‘মাঘের শীতে বাঘ কান্দে’ প্রবাদের প্রমাণ নীলফামারীতে
jugantor
‘মাঘের শীতে বাঘ কান্দে’ প্রবাদের প্রমাণ নীলফামারীতে

  নীলফামারী প্রতিনিধি  

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০০:৩১:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

কনকনে শীত আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নীলফামারীর জনজীবন। সড়কে কমেছে মানুষ, যানবাহন চলছে লাইট জ্বালিয়ে আর হাসপাতালগুলোয় বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।

‘মাঘের শীতে বাঘ কান্দে’প্রবাদটি প্রতীয়মান হয়েছে উত্তরের জেলা নীলফামারীতে। তারপরও থেমে নেই কর্মব্যস্ত জীবন। জীবিকার তাগিদে বের হতেই হচ্ছে মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষদের।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে নীলফামারী জেলায়। গেল কয়েক দিন থেকে তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে অবস্থান করছে। এর ফলে শীতে কাহিল হয়ে পড়ছেন মানুষজন। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন মানুষ।

এদিকে তিস্তাবেষ্টিত এলাকার মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। শীত নিবারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
খালিশাচাপানি ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের শামসুল ইসলাম জানান, খুব ঠাণ্ডা। দিন কাটায় যায়ছে না। হাড্ডিত নাগেছে ঠাণ্ডা। সাথোত বাতাস কাহিল করি ফেলাইছে হামাক। বেলা গড়ি গেইলেও সূর্যের দেখা যায়ছে না। কয়েক দিন থাকি ঠাণ্ডা বেশি। বাড়িত ঘরোত না হাইলে চুলার পাড়োত বসি থাকিবার নাগেছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম জানান, এলাকার মানুষরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নদী বেষ্টিত হওয়ায় ঠাণ্ডা বেশি এলাকায়। এ পর্যন্ত ৫৭০টি কম্বল সরকারিভাবে পাওয়া গেছে, সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। এলাকার মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাচ্ছি সামর্থ্যবানদের প্রতি।

জেলা শহরের গাছবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নুর আলম। রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, প্যাট খায়। ঠাণ্ডা গরম পানি হইলে কি করির আছে। হামাক রিকসা ধরি না বেরাইলে পেটোত ভাত যাইবে না।

তিনি বলেন, কয়েক দিন ঠাণ্ডা খুব বেশি। মানুষজন বাহিরে তেমন নেই। উপার্জনও কমে গেছে। সংসার চালানো কষ্ট হয়ে পড়েছে।

সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ লোকমান হোসেন জানান, এ রকম অবস্থা আরও কয়েক দিন বিরাজমান থাকবে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয় এটাকে। তবে তাপমাত্রা উঠানামা করবে এ সময়টিতে। মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করবে।

এদিকে শীতের কারণে শিশু ও বয়স্ক মানুষরা আক্রান্ত হচ্ছেন শীতজনিত নানান রোগে। এর ফলে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, সর্দি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ আব্দুল আউয়াল জানান, অন্তত দশগুন রোগীর সংখ্যা বেড়েছে শীতের কারণে। এর মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে শিশুদের কুসুম কুসুম গরম পানি, ধুলোবালি থেকে দূরে রাখতে হবে এবং খুব সকাল ও রাতে বাড়ির বাহিরে নেয়া যাবে না।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া ৩০ হাজার ১০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে জেলায়। এছাড়া সংসদ সদস্য, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসকের নামে বরাদ্দ হওয়া ৭৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬৮ টাকার কম্বল সংগ্রহ করে সেগুলো বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে আরও কেনা হয়েছে। শুধু কম্বল নয় শিশুদেরও পোশাক বিতরণ করা হচ্ছে শীতবস্ত্রের অংশ হিসেবে। যখন যেখানে প্রয়োজন প্রশাসন পাশে দাঁড়াবে।

সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির শীতে কিছুটা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্সসহ সবাই প্রস্তুত রয়েছে। পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। কেউ চিকিৎসা বঞ্চিত হবেন না শীতের কারণে।

‘মাঘের শীতে বাঘ কান্দে’ প্রবাদের প্রমাণ নীলফামারীতে

 নীলফামারী প্রতিনিধি 
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:৩১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কনকনে শীত আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নীলফামারীর জনজীবন। সড়কে কমেছে মানুষ, যানবাহন চলছে লাইট জ্বালিয়ে আর হাসপাতালগুলোয় বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।

‘মাঘের শীতে বাঘ কান্দে’প্রবাদটি প্রতীয়মান হয়েছে উত্তরের জেলা নীলফামারীতে। তারপরও থেমে নেই কর্মব্যস্ত জীবন। জীবিকার তাগিদে বের হতেই হচ্ছে মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষদের।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে নীলফামারী জেলায়। গেল কয়েক দিন থেকে তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে অবস্থান করছে। এর ফলে শীতে কাহিল হয়ে পড়ছেন মানুষজন। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন মানুষ।

এদিকে তিস্তাবেষ্টিত এলাকার মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। শীত নিবারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। 
খালিশাচাপানি ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের শামসুল ইসলাম জানান, খুব ঠাণ্ডা। দিন কাটায় যায়ছে না। হাড্ডিত নাগেছে ঠাণ্ডা। সাথোত বাতাস কাহিল করি ফেলাইছে হামাক। বেলা গড়ি গেইলেও সূর্যের দেখা যায়ছে না। কয়েক দিন থাকি ঠাণ্ডা বেশি। বাড়িত ঘরোত না হাইলে চুলার পাড়োত বসি থাকিবার নাগেছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম জানান, এলাকার মানুষরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নদী বেষ্টিত হওয়ায় ঠাণ্ডা বেশি এলাকায়। এ পর্যন্ত ৫৭০টি কম্বল সরকারিভাবে পাওয়া গেছে, সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। এলাকার মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাচ্ছি সামর্থ্যবানদের প্রতি।

জেলা শহরের গাছবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নুর আলম। রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, প্যাট খায়। ঠাণ্ডা গরম পানি হইলে কি করির আছে। হামাক রিকসা ধরি না বেরাইলে পেটোত ভাত যাইবে না।

তিনি বলেন, কয়েক দিন ঠাণ্ডা খুব বেশি। মানুষজন বাহিরে তেমন নেই। উপার্জনও কমে গেছে। সংসার চালানো কষ্ট হয়ে পড়েছে।

সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ লোকমান হোসেন জানান, এ রকম অবস্থা আরও কয়েক দিন বিরাজমান থাকবে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয় এটাকে। তবে তাপমাত্রা উঠানামা করবে এ সময়টিতে। মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করবে।

এদিকে শীতের কারণে শিশু ও বয়স্ক মানুষরা আক্রান্ত হচ্ছেন শীতজনিত নানান রোগে। এর ফলে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, সর্দি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ আব্দুল আউয়াল জানান, অন্তত দশগুন রোগীর সংখ্যা বেড়েছে শীতের কারণে। এর মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে শিশুদের কুসুম কুসুম গরম পানি, ধুলোবালি থেকে দূরে রাখতে হবে এবং খুব সকাল ও রাতে বাড়ির বাহিরে নেয়া যাবে না।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া ৩০ হাজার ১০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে জেলায়। এছাড়া সংসদ সদস্য, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসকের নামে বরাদ্দ হওয়া ৭৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬৮ টাকার কম্বল সংগ্রহ করে সেগুলো বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে আরও কেনা হয়েছে। শুধু কম্বল নয় শিশুদেরও পোশাক বিতরণ করা হচ্ছে শীতবস্ত্রের অংশ হিসেবে। যখন যেখানে প্রয়োজন প্রশাসন পাশে দাঁড়াবে।

সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির শীতে কিছুটা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্সসহ সবাই প্রস্তুত রয়েছে। পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। কেউ চিকিৎসা বঞ্চিত হবেন না শীতের কারণে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন