পানিবন্দী পদ্মার চরের মানুষ, ঘরহারা শতাধিক পরিবার
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পানিবন্দী হয়ে পড়েছে পদ্মার চরের মানুষ। চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে যাতায়াতের জন্য টিনের তৈরি ডিঙি নৌকাই এখন তাদের ভরসা। পানিতে ডুবে গেছে জমির ফসল। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পদ্মার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে লক্ষ্মীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ছাগল ও গরু নিয়ে বিপদে পড়েছেন চরের মানুষ। এসব চরের শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়েছে। নিরুপায় হয়ে তারা অন্যত্র সরে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার ভাঙনে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরে সাড়ে ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করে। এসব চরে সাড়ে তিন হাজার পরিবার রয়েছে।
দিয়াড়কাদিরপুর একটি চর। এই চরে ২৫টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাদের বের হওয়ার কোনো পথ নেই। তাদের মতো আরও ১৪টি চরের একই অবস্থা। আশপাশে নেই কোনো বাজার। ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে যেতে হয়। এভাবে চলছে তাদের জীবন।
তাদের আয়ের উৎস কৃষিকাজ। জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। কেউ কেউ মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
দিয়াড়কাদিপুর চরের মানুষ অন্যের জমি বাৎসরিক ভাড়া নিয়ে বসবাস করে ২০ কাঠা জমি এক বছরের জন্য ২০-২৫ হাজার টাকা।
এ চরের সাবিরুল ইসলাম বলেন, আমি, স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে অন্যের কাছে থেকে জমি ভাড়া নিয়ে দুটি ঘর তৈরি করে বসবাস করছি। পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ছাগল ও গরু নিয়ে বিপদে আছি।
তার স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, এখন কৃষি কাজ নেই। কোনো কোনো সময়ে জাল দিয়ে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে যে টাকা আয় হয়, এ দিয়ে কোনোরকম সংসার চলছে।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর জালাল উদ্দিন বলেন, পদ্মার চরের মধ্যে দিয়ারকাদিরপুর, টিকটিকিপাড়া চরসহ চকরাজাপুর ও কালিদাসখালির কিছু অংশ নিয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে তিন শতাধিক পরিবার রয়েছে। এক হাজার ৩৫ জন ভোটার রয়েছেন। চরের মধ্যে এই ওয়ার্ড নিচু ও অধিকাংশ ফসলি জমি।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিযুল আযম বলেন, পদ্মার চরে ৩ হাজার ৬০০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। চরের বেশিরভাগ বাড়ির পাশে পানি এসেছে। ভাঙনের কারনে চরের শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়েছে। অনেকেই অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। তারা গরু-ছাগল নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
