Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

সবাই ভুলতে বসেছেন শহীদ মোশতাক এলাহীর নাম

Advertisement

Icon

রাজশাহী ব্যুরো ও রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২, ১০:১৯ পিএম

সবাই ভুলতে বসেছেন শহীদ মোশতাক এলাহীর নাম

Advertisement

সময়টি ছিল ১৯৮০ সালের ৩ নভেম্বর। জেল হত্যার প্রতিবাদে চলছিল হরতাল। এ সময়ে দুষ্কৃতকারীদের আক্রমণে শাহাদাতবরণ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা মীর মোশতাক এলাহী। পরবর্তীতে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরের সম্মুখে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিফলক।

এরপর থেকে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে শহীদ জাতীয় ৪ নেতাকে স্মরণের পাশাপাশি শহীদ মীর মোশতাক এলাহীকে স্মরণ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এই শহীদ মোশতাক এলাহীকে ভুলতে বসেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার শহীদ মীর মোশতাক এলাহীর মৃত্যু দিবস উপলক্ষে কোনো কর্মসূচিই নিতে দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের কর্মীদের। এমনকি তার স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা জানাতেও আসেননি কেউ। সবার স্মৃতিপট থেকে হারিয়ে গেছেন আত্মোৎসর্গকারী শহীদ মীর মোশতাক এলাহী। জীবন দান করেও তিনি থেকে গেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলের অগোচরে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ শ্রদ্ধা জানাতে না আসলেও একজন এসেছিলেন এই বীর শহীদকে শ্রদ্ধা জানাতে। তিনি হলেন রাজশাহী  মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন সংবাদকর্মী ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তারা দেখেন শহীদ  মীর মোশতাক এলাহীর স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান। এর আগে স্মৃতিফলকে এবং ফলকের বেদিতে জমে থাকা ধুলাবালি পানি দিয়ে নিজ হাতে পরিষ্কার করেন তিনি। এরপর প্যান্টের পকেট থেকে রুমাল বের করে স্মৃতি ফলকটি পরম যত্নে মুছে দেন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান।

এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সংবাদকর্মীকে অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, আমি যখন দশম শ্রেণির ছাত্র, তখন এখানে এই দিনে শহীদ মোশতাক এলাহীকে কিছু দুষ্কৃতকারী হত্যা করে। এরপর থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ মীর মোশতাক এলাহীকে স্মরণ করা হয়। আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হতো। কিন্তু আজ দেখলাম ভিন্ন চিত্র।

শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, আমি বিস্মিত। আমার প্রত্যাশা এমন ছিল না যে, আজ আমি শহীদ মোশতাক এলাহীর স্মৃতিফলক এ অবস্থায় দেখব। জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। নেই কোনো যত্ন। চরম অবহেলায় স্মৃতিফলকে জমেছে ধুলাবালির আস্তরণ। অথচ এর পাশেই সিনেট ভবন। সেখানে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে চলছে আলোচনা সভা। এখানে অনেক ধুলাবালি জমে থাকায় সেগুলো আমি নিজ হাতেই পরিষ্কার করেছি। আমার কারোর প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। আমার মনে হয়েছে, মীর মোশতাক এলাহীর আত্মত্যাগ ভুলে যাওয়া ঠিক না। তাই শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। এটি করে আমি মানসিক শান্তি পেয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা যদি এই বীরদের শ্রদ্ধা জানাতে না পারি, তবে জাতি হিসেবে এটি হবে আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। আমার দাবি, শহীদ বীর মীর মোশতাক এলাহীকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, অনেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই হয়ত শহীদ মীর মোশতাক এলাহী সম্পর্কে জানেন না। আমি আশা করি, তারা মোশতাক এলাহী সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবেন। তার আত্মদান সম্পর্কে পরবর্তী প্রজন্মকে জানানোর জন্য উদ্যোগ নেবেন।

Advertisement

রাজশাহী

Advertisement

আরও পড়ুন

গৌরীপুরের ডাকঘরে এখন প্রেমপত্র আসে না, আসে শুধু তালাকপত্র!

এখন প্রেমপত্র আসে না, আসে শুধু তালাকপত্র!

থানা থেকে পালালেন আটক পুলিশ কর্মকর্তা

থানা থেকে পালালেন আটক পুলিশ কর্মকর্তা

যেসব এলাকায় টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না আজ

যেসব এলাকায় টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না আজ

কসবায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৪, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

কসবায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৪, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম