করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করল দক্ষিণ আফ্রিকা

  যুগান্তর ডেস্ক ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১১:৩০:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি: বিবিসি

করোনাভাইরাসের প্রতিরোধে দক্ষিণ আফ্রিকায় লকডাউনের এক সপ্তাহ পার হয়েছে। এই বৈশ্বিক মহামারী সামাল দিতে দেশটির পদক্ষেপগুলো আসলে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে লোভ লাগিয়ে দিচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সব মিলিয়ে যে অর্জন, সেদিকে নজর দিলে দেখা যাবে, ইতিমধ্যে ৪৭ হাজার লোককে পরীক্ষার পাশাপাশি ৬৭টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষা ইউনিটেরও চালু করা হয়েছে।

সেখানে এমন কিছু পরীক্ষা কেন্দ্র আছে, যাতে লোকজনকে গাড়ি থেকে বের না হয়েই নমুনা দিতে পারবে। শিগগিরই দেশটি দিনে ত্রিশ হাজার লোককে পরীক্ষা করতে পারবে বলে সক্ষমতা অর্জনের দিকে যাচ্ছে।- খবর বিবিসির

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৪০০।

ভাইরাসটির বিস্তাররোধে বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় খুবই দ্রুত, দক্ষতা ও নির্মমতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কোভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা একজন দুর্দান্ত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

একদিকে শান্ত, স্থির ও সহানুভূতিসম্পন্ন, অন্যদিকে কঠোর বিধিনিষেধমূলক পদক্ষেপ নিতে ও প্রাইভেট খাতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার ক্ষেত্রে তিনি কোনো সময় অপচয় করেননি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জিউলি এমখিজাও তার ঐকান্তিক ও উদ্যমী কার্যক্রম দিয়ে বৈশ্বিক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তার ধৈর্য, গভীর জ্ঞানসম্পন্ন প্রতি দিনের ব্রিফিংয়ের সুনামও সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

অবশ্যই করোনারোধের কার্যক্রমে সবকিছুই যে ইতিবাচক তা বলা যাচ্ছে না। যেমন তিন সপ্তাহের লকডাউন বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী হিংস্র হয়ে উঠেছে।

বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গসহ অন্যান্য এলাকায় সড়কে বেসামরিক লোকজনের অপমান করা ও পেটানো হচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও লোকজনকে গুলি করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

কিছু কিছু নীতির ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিও রয়েছে। দেশটিতে কয়েকজন অদক্ষ মন্ত্রী রয়েছেন, যারা মানুষকে বার্তা দেয়ার ক্ষেত্রে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। অনেক সময় বক্তব্য দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে নিতেও দেখা গেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার দরিদ্র, জনবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে কার্যকর স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বাস্তবায়নে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অনেকেরই আশঙ্কা, ভাইরাসটি এখনও বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।

সবমিলিয়ে বিশ্বের কঠোরতম লকডাউনের এক সপ্তাহ পার করে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে ঘরের বাইরে কেউ জগিং করতে বের হয়নি, কোনো অ্যালকোহল কিংবা সিগারেট বিক্রি হয়নি, পোষা কুকুর নিয়ে কেউ হাঁটতে বের হননি, আর অতিপ্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হননি।

এছাড়া লকডাউন লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড কিংবা বড় অঙ্কের অর্থ জরিমানা গুণতে হয়েছে লোকজনকে। দেশটিতে এমন যুক্তি অহরহ দেখানো হচ্ছে যে সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত, অদক্ষ। আর প্রাইভেট খাত মুনাফালোভী ও নিষ্ক্রীয়। কিন্তু বিকাশমান গণতান্ত্রিক দেশটি তাদের বিশাল প্রতিকূলতা বেশ ভালোভাবেই সামাল দিয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জিউলি এমখিজাও বুধবার বলেন, এখন যে পরিস্থিতিতে আছি, তা হচ্ছে বিপর্যকর ঝড়ের আগে শান্ত অবস্থা। যদি আমরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিই, তবে দলে দলে করোনায় আক্রান্ত হবেন। বিপর্যয় নেমে আসার আগে আর কোনো আগাম সতর্কতা থাকবে না।

দক্ষিণ আফ্রিকায় এতসব আগাম পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও আসল লড়াই সামনে পড়ে আছে। দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সত্যিকারের প্রতিকূলতা এখনো শুরু হয়নি। বিশ্বের সবচেয়ে অসম সমাজ ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। হার-জিত যা-ই হোক না কেন, দরিদ্র লোকজনকেই লড়াইটা করে যেতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত