চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে আলো জ্বালাতে কাজ করছে নেসকো
jugantor
চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে আলো জ্বালাতে কাজ করছে নেসকো

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:৫৬:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে আলো জ্বালাতে কাজ করছে নেসকো

রাজশাহী বিভাগের চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে আলো ছড়াতে এবার সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) উদ্যোগে চরাঞ্চলের ছয় হাজার ২৪০ গ্রাহকের বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার ৪৮০ টাকা।

গত সোমবার অনলাইনে যুক্ত হয়ে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

নেসকোর চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর ও এমডি জাকিউল ইসলামসহ কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত থেকে প্রতিমন্ত্রীকে প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

নেসকোর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষে শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের দুর্গম চরাঞ্চলেও বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও পাবনার চরাঞ্চলে সোলার হোম সিস্টেমে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার কাজ চলছে।

প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে রাজশাহীর চরআষাড়িয়াদহ, চরমাজারদিয়াড়, চরখিদিরপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরআলাতুলি, চরনারায়ণপুর, চরপাঁকাসহ ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে ১০ হাজার ২৪০ গ্রাহক এই সিস্টেমে বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন।

নিজস্ব অর্থায়নে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির (ইডকল) মাধ্যমে নেসকো এই সোলার ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এসব চরের ছয় হাজার ২৪০ গ্রাহক বিদ্যুতের সুবিধা পেয়ে যাবেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নেসকোর এমডি জাকিউল ইসলাম বলেন, মুজিববর্ষে শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে। এর মধ্যে গ্রিডলাইনের মাধ্যমে যেমন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে; তেমনি অফ গ্রিড লাইনের সাহায্যে তথা সোলার সিস্টেমে দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য মুজিববর্ষে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে।

রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার একটা বড় চরাঞ্চল। এসব দুর্গম এলাকায় কেবল বা তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে। এটি সরকারের যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ। মুজিববর্ষে একটি ঘরও বিদ্যুৎবিহীন থাকবে না। ফলে চরাঞ্চলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে।

এদিকে রাজশাহীর চরমাঝারদিয়াড়ের আজাদ আলী ও আবদুল হাবিব বলেন, সোলারের আলোতে ছেলেমেয়েরা এখন লেখাপড়া করতে পারবে। চরাঞ্চলের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় অনেক পিছিয়ে আছে।

এখন থেকে তারাও শিক্ষার আলো পাবে। চরাঞ্চলে সোলারের মাধ্যমে ছোট ছোট চালকল, করাতকল থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্পও গড়ে উঠবে। এতে চরবাসীর জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।

চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে আলো জ্বালাতে কাজ করছে নেসকো

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে আলো জ্বালাতে কাজ করছে নেসকো
ফাইল ছবি

রাজশাহী বিভাগের চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে আলো ছড়াতে এবার সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) উদ্যোগে চরাঞ্চলের ছয় হাজার ২৪০ গ্রাহকের বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার ৪৮০ টাকা।

গত সোমবার অনলাইনে যুক্ত হয়ে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

নেসকোর চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর ও এমডি জাকিউল ইসলামসহ কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত থেকে প্রতিমন্ত্রীকে প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

নেসকোর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষে শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের দুর্গম চরাঞ্চলেও বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
 
এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও পাবনার চরাঞ্চলে সোলার হোম সিস্টেমে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার কাজ চলছে।

প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে রাজশাহীর চরআষাড়িয়াদহ, চরমাজারদিয়াড়, চরখিদিরপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরআলাতুলি, চরনারায়ণপুর, চরপাঁকাসহ ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে ১০ হাজার ২৪০ গ্রাহক এই সিস্টেমে বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন।

নিজস্ব অর্থায়নে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির (ইডকল) মাধ্যমে নেসকো এই সোলার ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এসব চরের ছয় হাজার ২৪০ গ্রাহক বিদ্যুতের সুবিধা পেয়ে যাবেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নেসকোর এমডি জাকিউল ইসলাম বলেন, মুজিববর্ষে শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে। এর মধ্যে গ্রিডলাইনের মাধ্যমে যেমন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে; তেমনি অফ গ্রিড লাইনের সাহায্যে তথা সোলার সিস্টেমে দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য মুজিববর্ষে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে।

রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার একটা বড় চরাঞ্চল। এসব দুর্গম এলাকায় কেবল বা তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে। এটি সরকারের যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ। মুজিববর্ষে একটি ঘরও বিদ্যুৎবিহীন থাকবে না। ফলে চরাঞ্চলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে।  

এদিকে রাজশাহীর চরমাঝারদিয়াড়ের আজাদ আলী ও আবদুল হাবিব বলেন, সোলারের আলোতে ছেলেমেয়েরা এখন লেখাপড়া করতে পারবে। চরাঞ্চলের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় অনেক পিছিয়ে আছে।

এখন থেকে তারাও শিক্ষার আলো পাবে। চরাঞ্চলে সোলারের মাধ্যমে ছোট ছোট চালকল, করাতকল থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্পও গড়ে উঠবে। এতে চরবাসীর জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন