হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে পেটালেন জামায়াত নেতা
Advertisement
কুড়িগ্রাম ও রৌমারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৫, ১০:৪১ পিএম
বামে জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসেন, ডানে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অবসরকালীন ভাতার কাগজে স্বাক্ষর না দেওয়ায় উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে গিয়ে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোষাধাক্ষ্য রাজা মিয়া আহত হন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হিসাবরক্ষণ অফিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা আতুয়ারা খাতুনের স্বামী কাদের মোল্লা উপজেলা জামায়াতের নেতা। মঙ্গলবার দুপুরে নমিনী-আমিরসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তার স্ত্রীর অবসরভাতার কাগজপত্র দেখান। কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। কাগজে ভুল থাকায় স্বাক্ষর করেননি তিনি। স্বাক্ষর না করার কারণে রৌমারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামায়াত আমির আনোয়ার হোসেন উত্তেজিত হয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে মারধর করেন। এ সময় তাকে রক্ষা করার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার রাজা মিয়া এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হায়দার আলী, সাবেক আমির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
আহত রাজা মিয়া বলেন, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার শার্ট ধরে ফেলেন জামায়াত নেতাকর্মীরা। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করেন তারা।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান বলেন, সিনিয়র স্টাফ নার্স আতুয়ারা খাতুন অবসরের ইনক্রিমেন্ট বিলের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তবে তার কিছু কাগজ ভুল থাকায় বিলে স্বাক্ষর করা হয়নি। মঙ্গলবার তারা (জামায়াত) বিলে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য চাপ দিলে আমি অস্বীকৃতি জানাই। এ সময় তারা আমাকে মারধর করেন।
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘুস না পাওয়ায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন থেকে আমাদের এক কর্মীর স্ত্রীর বিলে স্বাক্ষর করছিলেন না। তাই আমরা কয়েকজন নেতাকর্মী উনার কাছে যাই। অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও তা মীমাংসা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রৌমারী উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলী বলেন, ওই নার্সের স্বামী আমাদের দলের একজন কর্মী। তার স্ত্রীকে বিল প্রদান না করে ওই কর্মকর্তা হয়রানি করছিলেন। এজন্য আমাদের দলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে যান। এতে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে আমি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার বলেন, আমি ছুটিতে আছি। তাই বিষয়টি অবগত নই। তবে বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখছি।
