Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

‘টাকা না দেয়ায় লিকেজ মেরামত করেনি তিতাস’

Advertisement

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪৬ পিএম

‘টাকা না দেয়ায় লিকেজ মেরামত করেনি তিতাস’

বাইতুল সালাত মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর সাংবাদিকদের অভিযোগ করছেন।

Advertisement

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

দগ্ধ আরও ২০ জন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে কাঁতরাচ্ছেন।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় মসজিদে গ্যাসের লিকেজ মেরামত করে দেয়নি বলে তিতাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির অভিযোগ, ৯ মাস আগেই গ্যাসলাইনের লিকেজ মেরামতের জন্য লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তারা। তখন এ কাজের জন্য মোটা অংকের টাকা চেয়েছিল তিতাসের কর্মকর্তারা। এ টাকা না দেয়ায় লিকেজ মেরামত করে দেয়নি তিতাস।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর মেম্বার বলেন, নামাজ পড়তে এলে মুসল্লিরা গ্যাসের গন্ধ পেতেন। এরপর গ্যাসলাইন লিকেজ হওয়ার বিষয়টি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা মেরামত করার জন্য তিতাসকে জানিয়েছিলাম। তখন তারা যে অর্থ দাবি করে তা জোগাড় করতে পারিনি আমরা। টাকা না দেয়ায় তিতাস আর কাজ করে দেয়নি।

মসজিদ কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পাইপ মেরামত করতে কমিটির পক্ষ থেকে আমরা তিতাস কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি। কিন্তু তারা টাকা দাবি করলে এ বিষয়ে আর গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

একই অভিযোগ অনেক মুসল্লির। পিয়াস মিয়া নামে স্থানীয় এক মুসল্লি যুগান্তরকে বলেন, আমরা উনাদের (তিতাস) একাধিক বার বলেছি। তারপরও উনারা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের এমন অভিযোগের জানতে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুকবুল আহম্মদকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে গ্যাসের লাইনের লিকেজের কারণেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেঠে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, মসজিদের ফ্লোরের নিচ দিয়ে একটি গ্যাসের লাইন গেছে। সেই লাইন থেকে গ্যাস লিক হয়ে বদ্ধ মসজিদের ভেতরে জমা হয়। এসি থাকায় পুরো মসজিদ বন্ধ ছিল। লিক হওয়া গ্যাস বের হতে পারেনি। তাছাড়া এসিতেও গ্যাস থাকে। সুইচ অন বা অফ করার সময় কোথাও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হয়েছে। গ্যাস উপরের দিকে থাকায় এসিগুলো বিস্ফোরিত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে গ্যাস লিকেজ ও মুসল্লিদের অভিযোগ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় তিতাসের এমডি আলী মো. আল মামুনকে। 

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় তিতাসের কোনো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুসল্লিদের অভিযোগও আমলে নেয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক মুসল্লি দগ্ধ হন।

দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিস্ফোরণে মসজিদের ছয়টি এসি পুড়ে গেছে। জানালার কাচ উড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
 

Advertisement

নারায়ণগঞ্জ মসজিদ বিস্ফোরণ তিতাস অভিযোগ টাকা

Advertisement

আরও পড়ুন

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদকের অর্থ আদায়, প্রতিবাদ করায় মারধর

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদকের অর্থ আদায়, প্রতিবাদ করায় মারধর

‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’, ইশরাকের বিষয়ে আইনমন্ত্রী

‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’, ইশরাকের বিষয়ে আইনমন্ত্রী

বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

‘কোথাও কেউ নেই’

‘কোথাও কেউ নেই’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম