পরকীয়া দেখে ফেলায় ‘মা’ ডাকার স্বাদ মিটিয়ে দিল মামি
jugantor
পরকীয়া দেখে ফেলায় ‘মা’ ডাকার স্বাদ মিটিয়ে দিল মামি

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি  

১৬ মার্চ ২০২২, ১৮:৫৭:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

‘মা’ বলে ডাকতো যে ছোট্ট শিশুটি তার দুই চোখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে জখম করে একটি পুকুরে ফেলে দিয়েছে তার মামি রানী বেগম। আর এই কাজে রানী বেগমকে সহায়তা করেছে তার পরকীয়া প্রেমিক দেবর আশিকুর রহমান।

বুধবার সাতক্ষীরার আমলি আদালতের বিচারক রাকিবুল ইসলামের এজলাসে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এ কথা স্বীকার করেছে তারা দুজন। বিচারক তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ধারালো অস্ত্রে খুঁচিয়ে দুটি চোখ প্রায় নষ্ট করে ফেলার এই নৃশংস ঘটনা ঘটে সোমবার কোনো এক সময়।

মো. আলিফ হোসেন ফারহান (৬) নামের শিশুটি থাকতো তার নানির বাড়িতে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চর বালিথা গ্রামে। আলিফ হোসেন চর বালিথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

আলিফের মা শারমিন বেগম মারা যাওয়ার পর তার বাবা মঈনুদ্দিন সরদার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই স্ত্রীর নির্যাতন থেকে ছেলেকে রক্ষার জন্য নানার বাড়িতে রেখে এসেছিলেন তাকে।

দেবহাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তুহিনুজ্জামান জানান, শিশু আলিফকে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি পানিশূন্য পুকুরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসী তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় খুলনায়। পরে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলিফকে ভর্তি করা হয় ঢাকার জাতীয় চক্ষু ইন্সটিটিউটে।

তিনি জানান, আলিফের মুখ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তার মামি রানী বেগম ও তার দেবর আশিকুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করেন রানী বেগম ও আশিকুর। পরকীয়া দেখে ফেলায় একটি ধারালো ছুরি দিয়ে তার দুটি চোখ খুঁচিয়ে অন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে তারা জানায়। এছাড়াও তার গালে মুখে ও হাতে ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন ছিল। তবে এ ঘটনায় একে অন্যকে দোষারোপ করেছে।

আলিফের বাবা পেশায় গাড়িচালক মঈনুদ্দিন সরদার বলেন, আমার ছেলেটিকে স্ত্রীর অত্যাচার থেকে রক্ষার জন্য নানির কাছে থাকতে দিয়েছিলাম, সেই নানি বাড়িতেই মামি তার ওপর এই নৃশংসতা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, আমার আলিফ নিজের মাকে হারিয়ে রানী বেগমকে ‘মা’ বলেই ডাকতো। অথচ রানী বেগম তার জবাব দিল নৃশংসভাবে। এভাবেই তার মা ডাকার স্বাদ মিটিয়ে দিল। এ ঘটনা নিয়ে তিনি দেবহাটা থানায় মামলা করেছেন। তিনি এর বিচার দাবি করেছেন।

পরকীয়া দেখে ফেলায় ‘মা’ ডাকার স্বাদ মিটিয়ে দিল মামি

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 
১৬ মার্চ ২০২২, ০৬:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘মা’ বলে ডাকতো যে ছোট্ট শিশুটি তার দুই চোখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে জখম করে একটি পুকুরে ফেলে দিয়েছে তার মামি রানী বেগম। আর এই কাজে রানী বেগমকে সহায়তা করেছে তার পরকীয়া প্রেমিক দেবর আশিকুর রহমান।

বুধবার সাতক্ষীরার আমলি আদালতের বিচারক রাকিবুল ইসলামের এজলাসে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এ কথা স্বীকার করেছে তারা দুজন। বিচারক তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ধারালো অস্ত্রে খুঁচিয়ে দুটি চোখ প্রায় নষ্ট করে ফেলার এই নৃশংস ঘটনা ঘটে সোমবার কোনো এক সময়।

মো. আলিফ হোসেন ফারহান (৬) নামের শিশুটি থাকতো তার নানির বাড়িতে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চর বালিথা গ্রামে। আলিফ হোসেন চর বালিথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

আলিফের মা শারমিন বেগম মারা যাওয়ার পর তার বাবা মঈনুদ্দিন সরদার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই স্ত্রীর নির্যাতন থেকে ছেলেকে রক্ষার জন্য নানার বাড়িতে রেখে এসেছিলেন তাকে।

দেবহাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তুহিনুজ্জামান জানান, শিশু আলিফকে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি পানিশূন্য পুকুরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসী তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় খুলনায়। পরে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলিফকে ভর্তি করা হয় ঢাকার জাতীয় চক্ষু ইন্সটিটিউটে।

তিনি জানান, আলিফের মুখ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তার মামি রানী বেগম ও তার দেবর আশিকুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করেন রানী বেগম ও আশিকুর। পরকীয়া দেখে ফেলায় একটি ধারালো ছুরি দিয়ে তার দুটি চোখ খুঁচিয়ে অন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে তারা জানায়। এছাড়াও তার গালে মুখে ও হাতে ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন ছিল। তবে এ ঘটনায় একে অন্যকে দোষারোপ করেছে।
 
আলিফের বাবা পেশায় গাড়িচালক মঈনুদ্দিন সরদার বলেন, আমার ছেলেটিকে স্ত্রীর অত্যাচার থেকে রক্ষার জন্য নানির কাছে থাকতে দিয়েছিলাম, সেই নানি বাড়িতেই মামি তার ওপর এই নৃশংসতা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, আমার আলিফ নিজের মাকে হারিয়ে রানী বেগমকে ‘মা’ বলেই ডাকতো। অথচ রানী বেগম তার জবাব দিল নৃশংসভাবে। এভাবেই তার মা ডাকার স্বাদ মিটিয়ে দিল। এ ঘটনা নিয়ে তিনি দেবহাটা থানায় মামলা করেছেন। তিনি এর বিচার দাবি করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন