নির্জন হাওরে কোয়ারেন্টিন, মানবেতর জীবনযাপন ১৭ পরিবারের
jugantor
নির্জন হাওরে কোয়ারেন্টিন, মানবেতর জীবনযাপন ১৭ পরিবারের

  খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  

২৮ এপ্রিল ২০২০, ১৯:২৯:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার নগর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের ১৭টি পরিবারকে নির্জন কছমার হাওরে ছন দিয়ে ঝুপড়িঘর তৈরি করে সেখানে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে মিল-ফ্যাক্টরী ও গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ায় এই পরিবারগুলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজ গ্রামে ফেরেন। এই খবর জানতে পেরে এলাকাবাসী নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দ্বীপক সরকারের নেতৃত্বে তাদের এখানে কোয়ারেন্টিনে রাখেন।

গত ১৩ দিন থেকে রোদে পুড়ে এবং বৃষ্টিতে ভিজে এই ১৭টি পরিবার শিশু, মেয়ে ও বৃদ্ধ মা বাবা নিয়ে হাওরে অবস্থান করছেন।

সেখানকার ভুক্তভোগী কৃষ্ণ দাস বলেন, আজ ১৩ দিন ধরে আমরা এখানে আছি। আমরা কুকুর-বিড়ালের মতো জীবনযাপন করছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বারবার ফোন করলেও আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নেননি।

আরেক ভুক্তভোগী রিতা রানী বলেন, আমরা দুই বোন এই ঝুপড়িঘরে থাকি। রাতের বেলা এক বোন ঘুমালে আরেকজন সজাগ থাকি। এভাবেই চলছে আমাদের জীবন। আমরা এই নিষ্ঠুর শাস্তি থেকে মুক্তি চাই।

সেখানে থাকা মঙ্গল দাস বলেন, এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা দ্বীপক সরকার চাপ সৃষ্টি করে আমাদেরকে এখানে রেখেছেন। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপারে নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দ্বীপক সরকার বলেন, এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তেই ওই ১৭টি পরিবারেকে টিন দিয়ে ঝুপড়িঘর তৈরি করে সেখানে রাখা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। আমি খবর পেয়েই স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে তাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি। এ ছাড়া আজ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে হাওর থেকে এনে তাদের গ্রামে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছি।

অন্যদিকে ওই পরিবারগুলোকে যারা এভাবে নির্জন হাওরে ঝুপড়িঘরে রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নির্জন হাওরে কোয়ারেন্টিন, মানবেতর জীবনযাপন ১৭ পরিবারের

 খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
২৮ এপ্রিল ২০২০, ০৭:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার নগর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের ১৭টি পরিবারকে নির্জন কছমার হাওরে ছন দিয়ে ঝুপড়িঘর তৈরি করে সেখানে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে মিল-ফ্যাক্টরী ও গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ায় এই পরিবারগুলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজ গ্রামে ফেরেন। এই খবর জানতে পেরে এলাকাবাসী নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দ্বীপক সরকারের নেতৃত্বে তাদের এখানে কোয়ারেন্টিনে রাখেন।

গত ১৩ দিন থেকে রোদে পুড়ে এবং বৃষ্টিতে ভিজে এই ১৭টি পরিবার শিশু, মেয়ে ও বৃদ্ধ মা বাবা নিয়ে হাওরে অবস্থান করছেন। 

সেখানকার ভুক্তভোগী কৃষ্ণ দাস বলেন, আজ ১৩ দিন ধরে আমরা এখানে আছি। আমরা কুকুর-বিড়ালের মতো জীবনযাপন করছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বারবার ফোন করলেও আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নেননি। 

আরেক ভুক্তভোগী রিতা রানী বলেন, আমরা দুই বোন এই ঝুপড়িঘরে থাকি। রাতের বেলা এক বোন ঘুমালে আরেকজন সজাগ থাকি। এভাবেই চলছে আমাদের জীবন। আমরা এই নিষ্ঠুর শাস্তি থেকে মুক্তি চাই। 

সেখানে থাকা মঙ্গল দাস বলেন, এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা দ্বীপক সরকার চাপ সৃষ্টি করে আমাদেরকে এখানে রেখেছেন।  আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

এ ব্যাপারে নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দ্বীপক সরকার বলেন, এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তেই ওই ১৭টি পরিবারেকে টিন দিয়ে ঝুপড়িঘর তৈরি করে সেখানে রাখা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। আমি খবর পেয়েই স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে তাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি। এ ছাড়া আজ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে হাওর থেকে এনে তাদের গ্রামে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছি। 

অন্যদিকে ওই পরিবারগুলোকে যারা এভাবে নির্জন হাওরে ঝুপড়িঘরে রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।