কেএনএফের দুই সদস্যের আত্মসমর্পণ
বান্দরবানে পাহাড়ে শান্তি ফেরায় গ্রামে ফিরছে বম জনগোষ্ঠী
বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৫, ১২:৪৭ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বান্দরবানে রুমা-রোয়াংছড়ি উপজেলায় সশস্ত্র সংগঠন কুকি চীন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) অস্থিরতা কাটিয়ে পাহাড়ে দুর্গম এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কেএনএফের অত্যাচারে ভারতের মিজোরাম সহ অন্যত্রে আশ্রয় নেওয়া বম জনগোষ্ঠীর অনেকেই নিজেদের গ্রামের বাসাবাড়িতে ফিরে এসেছে। এদিকে কেএনএফের দুই সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন।
যৌথ বাহিনী জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে কেএনএফ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় বম জনগোষ্ঠীর ৮৯টি পরিবারের তিন শতাধিকের মত লোকজন তাদের গ্রামে ফিরে এসেছে। সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া রোয়াললিং বম ও লালপেক লিয়ান বম দুজন কেএনএফ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারীদের নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী চুংচুং পাড়ায় বম স্যোশাল কাউন্সিল ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার, বান্দরবানের রিজিয়ন কমান্ডার, বম স্যোশাল কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বম জনগোষ্ঠীর লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
বম স্যোশাল কাউন্সিলের সভাপতি লালজার লম বম বলেন, পাহাড়ে অস্থিরতায় দুর্গম এলাকার অনেকগুলো পাড়া গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়ে ছিল। সন্ত্রাসী তৎপরতায় এবং যৌথ বাহিনীর সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে আতঙ্কিত হয়ে লোকজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তারা পুনরায় গ্রামে ফিরে আসছে। ক্ষতিগ্রস্ত বম জনগোষ্ঠীদের সেনাবাহিনী ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে।
রেমাক্রি প্রাংশা ইউনিয়নের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিরা বম বলেন, আতঙ্কিত হয়ে যারা এখনো ঘরবাড়ি ছেড়ে বাহিরে রয়েছে, তাদেরকে নিজ গ্রামে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীও সহায়তা করছে।
সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ আতিকুর করিম বলেন, সন্ত্রাস নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে এবং আত্মসমর্পণকারীদের সহায়তা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফেসবুকে পেজ খুলে ২০২২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার নয়টি উপজেলা নিয়ে একটি আলাদা রাজ্য গঠনের ঘোষণাও দেয় তারা। কয়েকটি সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজি এবং হত্যার অভিযোগ উঠতে থাকে শুরু থেকেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের পর আলোচনার টেবিলেও বসে তারা। কিন্তু এর মধ্যেই বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলায় দু’টি ব্যাংকের তিনটি শাখায় সশস্ত্র হামলা করে টাকা ও অস্ত্র লুটের পর আলোচনায় আসে এই সশস্ত সংগঠনটি। গত দুই বছরে এই সংগঠনটির সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ছয় সেনা সদস্যসহ অন্ততপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়। গ্রেফতার করা হয় কেএনএফের দেড়শতাধিক সদস্যকে।
