আজীবন মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন ডা. মঈন
jugantor
আজীবন মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন ডা. মঈন

  ড. ইমাদুর রহমান  

১৬ এপ্রিল ২০২০, ০২:১৪:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

চিত্রকর্মটি সংগৃহীত

মৃত্যু জিনিসটা তো আমাদের সবার জন্য অবধারিত, একদিন-না-একদিন চলে যেতেই হবে, এর কোন ব্যত্যয় নেই। কে কিভাবে আল্লাহর কাছে ফিরবো, সেটাও আল্লাহ অনেক-অনেক আগেই লিখে রেখেছেন। কিন্তু কিছু কিছু চলে যাওয়া মানতে একটু কষ্ট হয়, মঈন ভাইয়ের ইন্তেকালটা ঠিক সেরকমই।

মঈন ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম কখন দেখা তা ঠিক মনে নেই। খুব সম্ভবতঃ আমরা যখন ১৯৯২ সালে নটরডেমে সবেমাত্র ঢুকেছি, উনারা তখন ঢাকা মেডিকেলের প্রথম বর্ষের ছাত্র। পরিষ্কার মনে নেই, তবে একদিন সম্ভবত কলাবাগানে মরহুম সোহেল ভাইয়ের মাধ্যমে উনার সঙ্গে পরিচয়। সেই থেকে উনার সঙ্গে জানা পরিচয়, এরপর কতদিন যে উনার সঙ্গে বসে কত কথা বলেছি, তার ইয়ত্তা নেই. আমাকে উনি প্রায়ই বলতেন, মেডিকেল কোচিং করার জন্য; কিন্তু আমার ইন্টারেস্ট ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। তারপরও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে মাঝে-মাঝেই শাহবাগের মেডিকেল কোচিংয়ে যেতাম, উনার একটি কেমিস্ট্রি ক্লাসের ছবি এখনো চোখে ভাসে।

ভাগ্যের ফেরে চিটাগাং মেডিকেল ঘুরে যখন বুয়েটে আসলাম, তারপর উনার সঙ্গে মেলামেশাটা আরো বাড়লো। বুয়েট-ডিএমসির ক্যাম্পাস পাশাপাশি হওয়ায় আমরা বকশীবাজার-পলাশী-শাহবাগ-নীলক্ষেত, কাটাবন এলাকায় অনেক ঘুরেছি একসঙ্গে। অনেক দিনই একসঙ্গে চা-পিয়াজু-সিঙ্গারা খেয়েছি, সেই স্মৃতি ভুলবার নয়।

উনাকে সবসময়ই দেখতাম খুবই হাসিমুখে কথা বলতেন। একবার কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা উনাকে সহ আরো দুইএকজনকে খুব অত্যাচার করলো। এরপরেও যখন দেখা হলো, উনি তখনো হাসিমুখেই কথা বলছিলেন।

খবরটা শুনে আমার যতো কষ্ট হচ্ছিলো, উনার হাসিমুখ দেখে সেই কষ্ট চলে গিয়েছিল।

ছিয়ানব্বইয়ের পর চলে গেলাম দেশের বাইরে। এরপর থেকে দীর্ঘদিন কোন যোগাযোগ নেই, অবশেষে ফেসবুকের কল্যাণে আবার উনাকে খুঁজে পাওয়া। গত ১০-১২ বছরে যখনি সিলেটে যেতাম, উনার সঙ্গে টুকটাক কথা হতো, কিন্তু আগের মতো আর সেই সময় হয়ে উঠেনি। আশপাশের অনেকের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে, ভালো ডাক্তার হিসেবে, গরিবের ডাক্তার হিসেবে উনার অনেক সুনাম শুনতাম। মনে মনে বলতাম, এটা তো আমার জানা মঈন ভাইয়ের সঙ্গেই মিলে। খুব একটা অবাক হতাম না।

কেউ একজন ফেসবুকে লিখেছেন, মঈন ভাইয়ের ইন্তেকাল আবারো প্রমাণ করলো, এই দুনিয়াটা ভালো মানুষদের জন্য নয়. আসলেই তো তাই, দুনিয়াটা তো ভালো মানুষদের মূল জায়গা নয়, আমাদের বিশ্বাস মতে, জান্নাতই ভালো মানুষদের মূল ঠিকানা।

মঈন ভাই, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। আপনি আজীবন মানুষের কল্যানে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে শাহাদাতের মর্যাদা দিবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আপনার সকল কাজকে কবুল করুন, আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ দরোজায় ভূষিত করুন।

লেখক: ড. ইমাদুর রহমান

মাস্টার রিসার্চার, এরিকসন, সুইডেন

আজীবন মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন ডা. মঈন

 ড. ইমাদুর রহমান 
১৬ এপ্রিল ২০২০, ০২:১৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
চিত্রকর্মটি সংগৃহীত
চিত্রকর্মটি সংগৃহীত

মৃত্যু জিনিসটা তো আমাদের সবার জন্য অবধারিত, একদিন-না-একদিন চলে যেতেই হবে, এর কোন ব্যত্যয় নেই। কে কিভাবে আল্লাহর কাছে ফিরবো, সেটাও আল্লাহ অনেক-অনেক আগেই লিখে রেখেছেন। কিন্তু কিছু কিছু চলে যাওয়া মানতে একটু কষ্ট হয়, মঈন ভাইয়ের ইন্তেকালটা ঠিক সেরকমই।

মঈন ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম কখন দেখা তা ঠিক মনে নেই। খুব সম্ভবতঃ আমরা যখন ১৯৯২ সালে নটরডেমে সবেমাত্র ঢুকেছি, উনারা তখন ঢাকা মেডিকেলের প্রথম বর্ষের ছাত্র। পরিষ্কার মনে নেই, তবে একদিন সম্ভবত কলাবাগানে মরহুম সোহেল ভাইয়ের মাধ্যমে উনার সঙ্গে পরিচয়। সেই থেকে উনার সঙ্গে জানা পরিচয়, এরপর কতদিন যে উনার সঙ্গে বসে কত কথা বলেছি, তার ইয়ত্তা নেই. আমাকে উনি প্রায়ই বলতেন, মেডিকেল কোচিং করার জন্য; কিন্তু আমার ইন্টারেস্ট ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। তারপরও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে মাঝে-মাঝেই শাহবাগের মেডিকেল কোচিংয়ে যেতাম, উনার একটি কেমিস্ট্রি ক্লাসের ছবি এখনো চোখে ভাসে।

ভাগ্যের ফেরে চিটাগাং মেডিকেল ঘুরে যখন বুয়েটে আসলাম, তারপর উনার সঙ্গে মেলামেশাটা আরো বাড়লো। বুয়েট-ডিএমসির ক্যাম্পাস পাশাপাশি হওয়ায় আমরা বকশীবাজার-পলাশী-শাহবাগ-নীলক্ষেত, কাটাবন এলাকায় অনেক ঘুরেছি একসঙ্গে। অনেক দিনই একসঙ্গে চা-পিয়াজু-সিঙ্গারা খেয়েছি, সেই স্মৃতি ভুলবার নয়।

উনাকে সবসময়ই দেখতাম খুবই হাসিমুখে কথা বলতেন। একবার কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা উনাকে সহ আরো দুইএকজনকে খুব অত্যাচার করলো। এরপরেও যখন দেখা হলো, উনি তখনো হাসিমুখেই কথা বলছিলেন।

খবরটা শুনে আমার যতো কষ্ট হচ্ছিলো, উনার হাসিমুখ দেখে সেই কষ্ট চলে গিয়েছিল।

ছিয়ানব্বইয়ের পর চলে গেলাম দেশের বাইরে। এরপর থেকে দীর্ঘদিন কোন যোগাযোগ নেই, অবশেষে ফেসবুকের কল্যাণে আবার উনাকে খুঁজে পাওয়া। গত ১০-১২ বছরে যখনি সিলেটে যেতাম, উনার সঙ্গে টুকটাক কথা হতো, কিন্তু আগের মতো আর সেই সময় হয়ে উঠেনি। আশপাশের অনেকের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে, ভালো ডাক্তার হিসেবে, গরিবের ডাক্তার হিসেবে উনার অনেক সুনাম শুনতাম। মনে মনে বলতাম, এটা তো আমার জানা মঈন ভাইয়ের সঙ্গেই মিলে। খুব একটা অবাক হতাম না।

কেউ একজন ফেসবুকে লিখেছেন, মঈন ভাইয়ের ইন্তেকাল আবারো প্রমাণ করলো, এই দুনিয়াটা ভালো মানুষদের জন্য নয়. আসলেই তো তাই, দুনিয়াটা তো ভালো মানুষদের মূল জায়গা নয়, আমাদের বিশ্বাস মতে, জান্নাতই ভালো মানুষদের মূল ঠিকানা।

মঈন ভাই, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। আপনি আজীবন মানুষের কল্যানে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে শাহাদাতের মর্যাদা দিবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আপনার সকল কাজকে কবুল করুন, আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ দরোজায় ভূষিত করুন।

লেখক: ড. ইমাদুর রহমান

মাস্টার রিসার্চার, এরিকসন, সুইডেন

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : করোনায় চিকিৎসকের মৃত্যু