Logo
Logo
×
   

ডাক্তার আছেন

ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাস? মস্তিষ্কের যে বিপদ ডেকে আনছেন

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাস? মস্তিষ্কের যে বিপদ ডেকে আনছেন

ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাস? মস্তিষ্কের যে বিপদ ডেকে আনছেন। ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল যুগে অনেক মানুষের দিন শুরুই হয় মোবাইল ফোন দেখার মাধ্যমে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ঘুম থেকে উঠেই ফোন ব্যবহার করার এই অভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ, কাজ কিংবা তথ্য জানার জন্য মানুষ প্রায় সারাদিনই ফোনের ওপর নির্ভর করছে। ফলে অনেকেই ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই বা দিনের প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফোন হাতে তুলে নেন।

সম্প্রতি মোবাইল ব্যবহারের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮৪ শতাংশ ব্যবহারকারী ঘুম থেকে ওঠার পরপরই বা প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফোন ব্যবহার শুরু করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দিন দিন বাড়ছে এবং এর প্রভাব নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।

ঘুম ভাঙার পর মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া

গবেষণা বলছে, একজন মানুষ ঘুম থেকে উঠলেও তার মস্তিষ্ক সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে যায় না। প্রথমে মস্তিষ্ক থাকে ডেল্টা অবস্থায়, যা গভীর বিশ্রামের সঙ্গে সম্পর্কিত। এরপর ধীরে ধীরে এটি আলফা অবস্থায় যায়, যেখানে মানুষ জেগে থাকলেও মস্তিষ্ক পুরোপুরি সক্রিয় হয় না।

শেষ পর্যন্ত মস্তিষ্ক বিটা অবস্থায় পৌঁছালে তা সম্পূর্ণ সচেতন হয়ে ওঠে এবং তখনই মানুষ স্বাভাবিকভাবে চিন্তা ও কাজ করতে প্রস্তুত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখলে মস্তিষ্ককে বিশ্রামের অবস্থা থেকে হঠাৎ সক্রিয় অবস্থায় যেতে বাধ্য করা হয়। এতে মানসিক চাপ বাড়তে পারে এবং অনেক সময় উদ্বেগ, বিরক্তি বা মানসিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। এমনকি দিনের কাজে আগ্রহও কমে যেতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সময় পায়।

তারা আরও একটি অভ্যাসের দিকেও সতর্ক করেছেন—ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করা। রাতের বেলা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ নষ্ট হতে পারে। আর ঘুমের সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করলেও এর সঠিক ও সীমিত ব্যবহারই সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম