হোমিওতে করোনার চিকিৎসা সম্ভব, পাবনার চিকিৎসকের দাবি
jugantor
হোমিওতে করোনার চিকিৎসা সম্ভব, পাবনার চিকিৎসকের দাবি

  আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা  

১৩ জুন ২০২০, ০১:৩০:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ডা. আমিরুল ইসলাম সানু

ইংল্যান্ডের প্রিন্স চার্লস হোমিও চিকিৎসায় পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন এবং তার চিকিৎসা করেছেন ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক ডা. মাথাই। এরপর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ভারতের ‘আয়ুস মন্ত্রণালয়’।

আয়ুর্বেদ, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিষয়ক মন্ত্রণালয়টি এক বিবৃতিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় সংক্রান্ত নানা তথ্য প্রকাশ করেছে। এসব উদাহরণ টেনে বাংলাদেশেও হোমিওপ্যাথির চিকিৎসায় করোনা মুক্ত করা সম্ভব বলে দাবি করেছেন পাবনার একজন হোমিও চিকিৎসক ডা. আমিরুল ইসলাম সানু।

ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ২ হাজার রোগীর তিনি হোমিও চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। এই চিকিৎসক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকার মিরপুর সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ থেকে হোমিওপ্যাথিতে স্নাতকধারী (বিএইচএমএস)। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হুঁইখালী গ্রামের শিক্ষক আবু সাইদের ছেলে। বর্তমানে এই হোমিও চিকিৎসক জেলার বাণিজ্যকেন্দ্র কাশিনাথপুরে বসবাস করেন। হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি কাশিনাথপুর বিজ্ঞান স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

চিকিৎসক শানু বলেন, এর আগে হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগের নিয়ন্ত্রণ যেভাবে সম্ভব হয়েছে, বর্তমানে করোনাভাইরাসের নিয়ন্ত্রণও হোমিওপ্যাথিতে সম্ভব।

তিনি বলেন, করোনা রোগের লক্ষণ শুরুর পর থেকে এ যাবত তিনি প্রায় ২ হাজার রোগীর চিকিৎসা করেছেন। এর মধ্যে সরাসরি করোনা উপসর্গ নিয়ে আসেন-এমন ৩ শতাধিক রোগীকে তিনি চিকিৎসা দিলে তাদের মধ্যে ওই উপসর্গ আর দেখা যায়নি। বাকিদের করোনা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সেবা দেন তিনি।

তিনি বলেন, হোমিওপ্যাথি রোগের নয়, রোগীর চিকিৎসা করে। রোগ যে নামেই হোক না কেন রোগীর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ লক্ষণ সমষ্টিই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মূল বিষয়। করোনাভাইরাস অতি ক্ষুদ্র এবং অল্প শক্তিসম্পন্ন একটি ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানেই মৃত্যু নয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনীশক্তির প্রভাবে জীবাণুটি পরাজিত হয়, ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি এমনিতেই ভালো হয়ে যায় কোনো প্রকার ওষুধের ব্যবহার ছাড়াই। মোট কথা- যার ইমিউনিটি বা জীবনীশক্তি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা একেবারেই কম, যেমন শিশুদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার হার একেবারেই কম, কারণ শিশুদের জীবনীশক্তি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি।

আমিরুল ইসলাম সানু বলেন, হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কখনই সরাসরি কোনো জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে না, সিলেকটিভ হেমিওপ্যাথিক ড্রাগ নির্দিষ্ট রোগীর জীবনীশক্তি বা ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ওই রোগীকে সুস্থ করে তোলে- সে যে নামের রোগই হোক না কেন। পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মহামারিতে হোমিও ওষুধ এভাবেই সফলতা পেয়েছে, তা আজকের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ মানুক আর নাই মানুক। এই সময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ চারটি ধাপে প্রকাশ পাচ্ছে এবং এই চারটি লক্ষণ হোমিওপ্যাথিক ওষুধের সঙ্গে শতভাগ মিলে, ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শতভাগ আরোগ্য সম্ভব এবং এই চ্যালেঞ্জ নিতে আমি প্রস্তুত।

এ ব্যাপারে সরকারের সাথে কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের কাজের সফলতা যাচাই করার আহবান জানাচ্ছি।

ডা. শানু বলেন, ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য হোমিও চিকিৎসা নিয়ে ভাল ফল পেয়েছেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে করোনা প্রতিরোধে হোমিও চিকিৎসা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

চিকিৎসক আমিরুল ইসলাম শানু বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ভারতের ‘আয়ুস মন্ত্রণালয়’। আয়ুর্বেদ, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিষয়ক মন্ত্রণালয়টি এক বিবৃতিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় সংক্রান্ত নানা তথ্য প্রকাশ করেছে। (খবর হিন্দুস্তান টাইমস।)

তিনি বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করোনা মোকাবেলায় উপযুক্ত ওষুধ তাদের হাতে রয়েছে। ভ্যাকসিন বা অ্যালোপ্যাথি ওষুধ নয়, হোমিওপ্যাথিতেই করোনা প্রতিরোধ করা যাবে। ভারতের আয়ুস মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে টুইট করে জানানো হয়েছে, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়। করোনা আক্রান্তের উপসর্গ সারানোর জন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধ অত্যন্ত কার্যকর বলে জানানো হয়েছে।

ভারতের নওদার প্রত্যন্ত গ্রাম সর্বাঙ্গপুরে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডা. নীলাঞ্জন রায় করোনার রোগীদের হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা দিচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন ‘লকডাউনের জেরে বন্ধ রয়েছে গাড়ি ঘোড়া। হোমিও ডাক্তার হলেও চিকিৎসা পরিষেবা তো মিলছে।’ কিন্তু এই করোনা আবহেও একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল চলে? এ রকম প্রশ্নে নওদার স্বাস্থ্য আধিকারিক মুকেশ কুমার সিংহ বলেন, ‘জেলায় এমবিবিএস ডাক্তারের বড় অভাব। তাই হোমিও চিকিৎসক দিয়েই গ্রামীণ হাসপাতাল চলছে।’ (সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা)

করোনায় হোমিওপ্যাথির আরও সাফল্য তুলে ধরে ডা. শানু বলেন, ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস করনোমুক্ত হয়েছেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায়। প্রিন্স চার্লসের শরীর থেকে করোনার জীবাণু দূর করতে হোমিওপ্যাথিকেই কাজে লাগানো হয়েছিল। ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক ডা. মাথাই। দীর্ঘদিন ধরেই হোমিওপ্যাথি নিয়ে তিনি গবেষণা করে চলেছেন। তার সাফল্য নতুন দিশা দেখাচ্ছে ভারতকে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় এই ওষুধ এবং থেরাপি কাজে লাগিয়ে উপকৃত হওয়া যায় তা পরীক্ষা শুরু হয়েছে ভারতে। কেন্দ্রের নিযুক্ত স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

ডা. আমিরুল ইসলাম সানু বলেন, হোমিওপ্যাথিতে গ্রামগঞ্জে কিছু হাতুড়ে ডাক্তারকে দেখা যায়। লেখাপড়া না জানা ওই সব হাতুরে ডাক্তারদের কারণে অনেকেই হোমিওপ্যাথির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। আপনারা চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে যারা লেখাপড়া করেছেন, এরকম চিকিৎসকের কাছে যাবেন। দেশের প্রতিটি উপজেলায় এখন একাধিক স্নাতক ডিগ্রিধারী চিকিৎসক রয়েছেন। এমননি দেশের অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এখন সরকারিভাবে হোমিও চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আপনারা কোনো হাতুরে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে অবশ্যই চিকিৎসা বিজ্ঞানে অভিজ্ঞদের কাছে যাবেন, আশা করি ভালো চিকিৎসা পাবেন। হোমিওপ্যাথির প্রতি আপনার আস্থাও আসবে।

এদিকে করোনার লক্ষণভিত্তিক কিছু হোমিও ওষুধের পরামর্শ দিয়েছেন পাবনার হোমিওতে স্নাতকধারী এই চিকিৎসক। নিচে এটি তুলে ধরা হল:

Ars. alb :
(১) মৃত্যু ভয় প্রকট
(২) নাক দিয়ে পাতলা পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া, হাঁচি ও শুষ্ক কাশি
(৩) পানি পিপাসা, ঘন ঘন অল্প পরিমাণে পানি পিপাসা
(৪) ঠাণ্ডা প্রথমে নাকে, পরে বুকে লাগে
(৫) শীতকাতর

Gelsimium :
(১) দুর্বলতা, মাথাঘোরা, শরীর কাঁপা
(২) জড় পদার্থে মতো পড়তে থাকে
(৩) জ্বরের সাথে সর্দি, মাথা ব্যথা
(৪) খুসখুস কাশি, হাঁচি

Camphor:
(১) শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া
(২) নাক বন্ধ
(৩) শুষ্ক কাশি
(৪) গলা ব্যথা
(৫) স্বরভঙ্গ

Bryonia:
(১) হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পরা
(২) গলা ভেঙ্গে যাওয়া
(৩) শুষ্ক কাশি, গরম কক্ষে গেলে কাশি বাড়ে
(৪) পানি পিপাসা, একবারে এক মগ পানি পান করার ইচ্ছে

হোমিওতে করোনার চিকিৎসা সম্ভব, পাবনার চিকিৎসকের দাবি

 আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা 
১৩ জুন ২০২০, ০১:৩০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ডা. আমিরুল ইসলাম সানু
ডা. আমিরুল ইসলাম সানু

ইংল্যান্ডের প্রিন্স চার্লস হোমিও চিকিৎসায় পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন এবং তার চিকিৎসা করেছেন ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক ডা. মাথাই। এরপর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ভারতের ‘আয়ুস মন্ত্রণালয়’।

আয়ুর্বেদ, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিষয়ক মন্ত্রণালয়টি এক বিবৃতিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় সংক্রান্ত নানা তথ্য প্রকাশ করেছে। এসব উদাহরণ টেনে বাংলাদেশেও হোমিওপ্যাথির চিকিৎসায় করোনা মুক্ত করা সম্ভব বলে দাবি করেছেন পাবনার একজন হোমিও চিকিৎসক ডা. আমিরুল ইসলাম সানু।

ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ২ হাজার রোগীর তিনি হোমিও চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। এই চিকিৎসক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকার মিরপুর সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ থেকে হোমিওপ্যাথিতে স্নাতকধারী (বিএইচএমএস)। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হুঁইখালী গ্রামের শিক্ষক আবু সাইদের ছেলে। বর্তমানে এই হোমিও চিকিৎসক জেলার বাণিজ্যকেন্দ্র কাশিনাথপুরে বসবাস করেন। হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি কাশিনাথপুর বিজ্ঞান স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

চিকিৎসক শানু বলেন, এর আগে হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগের নিয়ন্ত্রণ যেভাবে সম্ভব হয়েছে, বর্তমানে করোনাভাইরাসের নিয়ন্ত্রণও হোমিওপ্যাথিতে সম্ভব।

তিনি বলেন, করোনা রোগের লক্ষণ শুরুর পর থেকে এ যাবত তিনি প্রায় ২ হাজার রোগীর চিকিৎসা করেছেন। এর মধ্যে সরাসরি করোনা উপসর্গ নিয়ে আসেন-এমন ৩ শতাধিক রোগীকে তিনি চিকিৎসা দিলে তাদের মধ্যে ওই উপসর্গ আর দেখা যায়নি। বাকিদের করোনা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সেবা দেন তিনি।

তিনি বলেন, হোমিওপ্যাথি রোগের নয়, রোগীর চিকিৎসা করে। রোগ যে নামেই হোক না কেন রোগীর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ লক্ষণ সমষ্টিই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মূল বিষয়। করোনাভাইরাস অতি ক্ষুদ্র এবং অল্প শক্তিসম্পন্ন একটি ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানেই মৃত্যু নয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনীশক্তির প্রভাবে জীবাণুটি পরাজিত হয়, ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি এমনিতেই ভালো হয়ে যায় কোনো প্রকার ওষুধের ব্যবহার ছাড়াই। মোট কথা- যার ইমিউনিটি বা জীবনীশক্তি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা একেবারেই কম, যেমন শিশুদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার হার একেবারেই কম, কারণ শিশুদের জীবনীশক্তি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি।

আমিরুল ইসলাম সানু বলেন, হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কখনই সরাসরি কোনো জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে না, সিলেকটিভ হেমিওপ্যাথিক ড্রাগ নির্দিষ্ট রোগীর জীবনীশক্তি বা ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ওই রোগীকে সুস্থ করে তোলে- সে যে নামের রোগই হোক না কেন। পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মহামারিতে হোমিও ওষুধ এভাবেই সফলতা পেয়েছে, তা আজকের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ মানুক আর নাই মানুক। এই সময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ চারটি ধাপে প্রকাশ পাচ্ছে এবং এই চারটি লক্ষণ হোমিওপ্যাথিক ওষুধের সঙ্গে শতভাগ মিলে, ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শতভাগ আরোগ্য সম্ভব এবং এই চ্যালেঞ্জ নিতে আমি প্রস্তুত।

এ ব্যাপারে সরকারের সাথে কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের কাজের সফলতা যাচাই করার আহবান জানাচ্ছি।

ডা. শানু বলেন, ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য হোমিও চিকিৎসা নিয়ে ভাল ফল পেয়েছেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে করোনা প্রতিরোধে হোমিও চিকিৎসা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

চিকিৎসক আমিরুল ইসলাম শানু বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ভারতের ‘আয়ুস মন্ত্রণালয়’। আয়ুর্বেদ, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিষয়ক মন্ত্রণালয়টি এক বিবৃতিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় সংক্রান্ত নানা তথ্য প্রকাশ করেছে। (খবর হিন্দুস্তান টাইমস।)

তিনি বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করোনা মোকাবেলায় উপযুক্ত ওষুধ তাদের হাতে রয়েছে। ভ্যাকসিন বা অ্যালোপ্যাথি ওষুধ নয়, হোমিওপ্যাথিতেই করোনা প্রতিরোধ করা যাবে। ভারতের আয়ুস মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে টুইট করে জানানো হয়েছে, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়। করোনা আক্রান্তের উপসর্গ সারানোর জন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধ অত্যন্ত কার্যকর বলে জানানো হয়েছে।

ভারতের নওদার প্রত্যন্ত গ্রাম সর্বাঙ্গপুরে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডা. নীলাঞ্জন রায় করোনার রোগীদের হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা দিচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন ‘লকডাউনের জেরে বন্ধ রয়েছে গাড়ি ঘোড়া। হোমিও ডাক্তার হলেও চিকিৎসা পরিষেবা তো মিলছে।’ কিন্তু এই করোনা আবহেও একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল চলে? এ রকম প্রশ্নে নওদার স্বাস্থ্য আধিকারিক মুকেশ কুমার সিংহ বলেন, ‘জেলায় এমবিবিএস ডাক্তারের বড় অভাব। তাই হোমিও চিকিৎসক দিয়েই গ্রামীণ হাসপাতাল চলছে।’ (সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা)

করোনায় হোমিওপ্যাথির আরও সাফল্য তুলে ধরে ডা. শানু বলেন, ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস করনোমুক্ত হয়েছেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায়। প্রিন্স চার্লসের শরীর থেকে করোনার জীবাণু দূর করতে হোমিওপ্যাথিকেই কাজে লাগানো হয়েছিল। ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক ডা. মাথাই। দীর্ঘদিন ধরেই হোমিওপ্যাথি নিয়ে তিনি গবেষণা করে চলেছেন। তার সাফল্য নতুন দিশা দেখাচ্ছে ভারতকে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় এই ওষুধ এবং থেরাপি কাজে লাগিয়ে উপকৃত হওয়া যায় তা পরীক্ষা শুরু হয়েছে ভারতে। কেন্দ্রের নিযুক্ত স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

ডা. আমিরুল ইসলাম সানু বলেন, হোমিওপ্যাথিতে গ্রামগঞ্জে কিছু হাতুড়ে ডাক্তারকে দেখা যায়। লেখাপড়া না জানা ওই সব হাতুরে ডাক্তারদের কারণে অনেকেই হোমিওপ্যাথির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। আপনারা চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে যারা লেখাপড়া করেছেন, এরকম চিকিৎসকের কাছে যাবেন। দেশের প্রতিটি উপজেলায় এখন একাধিক স্নাতক ডিগ্রিধারী চিকিৎসক রয়েছেন। এমননি দেশের অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এখন সরকারিভাবে হোমিও চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আপনারা কোনো হাতুরে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে অবশ্যই চিকিৎসা বিজ্ঞানে অভিজ্ঞদের কাছে যাবেন, আশা করি ভালো চিকিৎসা পাবেন। হোমিওপ্যাথির প্রতি আপনার আস্থাও আসবে।

এদিকে করোনার লক্ষণভিত্তিক কিছু হোমিও ওষুধের পরামর্শ দিয়েছেন পাবনার হোমিওতে স্নাতকধারী এই চিকিৎসক। নিচে এটি তুলে ধরা হল:

Ars. alb : 
(১) মৃত্যু ভয় প্রকট
(২) নাক দিয়ে পাতলা পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া, হাঁচি ও শুষ্ক কাশি
(৩) পানি পিপাসা, ঘন ঘন অল্প পরিমাণে পানি পিপাসা
(৪) ঠাণ্ডা প্রথমে নাকে, পরে বুকে লাগে
(৫) শীতকাতর
     
Gelsimium :
(১) দুর্বলতা, মাথাঘোরা, শরীর কাঁপা
(২) জড় পদার্থে মতো পড়তে থাকে
(৩) জ্বরের সাথে সর্দি, মাথা ব্যথা
(৪) খুসখুস কাশি, হাঁচি

Camphor:
(১) শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া
(২) নাক বন্ধ
(৩) শুষ্ক কাশি
(৪) গলা ব্যথা
(৫) স্বরভঙ্গ

Bryonia:
(১) হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পরা
(২) গলা ভেঙ্গে যাওয়া
(৩) শুষ্ক কাশি, গরম কক্ষে গেলে কাশি বাড়ে
(৪) পানি পিপাসা, একবারে এক মগ পানি পান করার ইচ্ছে

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস