Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

‘ভোট দিয়ে কী অইব, ছেড়ি বয়স্কভাতা পাইলেও আমি পাই না’

Advertisement

Icon

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:২৩ পিএম

‘ভোট দিয়ে কী অইব, ছেড়ি বয়স্কভাতা পাইলেও আমি পাই না’

প্রতিবেশীর কোলে উঠে ভোট দিতে আসলেন শতবর্ষী নারী মাসুমা বেগম। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

সকাল থেকে চতুর্থ ধাপের ৮৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে।

রোববার সকালে ভোট দিতে কেন্দ্রে হাজির হয়েছিলেন নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার ১০৫ বছর বয়সি মাসুমা বেগম।

ভোট দিতে এসে নিজের আক্ষেপের কথা বলেন তিনি— ভোট দিয়ে কী অইব ? ছেড়ি বয়স্কভাতা পাইলেও আমি পাই না।

সাংবাদিকদের কাছে পেয়ে এই বৃদ্ধা বলেন, ‘আমার জামাই মারা গেছে ৩০ বছর আগে। আমার নিঃসন্তান মাইয়া মাইনষের বাড়িতে কাজ কইরা আমারে খাওয়ায়। সময়মতো ওষুধ পত্তর পাই না। কত চেয়ারম্যান-মেম্বর আইল-গেইল কেউ কোনো সাহায্য করল না। আমি ছেড়ির (মেয়ের) ভাঙা ঘরে থাকি। আমার ছেড়া (ছেলে) নাই মাইয়াগো কাছে থাকি। শুনেছি শেখের বেটি গরিব-দুঃখী মানুষরে ঘর দেন। আমার কহালে (কপালে) তাও জুটল না।’

জানা গেছে, মাসুমা বেগম খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট (দুলোপুতা) গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী।  তিন কন্যার জননী মাসুমা। তার স্বামীর ভিটেবাড়ি ছাড়া অন্য কোনো জায়গা-জমি নাই। মেয়ে বিধবাভাতা পেলেও মাসুমা ৩০ বছরেও পাননি বিধবাভাতা। ভাঙা একটি ঘরে স্বামী পরিত্যক্ত মেয়ের সঙ্গে থাকেন। কখনও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (ইজিপিপি) শ্রমিকের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি তিনি। এভাবেই খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন মাসুমা বেগম।

মাসুমার দ্বিতীয় মেয়ে কল্পনা বেগম বলেন, ‘আমার মায়ের শতবছর পার হলেও দরিদ্র মানুষ হিসেবে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। এ বছর একটি বয়স্কভাতার কার্ড হয়েছে। আমি বিধবাভাতা পেলেও আমার মা কখনও বিধবাভাতার সুবিধা ভোগ করতে পারেনি। মা এখন বয়সের ভারে চোখে দেখেন না, কানেও শুনেন না।’

 

Advertisement

মাসুমা বেগম ভোট বৃদ্ধা

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম