অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার গণধর্ষণ, অতঃপর ...
jugantor
অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার গণধর্ষণ, অতঃপর ...

  কোম্পানীগঞ্জ(নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:১৮:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৭) অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার গণধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ওই ছাত্রী দুই মাসের মতো নিখোঁজ রয়েছে।

একইসঙ্গে ওই ধর্ষণকারীরা নির্যাতিতার ঘর থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা লুট ও বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে চাঁদাবাজি করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ফয়সালা ও সাইফুল ইসলাম ইমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে বেগমগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অপহৃত গণধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর মা (৪৬)।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন- হীরাপুর গ্রামের কাজী বাড়ির কাজী সিরাজের ছেলে ফয়সালা (২২), একই গ্রামের বেছার বাড়ির লেলন মিয়ার ছেলে জোবায়ের (২৩), পাটোয়ারী বাড়ির নূর ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম ইমন (২৩) ও ছোট সোনাইমুড়ী পালের বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে রাসেল (২৬)।

মামলার বাদী জানান, নির্যাতনের শিকার হওয়া তার মেয়ে ২০১৮ সালে মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার সময় ফয়সালা, জোবায়ের, ইমন ও রাসেল তাকে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি জানার পর আমি ঘটনাটি ওই ছেলেগুলোর পরিবার, ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ও মেম্বার আবদুল কাদেরকে জানাই।

ওই কিশোরীর মা বলেন, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ কৌশলে আমার ঘরে ডুকে ফয়সালা ও জোবায়ের আমার ঘরে থাকা কোমল পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে রাখে। রাতে সেই পানি খাওয়ার পর আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে রাত ২টার দিকে ফয়সালা ও জোবায়ের ঘরে ডুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার মেয়েকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তার ভিডিও ধারণ করে।

তিনি বলেন, ওই রাতে তারা স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমার ঘরে এনে তাকেও বিবস্ত্র করে আমার মেয়ের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। ঘরে থেকে যাওয়ার সময় তারা আমার আলমারি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন ও দুইটি আংটি নিয়ে যায়।

বাদী বলেন, এর কিছুদিন পর নিজের সম্মান রক্ষার্থে লক্ষ্মীপুরে আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেই। আমার মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসে। গত ২০২০ সালের ৫ মার্চ রাত আড়াইটার দিকে ইমন ও রাসেল ঘরে ঢুকে আমার মুখে রুমাল চেপে ধরে অচেতন করে মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার তিন মাস পর রাসেলকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ঢাকার মিরপুর-২, ৭নং রোডের ৩নং গলির জান্নাত নামের এক নারীর কাছ থেকে আমার মেয়েকে নিয়ে আসি। ওই তিন মাসে অপহৃতাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে রাসেল।

তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের ২০ জুন রাসেল ও ইমন বাড়িতে হামলা চালিয়ে পুন:রায় আমার মেয়েকে ঢাকা জান্নাতের কাছে নিয়ে গেলে পরে লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার করি। এরপর বিভিন্ন সময় ইমন আমার বাড়িতে এসে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার মেয়েকে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে।

বাদী বলেন, সর্বশেষ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার মেয়েকে আবারও অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমার মেয়ের সন্ধান চেয়ে ইমনকে জিজ্ঞেস করলে সে মেয়েকে ফিরত দেওয়ার বিনিময়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমি ইমনের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত আমার মেয়ের কোনো সন্ধান পাইনি। বর্তমানে মেয়েটি নিখোঁজ রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা তাকে প্রতিদিন হুমকি দিচ্ছে তার মেয়েকে মেরে ফেলবে। এভাবে হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমার একটি ছেলে বিদেশ থাকে। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলেননি বলে জানান তিনি।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি কামরুজ্জামান সিকদার জানান, ঘটনায় নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার গণধর্ষণ, অতঃপর ...

 কোম্পানীগঞ্জ(নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:১৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৭) অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার গণধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ওই ছাত্রী দুই মাসের মতো নিখোঁজ রয়েছে।

একইসঙ্গে ওই ধর্ষণকারীরা নির্যাতিতার ঘর থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা লুট ও বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে চাঁদাবাজি করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ফয়সালা ও সাইফুল ইসলাম ইমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে বেগমগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অপহৃত গণধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর মা (৪৬)।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন- হীরাপুর গ্রামের কাজী বাড়ির কাজী সিরাজের ছেলে ফয়সালা (২২), একই গ্রামের বেছার বাড়ির লেলন মিয়ার ছেলে জোবায়ের (২৩), পাটোয়ারী বাড়ির নূর ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম ইমন (২৩) ও ছোট সোনাইমুড়ী পালের বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে রাসেল (২৬)।

মামলার বাদী জানান, নির্যাতনের শিকার হওয়া তার মেয়ে ২০১৮ সালে মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার সময় ফয়সালা, জোবায়ের, ইমন ও রাসেল তাকে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি জানার পর আমি ঘটনাটি ওই ছেলেগুলোর পরিবার, ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ও মেম্বার আবদুল কাদেরকে জানাই।

ওই কিশোরীর মা বলেন, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ কৌশলে আমার ঘরে ডুকে ফয়সালা ও জোবায়ের আমার ঘরে থাকা কোমল পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে রাখে। রাতে সেই পানি খাওয়ার পর আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে রাত ২টার দিকে ফয়সালা ও জোবায়ের ঘরে ডুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার মেয়েকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তার ভিডিও ধারণ করে।

তিনি বলেন, ওই রাতে তারা স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমার ঘরে এনে তাকেও বিবস্ত্র করে আমার মেয়ের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। ঘরে থেকে যাওয়ার সময় তারা আমার আলমারি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন ও দুইটি আংটি নিয়ে যায়।

বাদী বলেন, এর কিছুদিন পর নিজের সম্মান রক্ষার্থে লক্ষ্মীপুরে আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেই। আমার মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসে। গত ২০২০ সালের ৫ মার্চ রাত আড়াইটার দিকে ইমন ও রাসেল ঘরে ঢুকে আমার মুখে রুমাল চেপে ধরে অচেতন করে মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার তিন মাস পর রাসেলকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ঢাকার মিরপুর-২, ৭নং রোডের ৩নং গলির জান্নাত নামের এক নারীর কাছ থেকে আমার মেয়েকে নিয়ে আসি। ওই তিন মাসে অপহৃতাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে রাসেল।

তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের ২০ জুন রাসেল ও ইমন বাড়িতে হামলা চালিয়ে পুন:রায় আমার মেয়েকে ঢাকা জান্নাতের কাছে নিয়ে গেলে পরে লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার করি। এরপর বিভিন্ন সময় ইমন আমার বাড়িতে এসে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার মেয়েকে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে।

বাদী বলেন, সর্বশেষ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার মেয়েকে আবারও অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমার মেয়ের সন্ধান চেয়ে ইমনকে জিজ্ঞেস করলে সে মেয়েকে ফিরত দেওয়ার বিনিময়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমি ইমনের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত আমার মেয়ের কোনো সন্ধান পাইনি। বর্তমানে মেয়েটি নিখোঁজ রয়েছে। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা তাকে প্রতিদিন হুমকি দিচ্ছে তার মেয়েকে মেরে ফেলবে। এভাবে হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমার একটি ছেলে বিদেশ থাকে। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলেননি বলে জানান তিনি।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি কামরুজ্জামান সিকদার জানান, ঘটনায় নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন