টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায়
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাইফয়েড জ্বর হলো সালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট একটি প্রাণঘাতী রোগ। এই ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে রক্তপ্রবাহে এবং অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণে প্রবেশ করে।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বিশুদ্ধ পানির অভাব যেসব অঞ্চলে বেশি সেখানে টাইফয়েডের প্রকোপ বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউেএইও) তথ্য মতে, প্রতি বছর প্রায় ১১-২০ মিলিয়ন মানুষ টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং ১২৮০০০ থেকে ১৬১০০০ মানুষ মারা যায়।
টাইফয়েডের লক্ষণ
টাইফয়েড জ্বর হরে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন—
* তীব্র জ্বর টাইফয়েড একটি সাধারণ লক্ষণ;
* ক্ষুধা কমে যাওয়া;
* রোগীর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়;
* কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়;
* দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা ও ক্লান্তি;
* শুষ্ক কাশি থাকে;
* পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি;
* শিশুদের ডায়রিয়া।
টাইফয়েড জ্বরের পর্যায়গুলো কী
টাইফয়েড জ্বর বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রসর হয়। যদি সঠিক চিকিৎসা না করা হয় তাহলে বিপদ হতে পারে।
পর্যায় ১: ১ম সপ্তাহ
জ্বর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, এমনকি ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। মাথাব্যথা, অস্বস্তি ও ক্লান্ত লাগতে পারে। ক্ষুধা কমে যায় ও পেটে ব্যথা হয়। এই পর্যায়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
পর্যায় ২: ২য় সপ্তাহ
জ্বর আরও বাড়তে পারে। পেটে ব্যাথাও বেড়ে যায়। শিশুদের ডায়রিয়া হতে পারে। ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা যায়। গুরুতর ক্লান্তি এবং মানসিক বিভ্রান্তি হয় যা ‘টাইফয়েড অবস্থা’ নামে পরিচিত।
পর্যায় ৩: ৩য় সপ্তাহ
গুরুতর জটিলতার উচ্চ ঝুঁকিসহ সমস্ত লক্ষণ তীব্র হয়। অন্ত্রে ছিদ্র হতে পারে এবং পেটের ব্যথা গুরুতর হয়। ব্যাকটেরিয়া রক্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে সেপসিস হতে পারে। ডায়রিয়ার পলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে।
টাইফয়েড জ্বরের ঝুঁকির কারণগুলো কী
* স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন না করা। যেমন: ওয়াশরুম ব্যবহারের পরে হাত না ধোয়া।
* যেসব এলাকার পরিবেশ দূষিত সেখানে মশা মাছির উপদ্রব বাড়ে এবং পরবর্তিতে মশা মাছি খাবারে পড়ে খাবার দূষিত করে। সেই খাবার খেলে টাইফয়েড হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ‘’
* সামুদ্রিক খাবার ভালোমতো রান্না না করে খেলে ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে টাইফয়েড হতে পারে।
* স্যালমোনেলা বাহকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করলে।
টাইফয়েডের চিকিৎসা
টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসা শুধুমাত্র অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই করা যায়। রোগের গভীরতার ওপর নির্ভর করে ওষুধের ধরণ। রোগের পুনরাবৃত্তি রোধ করকে এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ঝুঁকি কমাতে ওষুধের সম্পূর্ণ কোর্সটি শেষ করা প্রয়োজন। গুরুতর ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। সংকটজনক পরিস্থিতিতে, প্রদাহ কমাতে এবং জটিলতা সামাল দিতে ডাক্তাররা স্টেরয়েডও লিখে দিতে পারেন।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
* দূষণ ও পুনঃসংক্রামণ এড়াতে শুধুমাত্র পরিষ্কার, ফিল্টার করা বা ফোটানো পানি পান করুন।
* বাইরের খাবার পরিহার করুন।
* নরম, আশঁযুক্ত খাবার খেতে হবে।
* অসুস্থ থাকাকালীন কাঁচা খাবার, ভারী খাবার, চিনিযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
* পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
টাইফয়েড জ্বর একটি গুরুতর সংক্রমণ, কিন্তু সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করালে বেশিরভাগ মানুষ সুস্থ হয়ে ওঠে। এটি প্রতিরোধ মূলত ভালো স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপদ খাদ্য ও পানি ব্যবহারের অভ্যাস বজায় রাখার উপর নির্ভরশীল।
