এমপি রানাকে ফের গ্রেফতারের আবেদন গোয়েন্দা পুলিশের

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ০৩ মে ২০১৮, ১৯:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

এমপি রানা

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের দুই নেতা হত্যাসহ দুটি মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়।

এমপি রানা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি। তিনি ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণের পর থেকে কারাগারে রয়েছেন।

টাঙ্গাইল সদর আমলী আদালতে যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি অশোক কুমার সিংহ এমপি রানাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালতের বিচারক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুম আবেদন গ্রহণ করে আগামী ৯ মে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

অপরদিকে ঘাটাইল জিবিজি কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদ রুবেলকে হত্যার চেষ্টার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই শামসুল ইসলাম ঘাটাইল আমলি আদালতে এই মামলায় রানাকে গ্রেফতার দেখানোর অপর আবেদনটি করেন। আদালতের বিচারক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়া আগামী ১০ মে আবেদনের শুনানির জন্য তারিখ দিয়েছেন।

আদালতে আবেদনে অশোক কুমার সিংহ জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে।

এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ গত বছর ১১ মার্চ, শাহাদত হোসেন ১৬ মার্চ এবং হিরন মিয়া ২৭ এপ্রিল আদালতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেন এমপি রানার দিকনির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়।

অপরদিকে ঘাটাইলের ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদ রুবেলকে হত্যাচেষ্টার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম আদালতে আবেদনে জানান, ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর রাতে একদল সন্ত্রাসী আবু সাঈদকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এ হামলায় আবু সাঈদ পঙ্গু হয়ে যায়।

এ মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার আবদুল জব্বার বাবু ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে আবদুল জব্বার জানান, এমপি রানা কারাগারে থেকে আবু সাঈদকে কিছু করার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ মতোই সাঈদকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়।

উভয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের আবেদনে জানিয়েছেন মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে জেলহাজতে আটক এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে পরবর্তীতে রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলায় এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

ফারুক হত্যা মামলায় এমপি রানার অপর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছে। এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে টাঙ্গাইল প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×