৪ জন নিহতের একদিন পর আবারো সংঘর্ষ
Advertisement
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২১, ১০:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্বাচনী সংঘাতে চারজন নিহতের একদিন না যেতেই আবারো সংঘর্ষ বাধল নরসিংদীর মেঘনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চর আলোকবালীতে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় উত্তরপাড়ায় এ সংঘর্ষ বাধে দুই ইউপি মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এদিকে চারজনের মৃত্যুর একদিন পেরিয়ে গেলেও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতারও করতে পারেনি পুলিশ।
চরাঞ্চলে বিপুল অস্ত্রের মজুত থাকলেও কোনো অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও মিলেনি। এমনকি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার হয়নি। এদিকে গ্রামে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবারের ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার সংঘর্ষ বাধে। আলোকবালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর সমর্থক ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার প্রার্থী মামুনের লোকজন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ আসাদের সমর্থক ইউপি মেম্বার প্রার্থী জব্বর মিয়ার লোকজনের মধ্যে ওই সংঘর্ষ হয়। এতে দুজন আহত হন।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হারুনুর রশিদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিবার এখনো মামলা করেনি। এলাকার সার্বিব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোকবালী ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর সমর্থক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ আসাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান বর্তমান চেয়ারম্যান দীপু। নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আসাদ।
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আসাদ স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তাদের মধ্যে বিরোধ তীব্র হলে পরে দলীয় নেতাকর্মীদের চাপে আসাদ মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এ নিয়ে আসাদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই জেরে বৃহস্পতিবার সকালে আসাদের সমর্থক রিপন মোল্লার লোকজন সকালে টেঁটা-বল্লম ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নেকজানপুর গ্রামে দীপু চেয়ারম্যানের সমর্থক আবু খায়েরের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে নেকজানপুর গ্রামের আমির হোসেন, আশ্রাফুল, খুশি বেগম ও খাইরুল ইসলাম মারা যান। কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। এদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
