রাজশাহীর সেই নার্সের শারীরিক অবস্থার উন্নতি
jugantor
রাজশাহীর সেই নার্সের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৬ মার্চ ২০২০, ১৮:৪৩:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে থাকা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেই নার্সের শারীরিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজেই ফোন করে তার শারীরিক অবস্থার কথা যুগান্তরকে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যার পরপরই আইইডিসিআর থেকে করোনা রেসকিউ টিমের সদস্যরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষার জন্য রক্ত ও মুখের লালার নমুনা নিয়ে গেছেন। 

বৃহস্পতিবার দিনের মধ্যেই করোনা পরীক্ষার প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট হাসপাতালের পরিচালকের কাছে পাঠানো হবে। এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাস সন্দেহে ঢাকায় স্থানান্তর হওয়া নার্স আরও বলেন, গত বুধবার রাত থেকে তার জ্বরের প্রকোপ অনেকটাই কমে এসেছে। সর্দি ও কাশি কমেছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কিছুসময় পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়।  ওষুধ দেয়ার সেটা কমেছে। এখন তিনি শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার বিষয়ে খুবই আন্তরিক বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওই নার্স জানান, যুগান্তরসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন হওয়ার পরপরই আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার বিষয়ে দ্রুততার সঙ্গে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও  নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ তার চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন ও নিচ্ছেন। এ জন্য তিনি সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার মানবিক এইসব উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি তার সহকর্মীসহ সবার কাছে সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

এদিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, ভর্তির সময় রাজশাহী মেডিকেলের সেই নার্সের শরীরে করোনার সব উপসর্গই দৃশ্যমান ছিল। এ কারণে হাসপাতালে ভর্তির পরপরই করোনা টেস্টের আগেই তার করোনার চিকিৎসা শুরু করা হয়। এর ফলে তার শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দিনের মধ্যে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের হাতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট যদি নেগেটিভ আসে তাহলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। পজিটিভ হলে পরবর্তীতে করোনার নিরাময়ের চিকিৎসা নতুন করে শুরু করা হবে।

গত ১৯ মার্চ ঢাকা থেকে বাসযোগে রাজশাহীতে ফেরার সময় ওই নার্সের সহযাত্রী ছিলেন একজন ইতালি প্রবাসী। পরদিনই তার সর্দি, কাশি ও জ্বর শুরু হয়।

ওইদিনই তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় মেডিসিন ওয়ার্ডে। করোনা সন্দেহে নার্সকে পাঠানো হয় রাজশাহীর বক্ষব্যাধি ও সংক্রমণ রোগ নিরাময় কেন্দ্র-আইইডিতে। সেখান থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

বাড়িতে গিয়ে জ্বরের তীব্রতা ও অন্যান্য উপসর্গ আরও বাড়লে ফের তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখান থেকে তাকে আবারো আইইডির আইসোলেশনে নেয়া হয়। পরিস্থিতি অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বুধবার আক্ষেপ করে এই নার্স যুগান্তরকে বলেছিলেন, তার চিকিৎসায় অবহেলা হচ্ছে। করোনার উপসর্গ থাকলেও করোনার টেস্ট হচ্ছে না। নার্সের বক্তব্যটি যুগান্তর অনলাইনে প্রকাশের পরপরই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে তৎপর হয়ে ওঠেন। বুধবার সন্ধ্যার পর করোনাভাইরাস টেস্টের জন্য তার রক্ত ও অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

রাজশাহীর সেই নার্সের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৬ মার্চ ২০২০, ০৬:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনাভাইরাসআক্রান্ত সন্দেহে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে থাকা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেই নার্সের শারীরিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজেই ফোন করে তার শারীরিক অবস্থার কথা যুগান্তরকে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যার পরপরই আইইডিসিআর থেকে করোনা রেসকিউ টিমের সদস্যরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষার জন্য রক্ত ও মুখের লালার নমুনা নিয়ে গেছেন।

বৃহস্পতিবার দিনের মধ্যেই করোনা পরীক্ষার প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট হাসপাতালের পরিচালকের কাছে পাঠানো হবে। এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাস সন্দেহে ঢাকায় স্থানান্তর হওয়া নার্স আরও বলেন, গত বুধবার রাত থেকে তার জ্বরের প্রকোপ অনেকটাই কমে এসেছে। সর্দি ও কাশি কমেছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কিছুসময় পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। ওষুধ দেয়ার সেটা কমেছে। এখন তিনি শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার বিষয়ে খুবই আন্তরিক বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওই নার্স জানান, যুগান্তরসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন হওয়ার পরপরই আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার বিষয়ে দ্রুততার সঙ্গে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ তার চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন ও নিচ্ছেন। এ জন্য তিনি সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার মানবিক এইসব উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি তার সহকর্মীসহ সবার কাছে সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

এদিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, ভর্তির সময় রাজশাহী মেডিকেলের সেই নার্সের শরীরে করোনার সব উপসর্গই দৃশ্যমান ছিল। এ কারণে হাসপাতালে ভর্তির পরপরই করোনা টেস্টের আগেই তার করোনার চিকিৎসা শুরু করা হয়। এর ফলে তার শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দিনের মধ্যে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের হাতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট যদি নেগেটিভ আসে তাহলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। পজিটিভ হলে পরবর্তীতে করোনার নিরাময়ের চিকিৎসা নতুন করে শুরু করা হবে।

গত ১৯ মার্চ ঢাকা থেকে বাসযোগে রাজশাহীতে ফেরার সময় ওই নার্সের সহযাত্রী ছিলেন একজন ইতালি প্রবাসী। পরদিনই তার সর্দি, কাশি ও জ্বর শুরু হয়।

ওইদিনই তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় মেডিসিন ওয়ার্ডে। করোনা সন্দেহে নার্সকে পাঠানো হয় রাজশাহীর বক্ষব্যাধি ও সংক্রমণ রোগ নিরাময় কেন্দ্র-আইইডিতে। সেখান থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

বাড়িতে গিয়ে জ্বরের তীব্রতা ও অন্যান্য উপসর্গ আরও বাড়লে ফের তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখান থেকে তাকে আবারো আইইডির আইসোলেশনে নেয়া হয়। পরিস্থিতি অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বুধবার আক্ষেপ করে এই নার্স যুগান্তরকে বলেছিলেন, তার চিকিৎসায় অবহেলা হচ্ছে। করোনার উপসর্গ থাকলেও করোনার টেস্ট হচ্ছে না। নার্সের বক্তব্যটি যুগান্তর অনলাইনে প্রকাশের পরপরই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে তৎপর হয়ে ওঠেন। বুধবার সন্ধ্যার পর করোনাভাইরাস টেস্টের জন্য তার রক্ত ও অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০