পাহাড় খুঁড়ে ঘরে সোনা তুলছেন তারা
jugantor
পাহাড় খুঁড়ে ঘরে সোনা তুলছেন তারা

  সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি  

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৩১:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

পাহাড়ে এখন ঘরে উঠছে জুমের পাকা ফসল। ধুম লেগেছে সোনালি পাকা ধান কাটার। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাসের পরিশ্রমের বিনিময়ে ফলানো ফসল ঘরে তুলছেন জুম চাষীরা। যেন পাহাড় খুঁড়ে ঘরে সোনা তুলছেন।

করোনার কারণে এবার মৌসুমে চাষাবাদে ব্যাহত না হলে ফলন আরও বিস্তর হতো। যতটুকু চাষাবাদ সম্ভব হয়েছে তাতে ভালোই ফসল ফলেছে। তাই হাসিখুশি চাষীরা।

সরেজমিন জানা যায়, বর্তমানে পার্বত্য এলাকায় জুমের পাকা ধান কাটছেন জুম চাষীরা। এখন ফসল ঘরে তোলার ধুম। প্রত্যেক বছর পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিস্তর জুমচাষ হয়। জুমচাষ পাহাড়িদের আদি পেশা। জীবিকার অন্যতম উৎস। এ বছর করোনার কারণে পার্বত্য তিনটি জেলায় জুম চাষ কিছুটা ব্যাহত হলেও চাষাবাদ ভালো হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো।

জুম চাষীরা পৌষ ও মাঘ মাসে পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল সাফ করেন। রোদে শুকিয়ে ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে আগুনে পুড়িয়ে প্রস্তুত করেন জুমক্ষেত। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে পোড়ানো জুমের মাটিতে সুচালো দা দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে ধান, তুলা, কাউন, ভুট্টা, ফুটি, চিনার, শিম, যব ইত্যাদি বীজ বপন করেন।

জুমজুড়ে ছিটানো হয় তিল, মরিচ, ধনেপাতাসহ ইত্যাদি বীজ। প্রায় ৮-৯ মাস পরিশ্রম শেষে ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে ঘরে ওঠে পাকা ধান। তার আগে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসেই জুমের ফসল তোলা শুরু হয়। শুরুতে পাওয়া যায় মারফা, মরিচ, চিনার, ভুট্টা ইত্যাদি ফসল। ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক মাসের মধ্যে পাকা ধান কাটার পর শেষে তুলা, তিল, যব ঘরে তোলা হয় কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে।

জুম চাষীরা জানান, জুমের পাকা ফসল ঘরে তোলার ভরা মৌসুম চলছে এখন। উপযুক্ত পরিবেশ, মাটির উর্বরাশক্তি ও অনুকূল আবহাওয়ার ফলে এ বছরও জুমে ধানসহ ফসলের ফলন ভালোই হয়েছে। তবে করোনার কারণে এ বছর চাষাবাদে কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় যুগ যুগ ধরে চাষাবাদ হয়ে আসছে জুম। জুমে ধান ছাড়াও আবাদ হয় মারফা, চিনার, ফুটি, বেগুন, মরিচ, ধুন্দল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, কুমড়াসহ মিশ্রফসল।

পাহাড় খুঁড়ে ঘরে সোনা তুলছেন তারা

 সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পাহাড়ে এখন ঘরে উঠছে জুমের পাকা ফসল। ধুম লেগেছে সোনালি পাকা ধান কাটার। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাসের পরিশ্রমের বিনিময়ে ফলানো ফসল ঘরে তুলছেন জুম চাষীরা। যেন পাহাড় খুঁড়ে ঘরে সোনা তুলছেন।

করোনার কারণে এবার মৌসুমে চাষাবাদে ব্যাহত না হলে ফলন আরও বিস্তর হতো। যতটুকু চাষাবাদ সম্ভব হয়েছে তাতে ভালোই ফসল ফলেছে। তাই হাসিখুশি চাষীরা।

সরেজমিন জানা যায়, বর্তমানে পার্বত্য এলাকায় জুমের পাকা ধান কাটছেন জুম চাষীরা। এখন ফসল ঘরে তোলার ধুম। প্রত্যেক বছর পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিস্তর জুমচাষ হয়। জুমচাষ পাহাড়িদের আদি পেশা। জীবিকার অন্যতম উৎস। এ বছর করোনার কারণে পার্বত্য তিনটি জেলায় জুম চাষ কিছুটা ব্যাহত হলেও চাষাবাদ ভালো হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো।

জুম চাষীরা পৌষ ও মাঘ মাসে পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল সাফ করেন। রোদে শুকিয়ে ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে আগুনে পুড়িয়ে প্রস্তুত করেন জুমক্ষেত। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে পোড়ানো জুমের মাটিতে সুচালো দা দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে ধান, তুলা, কাউন, ভুট্টা, ফুটি, চিনার, শিম, যব ইত্যাদি বীজ বপন করেন।

জুমজুড়ে ছিটানো হয় তিল, মরিচ, ধনেপাতাসহ ইত্যাদি বীজ। প্রায় ৮-৯ মাস পরিশ্রম শেষে ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে ঘরে ওঠে পাকা ধান। তার আগে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসেই জুমের ফসল তোলা শুরু হয়। শুরুতে পাওয়া যায় মারফা, মরিচ, চিনার, ভুট্টা ইত্যাদি ফসল। ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক মাসের মধ্যে পাকা ধান কাটার পর শেষে তুলা, তিল, যব ঘরে তোলা হয় কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে।
 
জুম চাষীরা জানান, জুমের পাকা ফসল ঘরে তোলার ভরা মৌসুম চলছে এখন। উপযুক্ত পরিবেশ, মাটির উর্বরাশক্তি ও অনুকূল আবহাওয়ার ফলে এ বছরও জুমে ধানসহ ফসলের ফলন ভালোই হয়েছে। তবে করোনার কারণে এ বছর চাষাবাদে কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় যুগ যুগ ধরে চাষাবাদ হয়ে আসছে জুম। জুমে ধান ছাড়াও আবাদ হয় মারফা, চিনার, ফুটি, বেগুন, মরিচ, ধুন্দল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, কুমড়াসহ মিশ্রফসল।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন