চট্টগ্রামে আ’লীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু
jugantor
চট্টগ্রামে আ’লীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

  রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:০০:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ইউনুস মিয়া (৫৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়েছে এক পক্ষ দাবি করলেও অন্যপক্ষ বলছে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরের দিকে উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের মোগলের হাট খামারীপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ইউনুস মিয়া ওই এলাকার মৃত দুলা মিয়ার ছেলে এবং হোছনাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য।

নিহতের পরিবারের দাবি, হোছনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা সেকান্দার হোসেনের নেতৃত্বে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে চেয়ারম্যান বলছেন সংঘর্ষ থামানোর পর সবাই যখন ইউনিয়ন পরিষদে চলে আসেন। সেখানেই পরিষদ মাঠে তিনি হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান এবং স্ট্রোক করেন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে নাকি স্ট্রোক করে মারা গেছেন এই বিষয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিহতের স্বজনরা।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের মোগলের হাট খামারীপাড়া এলাকার নিহত ইউনুস মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার জেবল হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান, আজিজুর রহমান গংদের জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই ঘটনায় শুক্রবার জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে এবং একজন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এই ব্যাপারে নিহতের ছেলে মো. রাসেল বলেন, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধে আমাকে ও আমার বাবাকে বাটাম ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন প্রতিপক্ষরা। একপর্যায়ে হোসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা সেকান্দর লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের অতর্কিত হামলায় খুন হন আমার বাবা ইউনুস মিয়া।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা সেকান্দর হোসেন বলেন, হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি আমাকে ফোনে জানায় বহিরাগত কিছু লোক অতর্কিত তাদের গোয়ালঘর ভাংচুর করছেন এবং জায়গা দখল প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। আমি পরিষদের একজন চৌকিদারসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের চিহ্নিত কিছু দুর্বৃত্ত জায়গা দখল প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং এই নিয়ে দুইপক্ষের মাঝে মারামারি চলছে।

আমি উভয়পক্ষকে শান্ত করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসি। পরে বিষয়টি পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অবহিত করি। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসেন। তাদের নিয়ে আমরা পরিষদে বসে কথা বলছিলাম।

এরমধ্যে হঠাৎ শুনি বাইরে ইউনুস মিয়া মাথা ঘুরে পড়ে গেছেন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে স্ট্রোক করে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আমাকে জড়িয়ে নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তাহেরাতুল আশরাফী বলেন, হাসপাতালে আনার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে তিনি মারা গেছেন। শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। তিনি কিভাবে মারা গেছেন তা ময়নাতদন্ত শেষে বলা যাবে। এই ব্যাপারে নিহতের স্বজনদের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চট্টগ্রামে আ’লীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

 রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ইউনুস মিয়া (৫৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়েছে এক পক্ষ দাবি করলেও অন্যপক্ষ বলছে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরের দিকে উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের মোগলের হাট খামারীপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ইউনুস মিয়া ওই এলাকার মৃত দুলা মিয়ার ছেলে এবং হোছনাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। 

নিহতের পরিবারের দাবি, হোছনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা সেকান্দার হোসেনের নেতৃত্বে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে চেয়ারম্যান বলছেন সংঘর্ষ থামানোর পর সবাই যখন ইউনিয়ন পরিষদে চলে আসেন। সেখানেই পরিষদ মাঠে তিনি হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান এবং স্ট্রোক করেন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। 

এদিকে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে নাকি স্ট্রোক করে মারা গেছেন এই বিষয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিহতের স্বজনরা।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের মোগলের হাট খামারীপাড়া এলাকার নিহত ইউনুস মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার জেবল হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান, আজিজুর রহমান গংদের জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই ঘটনায় শুক্রবার জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে এবং একজন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।  

এই ব্যাপারে নিহতের ছেলে মো. রাসেল বলেন, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধে আমাকে ও আমার বাবাকে বাটাম ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন প্রতিপক্ষরা। একপর্যায়ে হোসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা সেকান্দর লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের অতর্কিত হামলায় খুন হন আমার বাবা ইউনুস মিয়া।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা সেকান্দর হোসেন বলেন, হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি আমাকে ফোনে জানায় বহিরাগত কিছু লোক অতর্কিত তাদের গোয়ালঘর ভাংচুর করছেন এবং জায়গা দখল প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। আমি পরিষদের একজন চৌকিদারসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের চিহ্নিত কিছু দুর্বৃত্ত জায়গা দখল প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং এই নিয়ে দুইপক্ষের মাঝে মারামারি চলছে। 

আমি উভয়পক্ষকে শান্ত করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসি। পরে বিষয়টি পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অবহিত করি। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসেন। তাদের নিয়ে আমরা পরিষদে বসে কথা বলছিলাম। 

এরমধ্যে হঠাৎ শুনি বাইরে ইউনুস মিয়া মাথা ঘুরে পড়ে গেছেন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে স্ট্রোক করে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আমাকে জড়িয়ে নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তাহেরাতুল আশরাফী বলেন, হাসপাতালে আনার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে তিনি মারা গেছেন। শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। তিনি কিভাবে মারা গেছেন তা ময়নাতদন্ত শেষে বলা যাবে। এই ব্যাপারে নিহতের স্বজনদের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন