের সমস্যা থেকে বন্যপ্রাণীগুলোকে সুরক্ষিত রাখা যেতে পারে।

বর্তমানে সুন্দরবনের করমজল প্রজনন কেন্দ্রে ৩৬টি হরিণ, ৩০০টি বাটারগুল বাচকা কচ্ছপ ও ১৯৩টি লবণ পানি প্রজাতির কুমির রয়েছে। এছাড়া গত ২৯ মে মা কুমির জুলিয়েটের ৫২টি ডিমের মধ্যে ১৪টি ডিম মাটির কেল্লায় প্রাকৃতিক উপায়ে বাচ্চা ফোটানোর জন্য রাখা ছিল। এছাড়া ৩৮টি ডিম কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফোটানোর জন্য ইনকিউবেটরে রাখা হয়। অপরদিকে জুলিয়েটের ডিম দেয়ার ১৩ দিন পর মা কুমির পিলপিল ১২ জুন ৪৪টি ডিম দেয়। যার মধ্যে ২১টি ডিম মাটিতে প্রাকৃতিক উপায়ে বাচ্চা ফোটানোর জন্য এবং ২৩টি ডিম কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফোটানোর জন্য ইনকিউবেটরে সুরক্ষিত রয়েছে।

তিন ফুট পানির নিচে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র

 বাগেরহাট প্রতিনিধি 
২৩ আগস্ট ২০২০, ০৬:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাব ও ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে সুন্দরবনের অন্যতম উঁচু পর্যটন স্থান চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র। ফলে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলসহ দেশের একমাত্র হরিণ, কুমির ও বাটারগুল বাচকা কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রটিতে থাকা বন্যপ্রাণীর অবস্থা সংকটাপন্ন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে পানি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যা থেকে রক্ষা পায়নি কুমিরের ডিম তা দেয়ার জন্য উঁচু মাটির একাধিক কেল্লা। কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে করমজল প্রজনন কেন্দ্রর ট্যাংকগুলো। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে  কুমিরের ডিমপাড়া প্রাকৃতিকভাবে মাটির কেল্লাগুলো ডুবে যাওয়ায় এবার সুন্দরবনে ডিম থেকে বাচ্চা বৃদ্ধির অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, সুন্দরবনের তুলনামূলক উঁচু স্থান হিসেবে পরিচিত করমজল পর্যটন কেন্দ্রও ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। লবণ ও বালুযুক্ত কাদা মাটির পানিতে করমজলের কুমির প্রজনন কেন্দ্রর ট্যাংকগুলো ডুবে গেছে। তবে বেষ্টনী থাকায় এখানকার কুমির ও বাটারগুল বাচকা কচ্ছপগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, তবে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন এলাকায় বিচরণরত কুমিরগুলোর আবাসস্থল ও ডিমপাড়ার অসংখ্য মাটির কেল্লা ডুবে গেছে। ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা বৃদ্ধি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মো. আজাদ কবির বলেন, কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা বের হতে তিন মাসের কিছুটা কম সময় বা ৮৫ থেকে ৯০ দিন লাগে। সে হিসাবে আর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক উপায়ে কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা বের হওয়ার কথা। গত দুই দিনের অত্যধিক পানির কারণে কুমিরের উঁচু মাটির কেল্লা ডুবে থাকায় এবার ডিম থেকে বাচ্চা বের হবে কিনা তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

সুন্দরবনের তুলনামূলক অনেক উঁচু স্থান করমজলও কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বনের অন্যান্য স্থানের চিত্র আরও খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে জানান করমজল প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তার দাবি সুন্দরবনের অভ্যন্তরে পরিকল্পিতভাবে কয়েকশ' মিটার পর পর অন্তত ১০০ পুকুর খনন করা গেলে জলাধার তৈরিসহ খননকৃত মাটি দিয়েই তুলনামূলক আরও উঁচু মাটির কেল্লা তৈরি করা গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ধরনের সমস্যা থেকে বন্যপ্রাণীগুলোকে সুরক্ষিত রাখা যেতে পারে।

বর্তমানে সুন্দরবনের করমজল প্রজনন কেন্দ্রে ৩৬টি হরিণ, ৩০০টি বাটারগুল বাচকা কচ্ছপ ও ১৯৩টি লবণ পানি প্রজাতির কুমির রয়েছে। এছাড়া গত ২৯ মে মা কুমির জুলিয়েটের ৫২টি ডিমের মধ্যে ১৪টি ডিম মাটির কেল্লায় প্রাকৃতিক উপায়ে বাচ্চা ফোটানোর জন্য রাখা ছিল। এছাড়া ৩৮টি ডিম কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফোটানোর জন্য ইনকিউবেটরে রাখা হয়। অপরদিকে জুলিয়েটের ডিম দেয়ার ১৩ দিন পর মা কুমির পিলপিল ১২ জুন ৪৪টি ডিম দেয়। যার মধ্যে ২১টি ডিম মাটিতে প্রাকৃতিক উপায়ে বাচ্চা ফোটানোর জন্য এবং ২৩টি ডিম কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফোটানোর জন্য ইনকিউবেটরে সুরক্ষিত রয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন