নারীদের প্রসব পরবর্তী ট্রমা কি আসলেই স্বাভাবিক?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অনেক নারীর কাছেই মাতৃত্ব জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। কিন্তু কোনো কোনো মায়ের ক্ষেত্রে মাতৃত্ব কষ্টদায়ক ও আতঙ্কের। কারও উপর মানসিকভাবে বিরূপ প্রভাব পড়ে, যা সন্তান জন্মদানের পরেও থেকে যায়। কষ্টদায়ক প্রসব অভিজ্ঞতার পর অনেক মায়েদের স্মৃতিতে এই অভিজ্ঞতা অস্বস্তি এবং ভয়ের সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক নারীরাই এ ধরণের সমস্যাকে মানসিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে না। ফলে চিকিৎসাও হয় না। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ২০ জন নতুন মায়েদের মধ্যে একজন মা সন্তান জন্মদানের পর পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এই সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। কারণ, অনেক মায়েরাই তাদের এই মানসিক সমস্যার কথা প্রকাশ করেন না। তারা মনে করেন, এটি স্বভাবিক একটি প্রক্রিয়া। পিটিএসডি সাধারণত যুদ্ধ, দুর্ঘটনা বা অন্য মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে সম্পকিত থাকলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবকালনি বেদনার অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তী সময়েও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রসব পরবর্তী পিটিএসডির লক্ষণগুলো কী?
* কোনো অঘাতমূলক বা মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার স্মৃতি বা ফ্ল্যাশব্যাকে বারবার ফিরে আসা, দুঃস্বপ্ন দেখা এবং তীব্র উদ্বেগসহ ভয় ও চিন্তার মতো বিষয়গুলো দেখা দিতে পারে।
* অনেক নারী এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। কারণ, সন্তান জন্মদানের ভয়াবহ সময়গুলো বারবার স্মৃতিতে হানা দেয়।
* অনেক ক্ষেত্রে মায়েরা স্বভাবিক আচরণ করলেও ভিতরে ভিতরে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে যেতে পারে।
* তাদের মধ্যে এমন ভয়ভীতি তৈরি হতে পারে যে তাদের সন্তানের ক্ষতি হতে পারে বা অন্য কারো কাছে সন্তানকে রেখে যেতে চান না।
* সন্তানের সামান্য উপসর্গকেও গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে ধরে নিতে পারেন।
সব কঠিন প্রসবের অভিজ্ঞতাই পিটিএসডির কারণ নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থা বা প্রসবের অভিজ্ঞতা কঠিন হলেই যে কোনো নারী পিটিএসডি বা মানসিক সমস্যায় ভুগবেন বিষয়টি এমন নয়।
তবে গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের সময় কোনো নারী যদি তীব্র ভয়, অসহায়ত্ব বা মানসিক আঘাতের সম্মুখীন হয় এবং সেই অনুভূতিগুলো তার দৈনন্দিন জীবন, ঘুম বা শিশুর যত্ন নেয়ার ক্ষমতায় ব্যঘাত ঘটাতে থাকে তবে বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়।
একজন মায়ের সন্তান লালন পালনের ক্ষেত্রে কোনো সহায়তার প্রয়োজন আছে কিনা তা বুঝতে হলে লক্ষণগুলো যাচাই করতে হবে। তবে লক্ষণ শনাক্ত করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে।
লক্ষণগুলো শনাক্ত করা কেন কঠিন
সন্তান জন্মদানের পর ক্লান্তি, উদ্বেগ এবং আবেগজনিত পরিবর্তন হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ, এসময়ে মায়েদের শরীরে হরমোনজনিত বড় পরিবর্তন আসে। এর ফলে মানসিক সমস্যার গুরুতর লক্ষণগুলোকে মাতৃত্বের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উপেক্ষা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের উচিত নতুন মায়েদের শারীরিক সুস্থ্যতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার দিকে জোর দেয়া।
যেসব নারীরা গর্ভাবস্থাকে মানসিক আঘাত বা ট্রমাটিক বলে মনে করেন তাদেরও উচিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে নিজেদের ভয়, উদ্বেগ ও আতঙ্কের কথা নিয়ে আলোচনা করা।
তথ্যসূত্র: সামাটিভি
