Logo
Logo
×
   

Advertisement

ডাক্তার আছেন

সব হাসপাতালে লেবাররুম বাধ্যতামূলক হলে সিজার কমে যাবে

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:১১ পিএম

সব হাসপাতালে লেবাররুম বাধ্যতামূলক হলে সিজার কমে যাবে

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিন্নাত আরা নাসরীন। ফাইল ছবি

Advertisement

দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে নরমাল ডেলিভারির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে লেবাররুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তার এ বক্তব্যের স্বাগত জানিয়েছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের প্রখ্যাত গাইনি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিন্নাত আরা নাসরীন যুগান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ওই পদক্ষেপ প্রশংসাযোগ্য। প্রসূতি মায়ের যথাযথ সেবার জন্য সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে লেবাররুম খুবই জরুরি।

তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালে লেবাররুম নেই, শুধু ওটি (অপারেশন থিয়েটার) আছে।  যার কারণে ওটিতে নিয়ে গিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। যদি হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতে লেবাররুম থাকে তাহলে প্রসূতি মা একটি সুন্দর পরিবেশে প্রসব করতে পারবেন। 

অধ্যাপক ডা. জিন্নাত আরা নাসরীন আরও বলেন, আমাদের মেয়েরাও অনেক সময় চায় না নরমাল ডেলিভারি করতে, তারা সিজার চান। কারণ তারা ভয় পান যে ব্যথা হবে। কিন্তু একটা লেবাররুম থাকলে কিন্তু ব্যথানাশক ওষুধও থাকবে। তাহলে তারা নরমাল ডেলিভারিতে ভয় পাবে না, উৎসাহিত হবে। 

আদর্শ লেবাররুম কেমন হবে?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আদর্শ লেবার একদম ঝকঝকে থাকবে। মায়েদের জন্য সুন্দর পরিবেশ থাকবে। ওখানে একটা ডকুমেন্টেশন বা  রেকর্ড কিপিং থাকবে।  আপনি ১০ বছর পর গিয়েও আপনার বাচ্চার বার্থ সার্টিফিকেট নিতে পারবেন সেখান থেকে, সেই ব্যবস্থা থাকবে। উন্নত বিশ্বে প্রত্যেক নারী ও শিশু হাসপাতালে লেবাররুম থাকে। লেবাররুমের পাশেই ওটি (অপারেশন থিয়েটার) আছে। লেবাররুম থাকলে সেখানে ট্রায়াল দেওয়া হবে। লেবার করানো হবে। প্রসব করানো হবে। তারপর প্রয়োজন হলে তখন আপনার সিজার সেকশনে যেতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশের সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে লেবাররুম না থাকায় গর্ভবতী মাকে সরাসরি ওটিতে নিয়ে গিয়ে সিজার অপারেশনের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।    

তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক হাসপাতাল তো ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে গেছে।  সেখানে কোনো লেবাররুম নেই অথচ ঠিকই সিজার হচ্ছে। একটি গর্ভবতী নারী এলে সঙ্গে সঙ্গে সিজার করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের ডাক্তারদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ তারা এটা করতে বাধ্য। লেবাররুম থাকলে সেখানে আগে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা হতো। 

 সিকদার মেডিকেল কলেজের গাইনি ও অবস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জিন্নাত আরা নাসরীন আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি যে, লেবাররুম সব হাসপাতালে বাধ্যতামূলক করা হলে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে, সিজারিয়ান অপারেশন কমে যাবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম