যে কারণে ভারতে প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণ অর্ধলক্ষ ছাড়াচ্ছে

  অনলাইন ডেস্ক ০৩ আগস্ট ২০২০, ১৭:৫৫:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

ভারতে গেল এক সপ্তাহ ধরে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা দৈনিক অর্ধলক্ষ ছাড়াচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যায় প্রতিদিনই আগের দিনের রেকর্ড ভাঙছে।

গত ৩১ জুলাই দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয় ৫৫ হাজার ৭৮ জন,যা ছিল ওইদিন যাবৎ দেশটিতে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা।

সেই সংখ্যাকেও ছাপয়ে গেলে পরদিনই। গত ১ আগস্ট দেশটিতে নতুন করে একদিনে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়। যা এখন পর্যন্ত সর্বাধিক সংক্রমণের রেকর্ড। গত ২৪ ঘণ্টা দেশটিতে নতুন করে ৫২ হাজার ৯৭২ জন সংক্রমিত হয়েছে।

হঠাৎকরে ভারতে করোনাভাইরাস এতো ভয়াবহ রূপ ধারণ কেন করেছে সে বিষয়ে গবেষণা করেছে দেশটির তিন প্রতিষ্ঠান।

এই তিন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে - কল্যাণীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োমেডিক্যাল জিনোমিক্স (এনআইবিএমজি), কলকাতার নাইসেড ও আইপিজিএমইআর।

এই তিন প্রতিষ্ঠানের গবেষণার ফলাফল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমসের বাংলা সংস্করণ এই সময়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতে করোনার ১ হাজারটি জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন বিজ্ঞানীরা। করোনার গবেষণায় জিনোম সিকোয়েন্স এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় যার মাধ্যমে ভাইরাসটি কোন দেশ থেকে এসেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে কীভাবে ছড়িয়েছে তা নিরুপণে সহজ হয়। এ ক্ষেত্রে মহামারীর বিস্তার 'ট্র্যাকিং' এবং 'ট্রেসিং' সহজে করা যায়। আর এসব তথ্য ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণায় কাজে লাগে।

এবার ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে করোনার নমুনা নিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, দেশটিতে করোনার ‘এ২এ’ হ্যাপ্লোটাইপ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণে ভাগ করে ভারতের ১০টি রাজ্য থেকে নমুনা নেয়া হয়। পাঠানো হয় এই তিন প্রতিষ্ঠানে। সে সব নমুনা পরীক্ষার পর শনিবার সেই গবেষণার প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন।

সেই রিপোর্টের ব্যাখ্যায় এনআইবিএমজির ডিরেক্টর সৌমিত্র দাস বলেন, করোনা এ দেশে এসেছে মূলত দুটি পথ ধরে। একটি ইউরোপ, অন্যটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। ইউরোপ (ইতালি, ব্রিটেন, সুইৎজারল্যান্ড, গ্রিস) থেকে এসেছে ‘এ২এ’ ধরনটি, যাকে এখন ২০এ, ২০বি, ২০সি, তিনটি ভাগে আলাদা করা হয়েছে। আর চীন থেকে এসেছে ১৯এ/বি ধরন। শুরুতে, মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে হ্যাপ্লোটাইপগুলির বৈচিত্র চোখে পড়ছিল। কিন্তু জুনে গোটা দেশে মূলত এ২এ ধরনই ছড়িয়ে পড়ে।

আর এ২এ ধরনটি এখন সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়ায় বলে ভারতে এই মুহূর্তে করোনা পরিস্থিতি লাগামহীন।


গত এপ্রিলের শেষদিকে করোনার জিনোম সিকোয়েন্স করেছিলেন এনআইবিএমজিরই দুই অধ্যাপক নিধান বিশ্বাস এবং পার্থপ্রতিম মজুমদার।

৫৫টি দেশের ৩,৬৩৬টি জিনোম সিকোয়েন্স পর্যালোচনা করে তারা বলেছিলেন, ভাইরাসের স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনে একটি মিউটেশনের (ডি৬১৪জি) জন্য মানুষের ফুসফুসের কোষে সহজে ঢুকে পড়ছে এ২এ ধরনের ভাইরাস।

বর্তমানের গবেষণাতেও একই কথা বলে জানানো হয়েছে, মানবদেহের অ্যাঞ্জিওটেনসিং কনভার্টিং এনজাইম-২ বা এসিই-২ রিসেপটরের সঙ্গে অনেক সহজে বন্ধন তৈরি করছে এ২এ। আরও একটি সম্ভাব্য কারণ, মিউটেশনের ফলে গঠনগত পরিবর্তন হওয়ায় সংক্রমণ ঘটানোর পর মানবকোষে বেশি সংখ্যায় ভাইরাস পার্টিকেলের জন্ম দিতে পারছে। অতি সংক্রামক সেই কারণেও।

সহ-গবেষক, এনআইবিএমজি-র অধ্যাপক অরিন্দম মিত্র বলেন, চীন থেকে সরাসরি ভারতে আসা ধরনটি সেভাবে সংক্রমণ ছড়াতে পারেনি। কিন্তু চীন থেকে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়া করোনার মিউটেশন ঘটে এ২এ ধরনের পরিবর্তিত হয়। যা ইউরোপ থেকে ভারতে এসে সংক্রমণের মাত্রা তীব্র করেছে।

জানা গেছে গবেষণা লব্ধ যাবতীয় কাছাকাছি সময়ে ফ্লু ভাইরাসের গ্লোবাল ডেটাব্যাংকে তুলে তথ্য তুলে দেয়া হবে।

সোমবার সকালের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতে করোনা শনাক্ত ১৮ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত