কাজ না করেও নিজের নাম লাগাতে এমপি মোকাব্বিরের ‘প্রতারণা’
jugantor
কাজ না করেও নিজের নাম লাগাতে এমপি মোকাব্বিরের ‘প্রতারণা’

  ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৫:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের ওসমানীনগরে গোয়ালাবাজার-গামতলা সড়ক পাকাকরণের কাজ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। আর এ সড়ক পাকাকরণের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল তিন বছর আগে। কিন্তু এমপির বরাদ্দ থেকে কাজ না করেও জনগণকে প্রতারিত করে নিজের নামফলক লাগিয়ে সড়ক উদ্বোধন করতে প্রতারণার আশ্রয় নিলেন এমপি মোকাব্বির খান।

শুধু তাই নয়, কাজ সম্পন্নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা উত্তোলনেরও সময় প্রায় দ্বারপ্রান্তে। এমন সময় সিলেট-২ আসনের বর্তমান এমপি গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা মোকাব্বির খান তার হীনস্বার্থ ও নিজে কাজ না করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে রাস্তা উদ্বোধন করবেন সোমবার।

এর প্রতিবাদে এলাকা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওসমানীনগর (সার্কেল) ওসি ওসমানীনগর থানা ও গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে সংশ্লিষ্ট দফতরে এসব লিখিত আবেদন প্রদান করা হয়।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালে ২৬ অক্টোবর তারিখের পাঠানো উপজেলা মঙ্গলচণ্ডী-গোয়ালাবাজার ইউপি রাস্তা উন্নয়নে ৮০ লাখ ৪০ হাজার ৪৫৭ টাকা স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রাক্কলন অনুমোদন করে এবং টেন্ডারের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করা হলে প্রাক্কলিত ব্যয় কম থাকায় কোনো ঠিকাদার দরপত্রে অংশগ্রহণ করেনি। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পুনরায় প্রাক্কলন ব্যয় বাড়িয়ে ৯৪ লাখ টাকা করলে সড়কের কাজটি পায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক চঞ্চল পালের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাওন ট্রেডার্স। প্রকল্পের তৎকালীন এমপি ইয়াহইয়া চৌধুরী ও বর্তমান এমপি মোকাব্বির খানের কোনো ডিও লেটার কিংবা তাদের বরাদ্দকৃত কোনো টাকা লাগেনি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্পূর্ণ অফিসিয়াল বরাদ্দ থেকে এ প্রকল্পের ৯৪ লাখ টাকা প্রদানের মাধ্যমে সড়কটি পাকাকরণ করা হয়। গত প্রায় এক বছর আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাওন ট্রেডার্স সড়কের পাকাকরণের কাজ শেষ করে। গত শনিবার থেকে হঠাৎ করে সিলেট-২ আসনের এমপি মোকাব্বির খানের পক্ষ থেকে সড়কের এক পাশে নামফলক তৈরির কাজ শুরু হয়। সেখানে বলা হয়- এমপি মোকাব্বির খান সোমবার রাস্তার উদ্বোধন করবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল করিমের কাছে রাস্তার উদ্বোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উদ্বোধনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। রাস্তার ঠিকাদার চঞ্চল পাল ও এমপি মোকাব্বির খান রাস্তার উদ্বোধনের ব্যাপারে সব কিছু করছেন।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগপ্রাপ্তির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি।

এ ব্যাপারে এমপি মোকাব্বির খান বলেন, পূর্বে কেউ রাস্তা করে গেলে যদি সময় মতো সেই এমপি রাস্তা উদ্বোধন করতে না পারেন তাহলে বর্তমান এমপি সেটা নিয়ম অনুযায়ী উদ্বোধন করতে পারেন।

রাস্তা না করেও নিজের নামফলক লাগানো এটা কি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল নয়? এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি মোকাব্বির খান বলেন, আপনি শিক্ষিত মানুষ আপনার এমন প্রশ্ন করা ঠিক হয়নি। আপনি ফোন রেখে দেন- আপনার সঙ্গে আর কোনো কথা বলব না।

কাজ না করেও নিজের নাম লাগাতে এমপি মোকাব্বিরের ‘প্রতারণা’

 ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি 
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের ওসমানীনগরে গোয়ালাবাজার-গামতলা সড়ক পাকাকরণের কাজ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। আর এ সড়ক পাকাকরণের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল তিন বছর আগে। কিন্তু এমপির বরাদ্দ থেকে কাজ না করেও জনগণকে প্রতারিত করে নিজের নামফলক লাগিয়ে সড়ক উদ্বোধন করতে প্রতারণার আশ্রয় নিলেন এমপি মোকাব্বির খান।

শুধু তাই নয়, কাজ সম্পন্নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা উত্তোলনেরও সময় প্রায় দ্বারপ্রান্তে। এমন সময় সিলেট-২ আসনের বর্তমান এমপি গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা মোকাব্বির খান তার হীনস্বার্থ ও নিজে কাজ না করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে রাস্তা উদ্বোধন করবেন সোমবার।

এর প্রতিবাদে এলাকা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওসমানীনগর (সার্কেল) ওসি ওসমানীনগর থানা ও গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে সংশ্লিষ্ট দফতরে এসব লিখিত আবেদন প্রদান করা হয়।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালে ২৬ অক্টোবর তারিখের পাঠানো উপজেলা মঙ্গলচণ্ডী-গোয়ালাবাজার ইউপি রাস্তা উন্নয়নে ৮০ লাখ ৪০ হাজার ৪৫৭ টাকা স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রাক্কলন অনুমোদন করে এবং টেন্ডারের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করা হলে প্রাক্কলিত ব্যয় কম থাকায় কোনো ঠিকাদার দরপত্রে অংশগ্রহণ করেনি। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পুনরায় প্রাক্কলন ব্যয় বাড়িয়ে ৯৪ লাখ টাকা করলে সড়কের কাজটি পায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক চঞ্চল পালের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাওন ট্রেডার্স। প্রকল্পের তৎকালীন এমপি ইয়াহইয়া চৌধুরী ও বর্তমান এমপি মোকাব্বির খানের কোনো ডিও লেটার কিংবা তাদের বরাদ্দকৃত কোনো টাকা লাগেনি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্পূর্ণ অফিসিয়াল বরাদ্দ থেকে এ প্রকল্পের ৯৪ লাখ টাকা প্রদানের মাধ্যমে সড়কটি পাকাকরণ করা হয়। গত প্রায় এক বছর আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাওন ট্রেডার্স সড়কের পাকাকরণের কাজ শেষ করে। গত শনিবার থেকে হঠাৎ করে সিলেট-২ আসনের এমপি মোকাব্বির খানের পক্ষ থেকে সড়কের এক পাশে নামফলক তৈরির কাজ শুরু হয়। সেখানে বলা হয়- এমপি মোকাব্বির খান সোমবার রাস্তার উদ্বোধন করবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল করিমের কাছে রাস্তার উদ্বোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উদ্বোধনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। রাস্তার ঠিকাদার চঞ্চল পাল ও এমপি মোকাব্বির খান রাস্তার উদ্বোধনের ব্যাপারে সব কিছু করছেন।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগপ্রাপ্তির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি।

এ ব্যাপারে এমপি মোকাব্বির খান বলেন, পূর্বে কেউ রাস্তা করে গেলে যদি সময় মতো সেই এমপি রাস্তা উদ্বোধন করতে না পারেন তাহলে বর্তমান এমপি সেটা নিয়ম অনুযায়ী উদ্বোধন করতে পারেন।

রাস্তা না করেও নিজের নামফলক লাগানো এটা কি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল নয়? এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি মোকাব্বির খান বলেন, আপনি শিক্ষিত মানুষ আপনার এমন প্রশ্ন করা ঠিক হয়নি। আপনি ফোন রেখে দেন- আপনার সঙ্গে আর কোনো কথা বলব না।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন