Logo
Logo
×
   

Advertisement

ডাক্তার আছেন

মস্তিষ্কের জন্য ‘নীরব ঘাতক’ উচ্চ রক্তচাপ, কেড়ে নিতে পারে স্মৃতিশক্তি

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

মস্তিষ্কের জন্য ‘নীরব ঘাতক’ উচ্চ রক্তচাপ, কেড়ে নিতে পারে স্মৃতিশক্তি

Advertisement

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে সাধারণত হৃদরোগের সঙ্গেই তুলনা করা হয়। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এটি একটি ‘নীরব ঘাতক’ যা অলক্ষ্যে আপনার মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যক্ষমতার অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। দীর্ঘকাল উপসর্গহীন থাকায় অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গটি ধীরে ধীরে ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

মানুষের মস্তিষ্কের ওজন শরীরের মোট ওজনের মাত্র ২ শতাংশ হলেও, এটি শরীরের মোট রক্ত ও অক্সিজেনের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহার করে। ফলে রক্তপ্রবাহে সামান্যতম ব্যাঘাত ঘটলেও মস্তিষ্কের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উচ্চ রক্তচাপের ফলে মস্তিষ্কের ধমনীগুলো শক্ত ও সংকুচিত হয়ে পড়ে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। রক্ত জমাট বেঁধে বা অতিরিক্ত চাপে ধমনী ফেটে গিয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ব এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি: স্মৃতিভ্রংশ ও ডিমেনশিয়া

গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়স থেকে যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, পরবর্তী জীবনে তাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া এবং ‘ডিমেনশিয়া’ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

হিপোক্যাম্পাস সংকোচন: মস্তিষ্কের স্মৃতি কেন্দ্র বা হিপোক্যাম্পাস উচ্চ রক্তচাপের কারণে সংকুচিত হতে পারে।

সাদা অংশ (White Matter) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া: মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী টিস্যু বা হোয়াইট ম্যাটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়।

মিনি-স্ট্রোক: অনেকে সাময়িক বা ‘মিনি-স্ট্রোক’ অনুভব করেন, যা কয়েক মিনিট স্থায়ী হলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের আগাম সতর্কতা হিসেবে কাজ করে।

অন্যান্য অঙ্গের ওপর প্রভাব 

উচ্চ রক্তচাপ কেবল মস্তিস্ক নয়, শরীরের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে আঘাত হানে:

১. কিডনি: কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর ছাঁকন ক্ষমতা কমে যায়, যা শেষ পর্যন্ত ডায়ালাইসিসের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

২. চোখ: রেটিনার রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে।

সুরক্ষার উপায়: জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞরা এই নীরব ঘাতককে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন:

খাদ্যাভ্যাস: খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, প্রচুর ফলমূল, সবজি এবং আস্ত দানা শস্য (Whole grains) গ্রহণ করা। প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলা।

শারীরিক পরিশ্রম: সপ্তাহে অন্তত আড়াই ঘণ্টা মাঝারি মানের ব্যায়াম (যেমন— দ্রুত হাঁটা বা সাঁতার কাটা) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে।

মানসিক প্রশান্তি: গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ও যোগব্যায়ামের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা।

নিয়মিত পরীক্ষা: বাড়িতেই নিয়মিত রক্তচাপ মেপে দেখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম