Logo
Logo
×
   

ডাক্তার আছেন

ডা. তাসনিম জারা

দুর্বলতা নিয়ে গর্ভধারণ করলে যে ঝুঁকি

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

দুর্বলতা নিয়ে গর্ভধারণ করলে যে ঝুঁকি

আপনার কি খুব ক্লান্ত লাগে? শরীর দুর্বল মনে হয়। হাঁটা চলার সময় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বুক ধরফর করে। হাত পা ঠান্ডা হয়ে থাকে? এগুলো শরীরে আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতার কারণে হতে পারে। অনেকেই এ সমস্যায় ভোগেন কিন্তু বুঝতে পারেন না আমাদের মেয়েদের ক্ষেত্রে এটা খুবই কমন। কারণ প্রতি মাসে মাসিকের রক্তের সঙ্গে আয়রন বের হয়ে যায় বিশেষ করে যাদের একটু ভারি রক্তপাত হয় তাদের ক্ষেত্রে এটা হওয়ার সম্ভাবনা আরো বেশি। 

অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বল লাগা যে রক্তশূন্যতার কারণে হতে পারে এইটা অনেকেরই জানা নেই। অনেকে মনে করেন যে আমার শরীরটাই বোধহয় দুর্বল আমি আসলে এমনই আমার গায়ে তেমন কোনো শক্তি নাই ফলে আয়নের অভাবে রক্তশূন্যতা ধরা পড়ে না চিকিৎসাও হয় না। দেখা যায় যে মাসের পর মাস বছরের পর বছর রোগটা শরীরে বাসা বেঁধে থাকে এমন চলতে থাকলে শরীরে আরো অনেকগুলো অসুবিধা হতে পারে। যেমন- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে তখন দেখা যায় বারবার জ্বর কাশি হচ্ছে বারবার প্রসবের রাস্তার ইনফেকশনসহ বিভিন্ন ইনফেকশন হতে পারে। এমনকি হার্ট ও ফুসফুসের জটিল সমস্যা হতে পারে এই রোগ।

এই দুর্বলতা নিয়ে গর্ভধারণ করলে গর্ভে শিশুর নানান রকম সমস্যা হতে পারে। সময়ের আগে প্রসব হতে পারে। জন্মের সময় শিশুর ওজন কম হতে পারে। আবার কারো কারো আয়রনের অভাবে অনেক চুল পড়ে যেতে থাকে। এমনিতে আমাদের সবারই প্রতিদিন কিছু চুল পড়ে, সেটা স্বাভাবিক কিন্তু যদি অনেক চুল পড়ে যেতে থাকে সেইটার একটা কারণ হতে পারে আয়রনের অভাবে। রক্তশূন্যতা আপনি কিভাবে বুঝবেন যে, আপনার এই রোগটা আছে কিনা এই রোগের চিকিৎসা কী এবং কোন কোন খাবার থেকে আয়রন পাওয়া যায়। 

প্রথমে এই রোগের লক্ষণগুলো বলছি 

শরীরের শক্তি কম পাওয়া বা দুর্বল লাগা বুক ধরফর করা হাঁটা চলার সময় শ্বাসকষ্ট হওয়া চোখ মুখ দেখতে একটু ফ্যাকাসে লাগা মাথা ব্যথা কোন কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হওয়া বা চিন্তা ভাবনা করতে সমস্যা হওয়া এই লক্ষণগুলো খুবই কমন। এছাড়া কখনো কখনো আমরা আরো কিছু লক্ষণ দেখতে পাই যেমন- পা কামড়ানো বা পা শিরশির করা বিশেষ করে সন্ধ্যায় বা রাতে এর দিকে পায়ের পাতাসহ পুরো পা কামড়াতে থাকে তখন খুব পা নাড়াতে ইচ্ছা করতে পারে ডাক্তারি ভাষায় এটাকে আমরা বলি রেসলেস লেগ সিনড্রোম। তারপর কানে ভনভন বা সুসু আওয়াজ হতে পারে মনে হয় যেন একটানা অস্বস্তিকর একটা শব্দ কানে বাঁধছে মুখের স্বাদ পাল্টে যেতে পারে। জিভে ঘা হতে পারে ব্যথা হতে পারে। ঠোঁটের কোনায় ঘা হতে পারে। তারপর চুল ধোয়ার সময় বা চুল আঁচড়ানোর সময় অনেক বেশি চুল ধরতে পারে। গায়ে একটু চুলকানির মত হতে পারে। খাওয়ার জিনিস না এমন কিছু যেমন মাটি কাগজ কিংবা বড় এসব খেতে খুব ইচ্ছা করতে পারে। আবার অল্প কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ঢোক গিলতে বা কোন কিছু গিলতে কষ্ট হচ্ছে হাতের নখ মাঝখানে দেবে গিয়ে অনেকটা চামচের মতো দেখতে হতে পারে। কারো কারো তো এই লক্ষণগুলোর মধ্যে যদি কোনটা আপনার থাকে তাহলে অবশ্যই একজন ডাক্তার দেখাবেন তিনি।

ডাক্তার আপনার সঙ্গে কথা বলে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীর করে বোঝার চেষ্টা করবেন যে, আপনার এই আয়নের অভাবে রক্তশূন্যতা রোগটা আছে কিনা। খুব সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগটা ধরে ফেলা যায় পরীক্ষাগুলো করতে খরচও খুব বেশি হয় না। সরকারি হাসপাতালে দেড়শ থেকে চারশ টাকার মধ্যেই করে ফেলা যায়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এর চেয়ে আরেকটু বেশি খরচ হয়। এই রোগটার চিকিৎসাও খুবই সহজ রোগ ধরা পড়লে আমরা সাধারণত রোগীকে আয়রন ট্যাবলেট খেতে দিই। আয়রন ট্যাবলেট খেলে ধীরে ধীরে শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হতে থাকে টানা কয়েক মাস ধরে ট্যাবলেটটা খেতে হয় সাধারণত ছয় মাসের মতো তাহলে ঘাটতি পূরণ হয়ে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন মজুদ হয়। 

কারো কারো দেখা যায় যে, আয়রন ট্যাবলেট খেলে একটু পেটে গন্ডগোল হয়। সেই ক্ষেত্রে ভরা পেটে আয়রন ট্যাবলেট খেলে এই সমস্যাটা কমে আসে। আয়রন ট্যাবলেটের পাশাপাশি সমৃদ্ধ খাবারও খাওয়া প্রয়োজন; যাতে সেখান থেকেও শরীর কিছুটা আয়রন নিতে পারে। আপনার যদি আয়নের অভাব নাও থাকে তাও এই খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন কারণ মাসিকের সঙ্গে সঙ্গে প্রতি মাসেই শরীর থেকে কিছুটা আয়রন বের হয়ে যায়। আর আয়রনের অভাব হলে প্রথম দিকে বাড়ি থেকে তেমন কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। তাহলে কোন কোন খাবার থেকে ভালো পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায় সেগুলো এখন বলি। 

কলিজা বিশেষ করে গরুর কলিজা আয়রনের খুব ভালো উৎস। তবে গর্ভকালীন সময়ে কলিজাটা খাবেন না, যদি খুব অল্প পরিমাণে খেয়ে ফেলেন সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। তারপর গরুর মাংস মুরগির মাংস এগুলো থেকেও ভালো পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায়। তবে গরুর মাংসটা একটু পরিমাণমত খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তিন নাম্বার হলো- ডাল যেমন মসুর ডাল, মুগ ডাল, মাসকলাইয়ের ডাল, একটু ঘন করে ডাল খাবেন তাতে বেশি পরিমাণে ডাল খাওয়া হবে আর সেখান থেকে শরীরে আয়রন পেয়ে যাবেন।

চার নাম্বার হলো ডিম সহজ একটা খাবার এবং আয়রনের ভালো উৎস। এরপর হলো শাক যেমন পালং শাক পুই শাক লাল শাক কচু শাক ডাটা শাক লাউ শাক। পাট শাক বিভিন্ন ধরনের শাক থেকে আয়রন পাওয়া যায় তারপর ছোলা আয়রনের ভালো উৎস বিভিন্ন সবজি যেমন মটরশুটি ব্রকলি খোসাসহ আলু টমেটো এগুলো থেকেও খানিকটা আয়রন পাওয়া যায়। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .