সমাপনী বয়ান ও মোনাজাতে যা বললেন ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী
jugantor
সমাপনী বয়ান ও মোনাজাতে যা বললেন ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী

  মো. জাকির হোসেন ও লুৎফুজ্জামান লিটন, টঙ্গী থেকে  

২২ জানুয়ারি ২০২৩, ২০:১০:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

সমাপনী বয়ান ও মোনাজাতে যা বললেন ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী

বিশ্বের মুসলমানদের নিরাপত্তা, মুক্তি, শান্তি এবং ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণ কামনায় রোনাজারি ও আকুতি-মিনতিপূর্ণ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয়পর্ব। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার ৫৬তম আসর।

দ্বিতীয়পর্বে তাবলিগ জামাতের প্রধান কেন্দ্র দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের প্রধান মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা অংশ নিয়েছেন। এর আগে ১৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় আলমি শূরার (মাওলানা জুবায়েরপন্থি) বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব।

আখেরি মোনাজাতে গভীর ভাবাবেগপূর্ণ পরিবেশে ‘আমীন, আল্লাহুম্মা আমীন’ ধ্বনিতে মধ্যাহ্নের আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে মহামহিম ও দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে অপার করুণা ও অশেষ রহমত কামনা করেছেন দেশ-বিদেশের অগণিত ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

লাখো মানুষের কাঙ্ক্ষিত আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী। তিনি বিশ্ব তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে।

দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে শুরু করে ১২ টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ ২৯ মিনিট স্থায়ী আবেগঘন আখেরি মোনাজাতে অযুতকণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে রাহমানুর রাহীম আল্লাহর মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। মনীব-ভৃত্য, ধনী-গরির, নেতা-কর্মী নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ পরওয়ারদেগার আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

জনসমুদ্র থেকে মধ্যাহ্নের আকাশ কাঁপিয়ে ধ্বনি উঠে- আমীন, আল্লাহুম্মা আমীন’। মোবাইলে, রেডিও এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাধে দেশ-বিদেশের আরো লাখ লাখ মানুষ এক সঙ্গে হাত তুলেছেন পরওয়ার দিগারের শাহী দরবারে।

গুনাহগার, পাপি-তাপি বান্দা প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চেয়ে কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন। দেশের ৬৪ জেলার লাখ লাখ মুসল্লি ছাড়াও বিশ্বের ৬৫টি দেশের ৯ হাজার ১১০ জন তাবলিগ অনুসারী মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন।

সকাল থেকে দিক নির্দেশনামূলক বয়ানের পর লাখো মানুষের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে। জনসমুদ্রে হঠাৎ নেমে আসে নিস্তব্ধতা ও পিনপতন নীরবতা। যে যেখানে ছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে হাত তুলেন আল্লাহর দরবারে।

২৯ মিনিটের মোনাজাতে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী প্রথম ১০ মিনিট মূলত পবিত্র কুরআনে বর্ণিত দোয়ার আয়াতগুলো উচ্চারণ করেন। শেষ ১৯ মিনিট তিনি উর্দু ও হিন্দি ভাষার সংমিশ্রণে দোয়া করেন।

হেদায়েতী ও সমাপনী বয়ান: আখেরি মোনাজাতের পূর্বে নিজামুদ্দিন মারকাযের মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী ইমান, আমল, নামাজ, তাশকিল, তালিম, এলেম, জিকির ও দাওয়াতের গুরুত্ব তুলে ধরে দীর্ঘ বয়ান রাখেন।

তিনি সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের মাঝে ইমানের কমতি দেখা দিয়েছে, আমরা বর্তমানে ইমানের রোগী। তাই আমাদের মসজিদে এনে দাওয়াত দিয়ে ইমান মজবুত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাথা ছাড়া যেমন মানুষ হয় না, তেমনি নামাজ ছাড়া কেউ মুসলমান হতে পারে না। একজন কাফেরের কুফরির পরিচয় হচ্ছে সে আল্লাহর সামনে সিজদা দিতে পারে না, আর একজন মুমিনের পরিচয় হচ্ছে সে নামাজ ছাড়া জীবনযাপন করতে পারে না। নামাজ হলো বেহেশতের চাবি, তাই নামাজ যেন আল্লাহর দরবারে কবুল হয় সেজন্য মেহনত করতে হবে।

তিনি বলেন, নবী করিম (স.) বলেছেন, তোমরা সেইভাবে নামাজ পড়, যেভাবে তোমরা আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ। তিনি আরও বলেন, সাহাবায়ে কেরামরা একে অপরের কাছে ইমানের দাওয়াত দিতেন। মানুষ মসজিদের বাইরের পরিবেশে থেকে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাই তাদেরকে বুঝিয়ে মসজিদের পরিবেশে এনে ইমান ও একিনের কথা বলতে হবে। নবী করিম (স.) এর আমলে যেভাবে মানুষকে ইমানের দাওয়াত দেয়া হতো। আমরা সেভাবে মানুষের ইমান জিন্দা করার জন্য মসজিদের পরিবেশে নিয়ে আসবো। আমরা ইজতেমার পর যে এলাকায় যাবো, সেখানে গিয়ে মসজিদকেন্দ্রিক মেহনতের দ্বারা আমাদের ইমানকে তরুতাজা করার জন্য চেষ্টা করব।

তিনি আরও বলেন, আমরা ৪০ দিনের জন্য তাশকিল করব না, আল্লাহর রাস্তায় ৪ মাসের সময় নিয়ে বের হওয়ার তাশকিল করব। তিনি বলেন, ওলামাদের সান্নিধ্য থেকে আমরা দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছি, বাতেল মেহনত করে আমাদের ওলামা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাই আমরা আলেম-ওলামাদের সান্নিধ্যে গিয়ে এলেম শিক্ষা করার চেষ্টা করব।

দ্বিতীয়পর্বের মোনাজাতে যা বলা হলো: দ্বিতীয় পর্বে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযের মুরব্বি মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন।

মোনাজাতে তিনি বলেন, হে আল্লাহ, আমাদের গুনাহকে মাফ করে দেন। হে আল্লাহ, মুসলিম উম্মাহর প্রতি রহম করেন। হে আল্লাহ, আমাদের ইমানের হাকিকত ও কামাল নসিব করে দেন। হে আল্লাহ, আমাদেরকে ইমানী জিন্দেগী নসীব করে দেন। হে আল্লাহ, ওলামাদের কদর করার তৌফিক দান করুন। হে আল্লাহ, কেয়ামত পর্যন্ত মসজিদ-মাদ্রাসাগুলোকে চালু রাখুন।

হে আল্লাহ, আমাদের কুরআন-হাদিস পড়ার তৌফিক দান করুন। হে আল্লাহ, ইমানের সঙ্গে মউত নসিব করে দেন। হে আল্লাহ, সারা জীবন যেন আপনার হাবিবের সুন্নতের উপর চলতে পারি সেই তৌফিক দান করেন। হে আল্লাহ, নাফরমানি থেকে আমাদের হেফাজত করেন।

হে আল্লাহ, একে অপরকে ভালোবাসতে পারি সেই তৌফিক দান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের মাঝ থেকে গাফিলতি দূর করে দেন। হে আল্লাহ, সাহাবাদের মতো ঈমানী জিন্দেগি দান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের জীবন মুমিন ও কামেল ওলিদের মতো করে দেন। হে আল্লাহ, আমাদের আখলাককে সুন্দর করে দেন।

হে আল্লাহ, অন্তরের সব খারাবি দূর করে দেন। হে আল্লাহ, সকল মুসলমানের ইমান-আমল, জান-মাল, ইজ্জত-আব্রুকে হেফাজত করেন। হে আল্লাহ, দাওয়াতের কাজকে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেন। হে আল্লাহ, ইজতেমাকে সারা দুনিয়ার মানুষের হেদাতের জরিয়া হিসেবে কবুল করুন। হে আল্লাহ, যারা রোগে আক্রান্তদের শেফা দান করেন। হে আল্লাহ, যারা দোয়া চেয়েছে তাদের মনের আশা পূরণ করুন।

হে আল্লাহ, ইজতেমায় বয়ানকারী, শ্রোতা, অংশগ্রহণকারী ও সহযোগিতাকারী সবাইকে কবুল করেন। হে আল্লাহ, ইজতেমাকে সফল করার জন্য যতরকম কাজ করা হয়েছে সবগুলোকে আপনি কবুল করেন। হে আল্লাহ, বাংলাদেশকে ইজতেমার জন্য কবুল করেন।

সমাপনী বয়ান ও মোনাজাতে যা বললেন ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী

 মো. জাকির হোসেন ও লুৎফুজ্জামান লিটন, টঙ্গী থেকে 
২২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সমাপনী বয়ান ও মোনাজাতে যা বললেন ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয়পর্বের আখেরি মোনাজাত। ছবি: যুগান্তর

বিশ্বের মুসলমানদের নিরাপত্তা, মুক্তি, শান্তি এবং ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণ কামনায় রোনাজারি ও আকুতি-মিনতিপূর্ণ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয়পর্ব। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার ৫৬তম আসর। 

দ্বিতীয়পর্বে তাবলিগ জামাতের প্রধান কেন্দ্র দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের প্রধান মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা অংশ নিয়েছেন। এর আগে ১৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় আলমি শূরার (মাওলানা জুবায়েরপন্থি) বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব।

আখেরি মোনাজাতে গভীর ভাবাবেগপূর্ণ পরিবেশে ‘আমীন, আল্লাহুম্মা আমীন’ ধ্বনিতে মধ্যাহ্নের আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে মহামহিম ও দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে অপার করুণা ও অশেষ রহমত কামনা করেছেন দেশ-বিদেশের অগণিত ধর্মপ্রাণ মুসলমান। 

লাখো মানুষের কাঙ্ক্ষিত আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী। তিনি বিশ্ব তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে।  

দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে শুরু করে ১২ টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ ২৯ মিনিট স্থায়ী আবেগঘন আখেরি মোনাজাতে অযুতকণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে রাহমানুর রাহীম আল্লাহর মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। মনীব-ভৃত্য, ধনী-গরির, নেতা-কর্মী নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ পরওয়ারদেগার আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। 

জনসমুদ্র থেকে মধ্যাহ্নের আকাশ কাঁপিয়ে ধ্বনি উঠে- আমীন, আল্লাহুম্মা আমীন’। মোবাইলে, রেডিও এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাধে দেশ-বিদেশের আরো লাখ লাখ মানুষ এক সঙ্গে হাত তুলেছেন পরওয়ার দিগারের শাহী দরবারে। 

গুনাহগার, পাপি-তাপি বান্দা প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চেয়ে কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন। দেশের ৬৪ জেলার লাখ লাখ মুসল্লি ছাড়াও বিশ্বের ৬৫টি দেশের ৯ হাজার ১১০ জন তাবলিগ অনুসারী মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন। 

সকাল থেকে দিক নির্দেশনামূলক বয়ানের পর লাখো মানুষের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে। জনসমুদ্রে হঠাৎ নেমে আসে নিস্তব্ধতা ও পিনপতন নীরবতা। যে যেখানে ছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে হাত তুলেন আল্লাহর দরবারে। 

২৯ মিনিটের মোনাজাতে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী প্রথম ১০ মিনিট মূলত পবিত্র কুরআনে বর্ণিত দোয়ার আয়াতগুলো উচ্চারণ করেন। শেষ ১৯ মিনিট তিনি উর্দু ও হিন্দি ভাষার সংমিশ্রণে দোয়া করেন। 

হেদায়েতী ও সমাপনী বয়ান: আখেরি মোনাজাতের পূর্বে নিজামুদ্দিন মারকাযের মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী ইমান, আমল, নামাজ, তাশকিল, তালিম, এলেম, জিকির ও দাওয়াতের গুরুত্ব তুলে ধরে দীর্ঘ বয়ান রাখেন। 

তিনি সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের মাঝে ইমানের কমতি দেখা দিয়েছে, আমরা বর্তমানে ইমানের রোগী। তাই আমাদের মসজিদে এনে দাওয়াত দিয়ে ইমান মজবুত করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, মাথা ছাড়া যেমন মানুষ হয় না, তেমনি নামাজ ছাড়া কেউ মুসলমান হতে পারে না। একজন কাফেরের কুফরির পরিচয় হচ্ছে সে আল্লাহর সামনে সিজদা দিতে পারে না, আর একজন মুমিনের পরিচয় হচ্ছে সে নামাজ ছাড়া জীবনযাপন করতে পারে না। নামাজ হলো বেহেশতের চাবি, তাই নামাজ যেন আল্লাহর দরবারে কবুল হয় সেজন্য মেহনত করতে হবে। 

তিনি বলেন, নবী করিম (স.) বলেছেন, তোমরা সেইভাবে নামাজ পড়, যেভাবে তোমরা আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ। তিনি আরও বলেন, সাহাবায়ে কেরামরা একে অপরের কাছে ইমানের দাওয়াত দিতেন।  মানুষ মসজিদের বাইরের পরিবেশে থেকে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাই তাদেরকে বুঝিয়ে মসজিদের পরিবেশে এনে ইমান ও একিনের কথা বলতে হবে। নবী করিম (স.) এর আমলে যেভাবে মানুষকে ইমানের দাওয়াত দেয়া হতো। আমরা সেভাবে মানুষের ইমান জিন্দা করার জন্য মসজিদের পরিবেশে নিয়ে আসবো। আমরা ইজতেমার পর যে এলাকায় যাবো, সেখানে গিয়ে মসজিদকেন্দ্রিক মেহনতের দ্বারা আমাদের ইমানকে তরুতাজা করার জন্য চেষ্টা করব।
 
তিনি আরও বলেন, আমরা ৪০ দিনের জন্য তাশকিল করব না, আল্লাহর রাস্তায় ৪ মাসের সময় নিয়ে বের হওয়ার তাশকিল করব। তিনি বলেন, ওলামাদের সান্নিধ্য থেকে আমরা দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছি, বাতেল মেহনত করে আমাদের ওলামা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাই আমরা আলেম-ওলামাদের সান্নিধ্যে গিয়ে এলেম শিক্ষা করার চেষ্টা করব। 

দ্বিতীয়পর্বের মোনাজাতে যা বলা হলো: দ্বিতীয় পর্বে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযের মুরব্বি মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। 

মোনাজাতে তিনি বলেন, হে আল্লাহ, আমাদের গুনাহকে মাফ করে দেন। হে আল্লাহ, মুসলিম উম্মাহর প্রতি রহম করেন।  হে আল্লাহ, আমাদের ইমানের হাকিকত ও কামাল নসিব করে দেন। হে আল্লাহ, আমাদেরকে ইমানী জিন্দেগী নসীব করে দেন। হে আল্লাহ, ওলামাদের কদর করার তৌফিক দান করুন। হে আল্লাহ, কেয়ামত পর্যন্ত মসজিদ-মাদ্রাসাগুলোকে চালু রাখুন। 

হে আল্লাহ, আমাদের কুরআন-হাদিস পড়ার তৌফিক দান করুন। হে আল্লাহ, ইমানের সঙ্গে মউত নসিব করে দেন। হে আল্লাহ, সারা জীবন যেন আপনার হাবিবের সুন্নতের উপর চলতে পারি সেই তৌফিক দান করেন। হে আল্লাহ, নাফরমানি থেকে আমাদের হেফাজত করেন। 

হে আল্লাহ, একে অপরকে ভালোবাসতে পারি সেই তৌফিক দান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের মাঝ থেকে গাফিলতি দূর করে দেন। হে আল্লাহ, সাহাবাদের মতো ঈমানী জিন্দেগি দান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের জীবন মুমিন ও কামেল ওলিদের মতো করে দেন। হে আল্লাহ, আমাদের আখলাককে সুন্দর করে দেন। 

হে আল্লাহ, অন্তরের সব খারাবি দূর করে দেন। হে আল্লাহ, সকল মুসলমানের ইমান-আমল, জান-মাল, ইজ্জত-আব্রুকে হেফাজত করেন। হে আল্লাহ, দাওয়াতের কাজকে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেন। হে আল্লাহ, ইজতেমাকে সারা দুনিয়ার মানুষের হেদাতের জরিয়া হিসেবে কবুল করুন। হে আল্লাহ, যারা রোগে আক্রান্তদের শেফা দান করেন। হে আল্লাহ, যারা দোয়া চেয়েছে তাদের মনের আশা পূরণ করুন। 

হে আল্লাহ, ইজতেমায় বয়ানকারী, শ্রোতা, অংশগ্রহণকারী ও সহযোগিতাকারী সবাইকে কবুল করেন। হে আল্লাহ, ইজতেমাকে সফল করার জন্য যতরকম কাজ করা হয়েছে সবগুলোকে আপনি কবুল করেন। হে আল্লাহ, বাংলাদেশকে ইজতেমার জন্য কবুল করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন