Logo
Logo
×

Advertisement

অপরাধ

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয় যেভাবে

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ পিএম

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয় যেভাবে

প্রতীকী ছবি

Advertisement

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সারা দেশে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে নেওয়ার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।

ইতোমধ্যেই প্রশ্নফাঁস সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি। গ্রেফতারদের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কাওরান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

গ্রেফতাররা হলেন- পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম এবং এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ ও কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর।

যেভাবে ফাঁস হয় প্রশ্ন

এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক জানান, ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদের নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। 

এসআরবির তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। নূর মোহাম্মদ প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে প্রশ্ন ও উত্তর পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম চালাতেন। প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, উত্তর তৈরি এবং বিতরণের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মূল উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত, পরে চক্রের সদস্য

এসআরবি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে রুবেল ও মফিজুলের মাধ্যমে চক্রটির আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মফিজুল নিজেও চাকরিপ্রত্যাশী ছিলেন। তিনি চক্রের এক সদস্যকে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় তিনি চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত রাজধানীর মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর-১০ ও মোহাম্মদপুর এবং সাভারে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করে এসআরবি। গ্রেফতারদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও চ্যাট পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সময় ও বিতরণপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযানে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ২৫টি সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা, একটি ব্যাংক চেক, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র, আটটি মোবাইল ফোন এবং চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়। 

প্রশ্নপত্রের উৎস সম্পর্কে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক বলেন, নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করেছেন। তবে তাদের দেওয়া তথ্য এখনো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছে না তদন্ত দল। সংশ্লিষ্ট গ্রুপ ও আইডি যাচাই করা হচ্ছে। 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ অধিদপ্তরের কারও সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা হয়। প্রশ্নপত্রের মূল উৎস ও অন্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয় যেভাবে

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয় যেভাবে

প্রশ্নফাঁস চক্রের ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী, তারা কারা?

প্রশ্নফাঁস চক্রের ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী, তারা কারা?

৯ মাসে ৬৬ হত্যা, আতঙ্কের নগরী খুলনা

৯ মাসে ৬৬ হত্যা, আতঙ্কের নগরী খুলনা

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেফতার ৭৫৯

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেফতার ৭৫৯

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম