চলতি মাসেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জাতীয় সনদ প্রণীত হবে: ড. বদিউল আলম
Advertisement
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৫, ০৮:৪৪ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও সুজন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, চলতি মাসের মধ্যেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জাতীয় সনদ প্রণীত হবে এবং স্বাক্ষরিত হবে। যার মাধ্যমে স্বৈরাচার ব্যবস্থার অবসানের পাশাপাশি স্বৈরাচারী ব্যবস্থা যাতে আর ফিরে না আসতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর মধ্য দিয়েই একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সৃষ্টি হবে।
শনিবার (১২ জুলাই) দিনাজপুরে জাতীয় সনদ ও নাগরিক প্রত্যাশা শীর্ষক দিনব্যাপী এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিগত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা বিতাড়িত হয়েছেন, কিন্তু স্বৈরাচারী ব্যবস্থা এখনো অব্যাহত আছে। এই ব্যবস্থা হতে যদি আমাদের মুক্ত হতে হয়, তাহলে আমাদের কতকগুলো পদ্ধতি, প্রক্রিয়া আর প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তন আনতে হবে। কতগুলো সুদূর প্রসারি মৌলিক সংস্কার করতে হবে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। আমরা মনে করি, যে পরিবর্তনগুলো এবং যে সংস্কারগুলো হওয়া দরকার তা হলো- আমাদের নির্বাচনি ব্যবস্থায়, সংবিধানে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, শাসন ব্যবস্থায়।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য এবং এই স্বৈরাচারী ব্যবস্থা যাতে আবার জেঁকে না বসে, সেজন্য বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে- জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কিছু মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে এই কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা ঐক্যমত্য সৃষ্টির চেষ্ঠা করছি যাতে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা আবার ফিরে না আসে। আমরা এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছি। আমরা আশা করছি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে কতকগুলো মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য সৃষ্টি হবে এবং যার ভিত্তিতে একটি জাতীয় সনদ প্রণীত হবে এবং স্বাক্ষরিত হবে। যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই দেশ থেকে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা চিরতরের জন্য বিতাড়িত হবে এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, এই নাগরিক সংলাপের উদ্দেশ্য হলো-দেশে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা যাতে আর ফিরে না আসে, সেজন্য কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তনগুলো আনা আবশ্যক, সেই ধরনের একগুচ্ছ প্রস্তাব আমরা এখানে উপস্থাপন করেছি। আমরা এটাকে বলছি খসড়া জাতীয় সনদ। আমরা আশা করছি এই খসড়া জাতীয় সনদের ব্যাপারে মানুষ তাদের মতামত ব্যক্ত করবে এবং এ ব্যাপারে জনমত সৃষ্টি হবে। এটা সরকারকে এই বার্তা দেবে যে, জনগনের এই মতামতগুলো ও সুপারিশগুলো যাতে বাস্তবায়িত হয়। যার মাধ্যমে স্বৈরাচারের পুনঃপ্রবর্তন যাতে চিরতরে অবসান ঘটে।
দিনাজপুর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে এই নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। সুজন দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি সভাপতি বেলাল উদ্দীন সিকদার-এর সভাপতিত্বে সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলিপ রায়, রংপুর বিভাগী সমন্বয়কারী রাজেশ দে রাজু প্রমুখ।
