পিকআপে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে ঈদ উদযাপন, অতঃপর...
jugantor
পিকআপে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে ঈদ উদযাপন, অতঃপর...

  মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি  

০৫ মে ২০২২, ২১:১৪:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লার মুরাদনগরে ট্রাক, পিকআপ ও বিভিন্ন গাড়িতে করে বড় বড় সাউন্ডবক্স বাজিয়ে ঈদ উদযাপন করতে দেখা গেছে শিশু কিশোরদের। তাছাড়া এ উপজেলা দিয়ে বহমান গোমতী নদী দিয়ে ট্রলারে করে মাইক ও সাউন্ডবক্স লাগিয়ে শিশু কিশোর বহন করে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে।

এতে সচেতন মহলে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ঈদের দিন সকাল থেকে কিছুক্ষণ পর পর পিকআপ ও ট্রাকে করে শিশু কিশোররা যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে।

এসব ট্রাক পিকআপে জেনারেটরের সাহায্যে বাজানো হচ্ছে ডিজে পার্টির সাউন্ডবক্স। সাউন্ডবক্সে জোরে জোরে গান বাজানোর পাশাপাশি শিশু কিশোররা বাজাচ্ছে ভুঁভুঁজেলা বাঁশি। যার শব্দে অতিষ্ঠ মসজিদে নামাজ পড়া মুসল্লিসহ পথচারী সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। উচ্চশব্দে গান বাজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে বিশেষ ধরনের ভুঁভুঁজেলা বাঁশি যা দিয়ে অতিরিক্ত শব্দ বের হয় তা বাজানো হয়, যার ফলে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। যুবক ও উঠতি বয়সের ছেলেরা দল বেঁধে যে যেভাবে পারছে সেভাবেই বিভিন্ন বিকৃত অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করছে। এ নিয়ে প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিকার চেয়েছেন অনেকেই।

পরে বুধবার দুপুরে উপজেলার বাখরাবাদ ও রহিমপুর এলাকা থেকে শিশু-কিশোরদের নিয়ে গান বাজানো দুটি পিকআপ আটক করে থানায় নিয়ে আসেন মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাশিম। এসব পিকআপ আটক করার ফলে ইতোমধ্যে তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঈদে পরিবার নিয়ে উপজেলার তিতাস ব্রিজে ঘুরতে আসা কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন- ঈদ উপলক্ষে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি তিতাস নদীর পাড়ে। কিন্তু রাস্তায় বের হবার পর থেকেই দেখছি ডিজে গানের সঙ্গে শিশু কিশোররা যেসব বাজে ইঙ্গিত করছে তা সচেতন মহলে কোনোভাবেই কাম্য নয়। মেয়েদের দেখলে যেন এদের কার্যকলাপ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঈদ উদযাপনের নামে এসব অপসংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে শিশু কিশোরদের যার জন্য সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। একটি পিকআপে ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি শিশু কিশোররা উঠছেন এবং এসব পিকআপ রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

মুরাদনগর থানার ওসি আবুল হাসিম বলেন, ঈদের পরদিন থেকেই মোবাইলে অনেকেই জানিয়েছেন পিকআপে অতিরিক্ত মানুষ বহন করে তাতে বড় বড় সাউন্ডবক্স লাগিয়ে শিশু কিশোররা ছুটছেন এ উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায়। এসব কিশোরদের ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন রাস্তায় বের হওয়া অনেক মেয়ে। সাউন্ডবক্সসহ দুটি পিকআপ আটক করেছি তা আমাদের হেফাজতে রয়েছে। ঈদের আমেজ শেষ হওয়ার পর পিকআপ দুটি ছেড়ে দেওয়া হবে।

পিকআপে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে ঈদ উদযাপন, অতঃপর...

 মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
০৫ মে ২০২২, ০৯:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লার মুরাদনগরে ট্রাক, পিকআপ ও বিভিন্ন গাড়িতে করে বড় বড় সাউন্ডবক্স বাজিয়ে ঈদ উদযাপন করতে দেখা গেছে শিশু কিশোরদের। তাছাড়া এ উপজেলা দিয়ে বহমান গোমতী নদী দিয়ে ট্রলারে করে মাইক ও সাউন্ডবক্স লাগিয়ে শিশু কিশোর বহন করে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে।

এতে সচেতন মহলে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ঈদের দিন সকাল থেকে কিছুক্ষণ পর পর পিকআপ ও ট্রাকে করে শিশু কিশোররা যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে।

এসব ট্রাক পিকআপে জেনারেটরের সাহায্যে বাজানো হচ্ছে ডিজে পার্টির সাউন্ডবক্স। সাউন্ডবক্সে জোরে জোরে গান বাজানোর পাশাপাশি শিশু কিশোররা বাজাচ্ছে ভুঁভুঁজেলা বাঁশি। যার শব্দে  অতিষ্ঠ মসজিদে নামাজ পড়া মুসল্লিসহ পথচারী সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। উচ্চশব্দে গান বাজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে বিশেষ ধরনের ভুঁভুঁজেলা বাঁশি যা দিয়ে অতিরিক্ত শব্দ বের হয় তা বাজানো হয়, যার ফলে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে  সমস্যার সৃষ্টি হয়। যুবক ও উঠতি বয়সের ছেলেরা দল বেঁধে যে যেভাবে পারছে সেভাবেই বিভিন্ন বিকৃত অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করছে। এ নিয়ে প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিকার চেয়েছেন অনেকেই।

পরে বুধবার দুপুরে উপজেলার বাখরাবাদ ও রহিমপুর এলাকা থেকে শিশু-কিশোরদের নিয়ে গান বাজানো দুটি পিকআপ আটক করে থানায় নিয়ে আসেন মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাশিম। এসব পিকআপ আটক করার ফলে ইতোমধ্যে তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঈদে পরিবার নিয়ে উপজেলার তিতাস ব্রিজে ঘুরতে আসা কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন- ঈদ উপলক্ষে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি তিতাস নদীর পাড়ে। কিন্তু রাস্তায় বের হবার পর থেকেই দেখছি ডিজে গানের সঙ্গে শিশু কিশোররা যেসব বাজে ইঙ্গিত করছে তা সচেতন মহলে কোনোভাবেই কাম্য নয়। মেয়েদের দেখলে যেন এদের কার্যকলাপ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঈদ উদযাপনের নামে এসব অপসংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে শিশু কিশোরদের যার জন্য সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। একটি পিকআপে ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি শিশু কিশোররা উঠছেন এবং এসব পিকআপ রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

মুরাদনগর থানার ওসি আবুল হাসিম বলেন, ঈদের পরদিন থেকেই মোবাইলে অনেকেই জানিয়েছেন পিকআপে অতিরিক্ত মানুষ বহন করে তাতে বড় বড় সাউন্ডবক্স লাগিয়ে শিশু কিশোররা ছুটছেন এ উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায়। এসব কিশোরদের ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন রাস্তায় বের হওয়া অনেক মেয়ে। সাউন্ডবক্সসহ দুটি পিকআপ আটক করেছি তা আমাদের হেফাজতে রয়েছে। ঈদের আমেজ শেষ হওয়ার পর পিকআপ দুটি ছেড়ে দেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন