Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

মা আমার মৃত্যু হলে দাবি আদায়ের পর লাশ রাজপথ থেকে এনে দাফন করো

Advertisement

Icon

মো. আনোয়ার হোসেন, টঙ্গী শিল্পাঞ্চল (গাজীপুর)

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৪, ০৯:৩৪ পিএম

মা আমার মৃত্যু হলে দাবি আদায়ের পর লাশ রাজপথ থেকে এনে দাফন করো

Advertisement

‘মা আমার জন্য দোয়া করো। আমি মারা গেলে আমার লাশ রাজপথে রেখে দিও। দাবি আদায় হওয়ার পর দেশ শান্ত হলে আমার লাশ রাজপথ থেকে এনে দাফন করো।’

কোটাবিরোধী আন্দোলনে যাওয়ার আগে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মাকে শেষ কথা হিসেবে এসব কথা বলে গেছেন ঢাকার উত্তরায় নিহত টঙ্গী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শেখ ফাহমিন জাফর।

বৃহস্পতিবার যুগান্তরের এই প্রতিবেদককে নিহত ফাহমিনের মা প্রায় বাকরুদ্ধ কাজী লুলুল মাখমিন এসব কথা বলেন।

ফাহমিনের মা বলেন, ১৮ জুলাই সকাল ১০টার দিকে আমার ছেলে আন্দোলনে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলে যায়, আমি মারা গেলে আমার লাশ রাজপথে রেখে দিও। দাবি আদায় হওয়ার পর দেশ শান্ত হলে আমার লাশ রাজপথ থেকে এনে দাফন করো। আমার মতো অনেকের মৃত্যু হলে সবার লাশ রাজপথে থাকবে। অনেক মাই তোমাকে সহযোগিতা করবে, চিন্তা করো না। এটাই ছিল আমার ছেলের শেষ কথা।

তিনি বলেন, তারপর বেলা পৌনে ৩টার সময় খবর পাই আমার ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। আমি উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার ছেলের লাশ। আমি আমার ছেলের সারা শরীরে অসংখ্য গুলির চিহ্ন দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তারপর জ্ঞান ফিরলে ছেলের লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাইয়ে যাই। সেখানে তারটিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করি। আমার ছেলের লাশের কোনো ময়নাতদন্ত হয়নি। কেউ কোনো খবরও নেয়নি। ছেলে হত্যার বিচারের জন্য কোনো মামলাও করিনি। কারণ এখন মামলা নিবে না। সময় হলে ছেলে হত্যার বিচার চাইব। প্রশাসনের কেউ আমার সঙ্গে আজ পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি। আমি এখন ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি। আমার কখন দিন যায়, রাত হয়, জানি না।

তিনি বলেন, আমার তিন ছেলের মধ্যে ফাহমিন ছিল সবার ছোট। সে খুব মেধাবী ছিল। লেখাপড়ার পাশাপাশি কবিতাও লিখত আমার ছেলে। আজ সবই স্মৃতি হয়ে সব সময় আমার চোখে ভাসে।

টঙ্গী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম শোক প্রকাশ করে যুগান্তরকে বলেন, টঙ্গী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ফাহমিন জাফরের পিতার নাম শেখ আবু জাফর। বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার তারটিয়া গ্রামে। ফাহমিন তার মায়ের সঙ্গে ঢাকার দক্ষিণ খান থানার গাওয়াইর মাদ্রাসা রোডে বসবাস করে টঙ্গী সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষে বিজ্ঞান বিভাগে লেখাপড়া করত। ফাহমিনের বাবা রাজশাহীতে একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করেন। ফাহমিন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। তারপর সে টঙ্গী সরকারি কলেজে ভর্তি হয়।

১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমপ্লিট শাটডাউন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়। তাদের মধ্যে নিহত শেখ ফাহমিন জাফর টঙ্গী সরকারি কলেজের ছাত্র ছিল।

Advertisement

কোটাবিরোধী আন্দোলন

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম