গান গাওয়া সেই ১৬ শিক্ষার্থী মারা যাননি (ভিডিও)
jugantor
গান গাওয়া সেই ১৬ শিক্ষার্থী মারা যাননি (ভিডিও)

  হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

০২ আগস্ট ২০২২, ০১:১৩:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রাম থেকে ‘আর অ্যান্ড জে’ কোচিং সেন্টারের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ১৬ জন একটি মাইক্রোবাসে মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখতে গিয়ে বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় মহানগর প্রভাতি ট্রেনের ধাক্কায় ১১ জন নিহত হয়। এ ঘটনার ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই নেট দুনিয়ায় (সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুক) ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ১৬ জনের একটি দলে তরুণ-কিশোররা আনন্দ ভ্রমণে যাচ্ছে। এ সময় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের উচ্চস্বরে গান বাজছিল। এতে তরুণ-কিশোররা সেই গানে গলা মেলাচ্ছিলেন। পরে, ওই ভিডিও দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও অনালাইন পোর্টাল ওই ১৬ জন তরুণ-কিশোরকে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১১ ছাত্র-শিক্ষক বলে খবর প্রচার করে।

এদিকে, প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বিষয়টি ওই ১৬ তরুণ-কিশোরদের আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে তাদের একজন জানতে পারে। ততক্ষণে ভিডিওটি দেশে-বিদেশে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়। এরপর থেকে ওই তরুণ-কিশোরদের নানা দিক থেকে ফোন আসতে শুরু করে। ফলে তাদের এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় বলে জানান ভাইরাল হওয়া ভিডিতে থাকা হাটহাজারী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের (পুরাতন) শিক্ষার্থী মো. সরওয়ার হোসেন।

সোমাবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থী জানান, গত ২৪ জুলাই সকালে উপজেলার ধলই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকা থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ১৬জন শিক্ষার্থী একটি মাইক্রোবাসে করে বাঁশখালীর চা-বাগান ও ইকোপার্কে আনন্দ ভ্রমণে যায়। ফের পথে তাদের সঙ্গে থাকা কাটিরহাট মাদ্রাসার আলিম ১ম বর্ষের ছাত্র মো. সাজ্জাত তার টিকটক আইডিতে ‘ব্যাচেলর ট্যুরে যা হয়’ এমন স্ট্যাটাস দিয়ে ওই ভিডিওটি আপলোড করে।
তিনি বলেন, এরমধ্যে গত শুক্রবার মীরসরাই খৈয়াছড়া ঝর্ণায় গোসল করে ভ্রমণ শেষে মাইক্রোবাসে করে ফেরার পথে বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় মহানগর প্রভাতি ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ‘আর অ্যান্ড জে কোচিং’ সেন্টারের ১১ ছাত্র-শিক্ষকদের প্রাণ হারানোর পর থেকে আমাদের এ ভিডিওটি ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হয়।

পরে, এই ভিডিওটি ব্যবহার করে দেশের অনকে টিভি চ্যানেল ও অনালাইন পোর্টাল নিউজও প্রচার করে। সেখানে বলা হয়, আমরা মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখতে গিয়ে ফেরার পথে ট্রেন দুর্ঘটনায় আমরা নাকি নিহত হয়েছি। এতে করে আমাদের অনেকটা সমস্যা হয়েছে। কারণ আমাদের অনেকের বাবা বিদেশে অবস্থান করছেন। তারা এসব নিউজ দেখে বেশ বিচলিত হয়ে দেশে আমাদের কাছে এবং আমাদের স্বজনদের কাছে ফোন করে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন।

এদিকে, এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বহুমাত্রিক ব্যবহার এবং মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা সম্পাদনা নিয়ে গবেষণা ও পাঠদানকারী সহকারী অধ্যাপক রাজীব নন্দী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কনটেন্ট দেখা মাত্রই সেটিকে বিশ্বাস করা উচিত নয়। ক্রস চেক করা দেখা দরকার পরিবেশিত তথ্যটি (সংবাদ, ছবি, ভিডিও) কতটুকু সত্যি, কতটুকু যৌক্তিক এবং সেটির প্রকৃত উৎস। কারণ, প্রযুক্তিগতভাবে এখন অপতথ্য ও কুতথ্য ছড়াচ্ছে সমাজে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইক, কমেন্টের সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এসব কনটেন্ট বানানো এবং তা দিয়ে স্বার্থ হাসিল করা অনেক সহজ। এতে সরল মনে বিশ্বাসকারীরা সাময়িক অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

তিনি আরও বলেন, আবার যিনি কোনো কনটেন্ট পোস্ট বা শেয়ার করবেন, তিনিও যথাযথ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েই প্রকৃত তথ্য (ডাটা) সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা উচিত। ফেইক ইনফরমেশন ছড়ানো বন্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য দাতা ও গ্রহীতা উভয়পক্ষেরই মিডিয়া সচেতনতা, দেশের প্রচলিত আইন এবং বিবেকবোধ দ্বারা পরিচালিত হওয়া জরুরি বলে মনে করেন চবি শিক্ষক রাজীব নন্দী।

গান গাওয়া সেই ১৬ শিক্ষার্থী মারা যাননি (ভিডিও)

 হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
০২ আগস্ট ২০২২, ০১:১৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রাম থেকে ‘আর অ্যান্ড জে’ কোচিং সেন্টারের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ১৬ জন একটি মাইক্রোবাসে মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখতে গিয়ে বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় মহানগর প্রভাতি ট্রেনের ধাক্কায় ১১ জন নিহত হয়। এ ঘটনার ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই নেট দুনিয়ায় (সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুক) ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। 

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ১৬ জনের একটি দলে তরুণ-কিশোররা আনন্দ ভ্রমণে যাচ্ছে। এ সময় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের উচ্চস্বরে গান বাজছিল। এতে তরুণ-কিশোররা সেই গানে গলা মেলাচ্ছিলেন। পরে, ওই ভিডিও দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও অনালাইন পোর্টাল ওই ১৬ জন তরুণ-কিশোরকে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১১ ছাত্র-শিক্ষক বলে খবর প্রচার করে। 

এদিকে, প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বিষয়টি ওই ১৬ তরুণ-কিশোরদের আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে তাদের একজন জানতে পারে। ততক্ষণে ভিডিওটি দেশে-বিদেশে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়। এরপর থেকে ওই তরুণ-কিশোরদের নানা দিক থেকে ফোন আসতে শুরু করে। ফলে তাদের এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় বলে জানান ভাইরাল হওয়া ভিডিতে থাকা হাটহাজারী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের (পুরাতন) শিক্ষার্থী মো. সরওয়ার হোসেন। 

সোমাবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থী জানান, গত ২৪ জুলাই সকালে উপজেলার ধলই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকা থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ১৬জন শিক্ষার্থী একটি মাইক্রোবাসে করে বাঁশখালীর চা-বাগান ও ইকোপার্কে আনন্দ ভ্রমণে যায়। ফের পথে তাদের সঙ্গে থাকা কাটিরহাট মাদ্রাসার আলিম ১ম বর্ষের ছাত্র মো. সাজ্জাত তার টিকটক আইডিতে ‘ব্যাচেলর ট্যুরে যা হয়’ এমন স্ট্যাটাস দিয়ে ওই ভিডিওটি আপলোড করে। 
তিনি বলেন, এরমধ্যে গত শুক্রবার মীরসরাই খৈয়াছড়া ঝর্ণায় গোসল করে ভ্রমণ শেষে মাইক্রোবাসে করে ফেরার পথে বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় মহানগর প্রভাতি ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ‘আর অ্যান্ড জে কোচিং’ সেন্টারের ১১ ছাত্র-শিক্ষকদের প্রাণ হারানোর পর থেকে আমাদের এ ভিডিওটি ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হয়। 

পরে, এই ভিডিওটি ব্যবহার করে দেশের অনকে টিভি চ্যানেল ও অনালাইন পোর্টাল নিউজও প্রচার করে। সেখানে বলা হয়, আমরা মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখতে গিয়ে ফেরার পথে ট্রেন দুর্ঘটনায় আমরা নাকি নিহত হয়েছি। এতে করে আমাদের অনেকটা সমস্যা হয়েছে। কারণ আমাদের অনেকের বাবা বিদেশে অবস্থান করছেন। তারা এসব নিউজ দেখে বেশ বিচলিত হয়ে দেশে আমাদের কাছে এবং আমাদের স্বজনদের কাছে ফোন করে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন।

এদিকে, এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বহুমাত্রিক ব্যবহার এবং মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা সম্পাদনা নিয়ে গবেষণা ও পাঠদানকারী সহকারী অধ্যাপক রাজীব নন্দী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কনটেন্ট দেখা মাত্রই সেটিকে বিশ্বাস করা উচিত নয়। ক্রস চেক করা দেখা দরকার পরিবেশিত তথ্যটি (সংবাদ, ছবি, ভিডিও) কতটুকু সত্যি, কতটুকু যৌক্তিক এবং সেটির প্রকৃত উৎস। কারণ, প্রযুক্তিগতভাবে এখন অপতথ্য ও কুতথ্য ছড়াচ্ছে সমাজে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইক, কমেন্টের সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এসব কনটেন্ট বানানো এবং তা দিয়ে স্বার্থ হাসিল করা অনেক সহজ। এতে সরল মনে বিশ্বাসকারীরা সাময়িক অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। 

তিনি আরও বলেন, আবার যিনি কোনো কনটেন্ট পোস্ট বা শেয়ার করবেন, তিনিও যথাযথ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েই প্রকৃত তথ্য (ডাটা) সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা উচিত। ফেইক ইনফরমেশন ছড়ানো বন্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য দাতা ও গ্রহীতা উভয়পক্ষেরই মিডিয়া সচেতনতা, দেশের প্রচলিত আইন এবং বিবেকবোধ দ্বারা পরিচালিত হওয়া জরুরি বলে মনে করেন চবি শিক্ষক রাজীব নন্দী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন