বড়লেখা-জুড়ীর গাছই বিদ্যুতের খুঁটি!
Advertisement
আব্দুর রব, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২০, ১০:৩১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পিডিবির (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ লাইনে ঘটছে প্রাণহানি। অত্যন্ত পুরনো জরাজীর্ণ লাইন সংস্কারে কর্তৃপক্ষ চরম উদাসীন। মেরামত না করেই দেয়া হচ্ছে অস্বাভাবিক দূরত্বে বাঁশের-কাঠের খুঁটিতে ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ।
লাইন রক্ষণাবেক্ষণে পিডিবির দায়িত্বহীনতায় সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে লাইন মেরামতে পিডিবি কী বরাদ্দ দেয় না। আর দিলে এগুলো যায় কোথায়? লাইনের ওপর থাকা গাছপালা কর্তন ও মেরামত না করায় ঝড়-তুফানে গাছপালা পড়ে তার ছিঁড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎহীন হয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় গ্রাহকদের। দ্রুত বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার না করলে বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, পিডিবির কুলাউড়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন বড়লেখা ও জুড়িতে প্রায় ৮ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক। এসব গ্রাহকদের লাইনের বেশির ভাগই ২৫-৩০ বছরের জরাজীর্ণ এবং অপরিকল্পিত। ভূমি থেকে কমপক্ষে ৯ মিটার ওপরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন টানানোর নিয়ম। কিন্তু এর তোয়াক্কা না করে পিডিবির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাঁশের ও কাঠের খুঁটিতে কম উচ্চতায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। কোথাও জীবিত বাঁশ ও গাছকে খুঁটি ব্যবহার করে সংযোগ দেয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
বিদ্যুতায়িত হয়ে গত ১৬ আগস্ট ফুলতলা বাজারে আবদুল ওয়াহিদ নামে এক দিনমজুর ও পাতিলাসাঙ্গনে ইমাম উদ্দিন হোসাইন নামক কিশোরের মৃত্যু ঘটেছে। গত বছরে পিডিবির অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান জুড়ী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সুনীল দেবনাথ, জসিম উদ্দীন, শাহপুরের দুই মাছ শিকারিসহ অন্তত ৬ ব্যক্তি।
সরেজমিন বড়লেখার কাশেমনগর, হাকাইতি, জুড়ীর চম্পকলতা, মনতৈল, ভোগতেরা ও কালিনগর গ্রামে হালকা ঝড়ে ভেঙে যাবে এমন কাঠের-বাঁশের অত্যন্ত দুর্বল অসংখ্য খুঁটিতে ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন থাকতে দেখা গেছে। রাস্তার ওপর থাকা বিদ্যুৎ সঞ্চালনকৃত তারের দূরত্ব ভূমি থেকে ২-৩ মিটারেরও কম। অনেক স্থানে বিদ্যুতের তার ও খুঁটি ঝুলে রয়েছে।
অসাবধান হয়ে চলাফেরা করলেই ঘটবে দুর্ঘটনা। জীবিত গাছ ও তারের মাঝখানে বাঁশের চটি রেখে গাছের সঙ্গে বেঁধে ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন টানানো হয়েছে। এতে বিদ্যুতায়িত হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।
চম্পকলতা গ্রামের সত্তার আলী জানান, চম্পকলতা প্রাইমারি স্কুলের উত্তর পাশ ও জামে মসজিদের মধ্যস্থানে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নিচ দিয়ে মেইন লাইন ফেলা ও নড়বড়ে কাঠের খুঁটি ভেঙে পথচারীরা বিদ্যুতায়িত হওয়ার আশংকা রয়েছে। কালিনগর গ্রামের মখদ্দছ আলীর বাড়ির দক্ষিণ পাশে একটি খুঁটি দীর্ঘদিন থেকে ঝুলে রয়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পিডিবির অভিযোগ কেন্দ্রে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
মনতৈল গ্রামের লাল মিয়া ও কালিনগর গ্রামের আবদুর রৌফ জানান, পিডিবি বিদ্যুৎ লাইন মেরামত না করেই অস্বাভাবিক দূরত্বে ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ দিচ্ছে। লাইনের ওপর থাকা গাছপালা কাটা হয় না। হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় মেইন লাইন।
পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী আনছারুল কবীর শামীম কিছু এলাকায় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি মূলত পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। উল্লেখিত এলাকায় প্রজেক্টের মাধ্যমে নতুন লাইন নির্মাণের কাজ চলছে।
