প্রণোদনার নিম্নমানের বীজে কৃষকের সর্বনাশ
jugantor
প্রণোদনার নিম্নমানের বীজে কৃষকের সর্বনাশ

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৩৫:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

নিম্নমানের বীজ

প্রণোদনার মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের বীজে সর্বনাশ হয়েছে রাজশাহী অঞ্চলের চাষীদের। কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বিতরণ করা বিভিন্ন ফসলের বীজে কোথাও ফসল হয়নি। তাছাড়া আবাদ মৌসুম শেষ হবার পর বীজ বিতরণ করায় অনেকক্ষেত্রে তা চাষীর কাজেও আসছে না। এ নিয়ে চাষীরা কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই দায়ী করছেন।

চাষীরা বলছেন, এসব বীজ মেয়াদোত্তীর্ণ ও খুবই নিম্নমানের। সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয় করে এসব নিম্নমানের বীজ কিনে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থের ব্যাপক তছরুপ হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় প্রান্তিক চাষীদের মাঝে পেঁয়াজ, ভুট্টা, টমেটো, সরিষা, গম, খেসারি, সূর্যমুখী ও বাদাম বীজ বিতরণ করা হচ্ছে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বিনামূল্যে। তালিকাভুক্ত চাষীদের প্রত্যেককে ২০ কেজি গম, ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ, আট কেজি খেসারি, ১০ কেজি ভুট্টা, দুই কেজি সরিষাসহ বিভিন্ন পরিমাণে বীজ দেয়া হয়। কিন্তু এসব কোনো বীজেই চারা গজায়নি বলে চাষীরা অভিযোগ করেছেন। আবার কালাই মুগ যখন জমিতে পাকতে যাচ্ছে তখন এসব ফসলের বীজ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের।

রাজশাহীর তানোর ও দুর্গাপুর উপজেলার কৃষকরা অভিযোগে বলেন, রাজশাহী জেলায় পেঁয়াজের যেসব বীজ দেয়া হয়েছে তাতে একটিতেও চারা হয়নি। ফলে কষ্ট করে জমি তৈরির পর পেঁয়াজ চারা না গজানোয় চাষীরা পেঁয়াজ আবাদ করতে পারেননি।

তানোরের কামারগাঁও এলাকার কৃষক জমির উদ্দিন বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে যেসব বীজ চাষীদের দেওয়া হয়েছে তা মেয়াদোত্তীর্ণ ও খুবই নিম্নমানের। এ কারণে এসব বীজে চারা হয়নি। কোনো কোনো কৃষক জমিতে এসব দিয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ফলে এসব বীজ নিতে কৃষকরাও আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বোগলাউড়ি গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, যেসব ভুট্টা বীজ দেয়া হয়েছে সেগুলির একটিতেও চারা গজাইনি। কোনো কোনো চাষী ভুট্টা ভেজে খৈ করে খেয়েছেন। সরিষা বীজ এমন সময়ে বিতরণ করা হয়েছে যখন আবাদের মৌসুম পার হয়ে যায়। আর বিতরণকৃত খেসারির বীজের ডাল করেও খেতে পারেননি অনেক কৃষক। কারণ সেগুলি খুব শুকনো ও পচা ছিল। অন্যদিকে চিনা বাদামের বীজ বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হলেও রাজশাহী অঞ্চলের অনেক এলাকায় বাদাম চাষের উপযোগী জমি পায়নি কৃষকরা। সূর্যমুখী বীজেরও ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

তিনি বলেন, মসুর বা মুগকলাই বপনের সময় দুই মাস আগেই পার হয়েছে তবুও এখন কৃষি বিভাগ এসব ফসলের বীজ দিচ্ছে কৃষকদের। এসব অপচয় ছাড়া আর কিছু নয় বলে কৃষকরা মনে করছেন। বরং বীজ না দিয়ে টাকা দিলে কৃষকদের কিছুটা উপকার হতো।

এদিকে খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, আবাদ মৌসুম শেষ হলেও এখনো রাজশাহী অঞ্চলের নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এলাকাতে পেঁয়াজ বীজসহ অন্যান্য বীজ বিতরণের কাজ চলছে। মৌসুম শেষে এখন এসব বীজ দিয়ে কৃষকরা কি করবেন সেটাও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

নওগাঁর সাপাহার এলাকার কৃষক আনারুল ইসলাম বলেন, পুরো সাপাহারসহ আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার মাটি লাল ও শক্ত। সেখানে পেঁয়াজের কোনো আবাদযোগ্য জমি নেই। সূর্যমুখী বা চীনা বাদাম আবাদের মাটিও নেই। কিন্তু কৃষি বিভাগ এসব এলাকাতেও প্রণোদনার এসব ফসলের বীজ বিতরণ করছেন যা কোনো কাজেই আসছে না কৃষকের।

মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ আবাদ মৌসুম শেষে বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শামসুল হক বলেন, প্রণোদনার বীজে চারা গজায়নি এমন অভিযোগ তিনি পাননি।

আর মৌসুম শেষে বীজ বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকের তালিকা করাসহ সরকারি প্রক্রিয়া শেষে তাদের হাতে বীজ আসে। এ কারণে বিলম্বে বিতরণ করতে হচ্ছে।

প্রণোদনার নিম্নমানের বীজে কৃষকের সর্বনাশ

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নিম্নমানের বীজ
নিম্নমানের বীজ। ফাইল ছবি

প্রণোদনার মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের বীজে সর্বনাশ হয়েছে রাজশাহী অঞ্চলের চাষীদের। কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বিতরণ করা বিভিন্ন ফসলের বীজে কোথাও ফসল হয়নি। তাছাড়া আবাদ মৌসুম শেষ হবার পর বীজ বিতরণ করায় অনেকক্ষেত্রে তা চাষীর কাজেও আসছে না। এ নিয়ে চাষীরা কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই দায়ী করছেন।

চাষীরা বলছেন, এসব বীজ মেয়াদোত্তীর্ণ ও খুবই নিম্নমানের। সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয় করে এসব নিম্নমানের বীজ কিনে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থের ব্যাপক তছরুপ হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় প্রান্তিক চাষীদের মাঝে পেঁয়াজ, ভুট্টা, টমেটো, সরিষা, গম, খেসারি, সূর্যমুখী ও বাদাম বীজ বিতরণ করা হচ্ছে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বিনামূল্যে। তালিকাভুক্ত চাষীদের প্রত্যেককে ২০ কেজি গম, ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ, আট কেজি খেসারি, ১০ কেজি ভুট্টা, দুই কেজি সরিষাসহ বিভিন্ন পরিমাণে বীজ দেয়া হয়। কিন্তু এসব কোনো বীজেই চারা গজায়নি বলে চাষীরা অভিযোগ করেছেন। আবার কালাই মুগ যখন জমিতে পাকতে যাচ্ছে তখন এসব ফসলের বীজ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের।

রাজশাহীর তানোর ও দুর্গাপুর উপজেলার কৃষকরা অভিযোগে বলেন, রাজশাহী জেলায় পেঁয়াজের যেসব বীজ দেয়া হয়েছে তাতে একটিতেও চারা হয়নি। ফলে কষ্ট করে জমি তৈরির পর পেঁয়াজ চারা না গজানোয় চাষীরা পেঁয়াজ আবাদ করতে পারেননি।

তানোরের কামারগাঁও এলাকার কৃষক জমির উদ্দিন বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে যেসব বীজ চাষীদের দেওয়া হয়েছে তা মেয়াদোত্তীর্ণ ও খুবই নিম্নমানের। এ কারণে এসব বীজে চারা হয়নি। কোনো কোনো কৃষক জমিতে এসব দিয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ফলে এসব বীজ নিতে কৃষকরাও আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বোগলাউড়ি গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, যেসব ভুট্টা বীজ দেয়া হয়েছে সেগুলির একটিতেও চারা গজাইনি। কোনো কোনো চাষী ভুট্টা ভেজে খৈ করে খেয়েছেন। সরিষা বীজ এমন সময়ে বিতরণ করা হয়েছে যখন আবাদের মৌসুম পার হয়ে যায়। আর বিতরণকৃত খেসারির বীজের ডাল করেও খেতে পারেননি অনেক কৃষক। কারণ সেগুলি খুব শুকনো ও পচা ছিল। অন্যদিকে চিনা বাদামের বীজ বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হলেও রাজশাহী অঞ্চলের অনেক এলাকায় বাদাম চাষের উপযোগী জমি পায়নি কৃষকরা। সূর্যমুখী বীজেরও ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

তিনি বলেন, মসুর বা মুগকলাই বপনের সময় দুই মাস আগেই পার হয়েছে তবুও এখন কৃষি বিভাগ এসব ফসলের বীজ দিচ্ছে কৃষকদের। এসব অপচয় ছাড়া আর কিছু নয় বলে কৃষকরা মনে করছেন। বরং বীজ না দিয়ে টাকা দিলে কৃষকদের কিছুটা উপকার হতো।

এদিকে খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, আবাদ মৌসুম শেষ হলেও এখনো রাজশাহী অঞ্চলের নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এলাকাতে পেঁয়াজ বীজসহ অন্যান্য বীজ বিতরণের কাজ চলছে। মৌসুম শেষে এখন এসব বীজ দিয়ে কৃষকরা কি করবেন সেটাও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

নওগাঁর সাপাহার এলাকার কৃষক আনারুল ইসলাম বলেন, পুরো সাপাহারসহ আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার মাটি লাল ও শক্ত। সেখানে পেঁয়াজের কোনো আবাদযোগ্য জমি নেই। সূর্যমুখী বা চীনা বাদাম আবাদের মাটিও নেই। কিন্তু কৃষি বিভাগ এসব এলাকাতেও প্রণোদনার এসব ফসলের বীজ বিতরণ করছেন যা কোনো কাজেই আসছে না কৃষকের।

মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ আবাদ মৌসুম শেষে বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শামসুল হক বলেন, প্রণোদনার বীজে চারা গজায়নি এমন অভিযোগ তিনি পাননি।

আর মৌসুম শেষে বীজ বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকের তালিকা করাসহ সরকারি প্রক্রিয়া শেষে তাদের হাতে বীজ আসে। এ কারণে বিলম্বে বিতরণ করতে হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন