Logo
Logo
×
   

ডাক্তার আছেন

শৈশবে চিনি কম খেলে কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

শৈশবে চিনি কম খেলে কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

প্রতীকী ছবি

গর্ভাবস্থায় এবং জীবনের প্রথম দুই বছরে খাদ্যতালিকায় চিনির পরিমাণ কম থাকলে কয়েক দশক পরে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী নিউরোলজি-তে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ও পরবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া ৬৪ হাজারেরও বেশি মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। গবেষকরা ১৯৫৩ সালে দেশটিতে চিনির রেশনিং ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার আগের এবং পরের সময়কালে জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার হারের তুলনা করেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, গর্ভে থাকা অবস্থায় এবং জন্মের পর প্রথম এক বছর যারা তুলনামূলকভাবে কম চিনি গ্রহণ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ২১ শতাংশ কম ছিল। এছাড়া জীবনের প্রথম দুই বছর যারা কম চিনিযুক্ত খাবার খেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ। একইসঙ্গে দেখা গেছে, শৈশবে চিনি কম গ্রহণকারীদের ডিমেনশিয়া ধরা পড়েছে তুলনামূলকভাবে দেরিতে—বেশি চিনি গ্রহণকারীদের তুলনায় গড়ে প্রায় ২ দশমিক ৬ বছর পর।

গবেষণাপত্রের লেখক ও হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক জিয়াজেন ঝেং জানান, এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে শৈশবে চিনির ব্যবহার সীমিত রাখা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এই ফলাফল কেবল একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়, এটি কোনো সরাসরি কারণ ও প্রভাবের প্রমাণ নয়।

অন্যান্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই ফলাফলের বিষয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। টাফটস ইউনিভার্সিটির ‘ফুড এজ মেডিসিন ইনস্টিটিউট’-এর পরিচালক দারিউশ মোজাফফারিয়ান জানান, গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনলেও কেবল চিনি কম খাওয়ার কারণেই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, রেশনিং ব্যবস্থার আগে ও পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, ক্যালোরি গ্রহণ এবং পুষ্টির মানেও বহু পার্থক্য ছিল। তাই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমার পেছনে কেবল চিনির অবদান নির্ধারণ করা কঠিন।

গবেষকরাও স্বীকার করেছেন যে তারা সরাসরি ব্যক্তির চিনি গ্রহণের পরিমাণ পরিমাপ না করে ঐতিহাসিক রেশনিং ব্যবস্থাকে নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ফলে অন্যান্য সামাজিক, খাদ্যতালিকাগত ও স্বাস্থ্যগত পার্থক্য ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে শুধুমাত্র চিনির পরিমাণ কমানোর চেয়ে গর্ভাবস্থায় ও শৈশবে সামগ্রিক সুষম পুষ্টির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, বাদাম, মাছ ও দুগ্ধজাত পুষ্টিকর খাবার বেশি খাওয়া এবং উচ্চমাত্রার চিনি, লবণ ও শর্করাযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলাই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী।

সূত্র: সামা টিভি।


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .