Logo
Logo
×
   

Advertisement

ডাক্তার আছেন

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের লক্ষণ কী? কাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের লক্ষণ কী? কাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

Advertisement

অগ্ন্যাশয় ক্যানসার তুলনামূলকভাবে কম মানুষের হলেও এটি গুরুতর রোগ। অনেক সময় এর লক্ষণ স্পষ্ট থাকে না। ফলে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে। পেটে বা পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, জন্ডিস, ক্ষুধামন্দা কিংবা হজমের সমস্যার মতো কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসার কী?

অগ্ন্যাশয় হলো পেটের ভেতরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করার পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্যকারী হরমোন উৎপন্ন করে। অগ্ন্যাশয় কোষ যখন অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে তখন এটি আশেপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই অবস্থাকে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার বলে। 

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের কারণ

অগ্ন্যাশয়ে বিভিন্ন ধরনের টিউমার থেকে মূলত এই ক্যানসার ছড়ায়—

১. অ্যাডেনোকার্সিনোমা

এটি অগ্ন্যাশয় নালীর আবরণী কোষ থেকে উৎপত্তি হয়। এটি তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায় না। 

২. নিউরো অ্যান্ডোক্রাইন টিউমার

এই ধরনের টিউমার অগ্ন্যাশয়ের হরমোন উৎপাদনকারী কোষ থেকে তৈরি হয়। কিছু টিউমার অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে হরমোন উৎপাদন হয় না। অনেক নিউরো অ্যান্ডোক্রাইন টিউমার সাধারণ অগ্ন্যাশয় অ্যাডেনোকার্সিনোমার তুলনায় ধীরে বৃদ্ধি পায়।

৩. সিস্টিক টিউমার বা ক্ষত

অগ্ন্যাশয়ে তরলযুক্ত সিস্ট তৈরি হতে পারে। বেশির ভাগ সিস্ট থেকে ক্যানসার হয় না। তবে কিছু সিস্ট ভবিষ্যতে ক্যানসারের রূপ নিতে পারে। 

৪. অ্যাকিনার সেল কার্সিনোমা

এটি একটি বিরল ধরনের অগ্ন্যাশয় ক্যানসার। অগ্ন্যাশয়ের হজমকারী এনজাইম উৎপাদনকারী অ্যাকিনার কোষ থেকে এর উৎপত্তি হয়।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের পর্যায়

ক্যানসার কতটা ছড়িয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে রোগটির পর্যায় নির্ধারণ করা হয়—

* স্টেজ ১: ক্যানসার অগ্ন্যাশয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

* স্টেজ ২: ক্যানসার কাছাকাছি টিস্যু বা লিম্ফ নোডে ছড়াতে পারে, তবে সব ক্ষেত্রে প্রধান রক্তনালিতে জড়িত থাকে না।

* স্টেজ ৩: ক্যানসার গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী বা আশপাশের কাঠামোর সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে, যার ফলে অস্ত্রোপচার জটিল হয়ে উঠতে পারে।

* স্টেজ ৪: ক্যানসার শরীরের দূরবর্তী অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। একে মেটাস্ট্যাটিক বা উন্নত পর্যায়ের ক্যানসার বলা হয়।

চিকিৎসার পরিকল্পনা শুধু স্টেজের ওপর নয়, টিউমারের অবস্থান, রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং ক্যানসারের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ওপরও নির্ভর করে।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের লক্ষণ

প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ অস্পষ্ট হতে পারে। রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে:

১. পেটের ওপরের অংশে বা পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা

২. কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া

৩. ক্ষুধা কমে যাওয়া

৪.বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যা 

৫. ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া বা জন্ডিস

৬. প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া

৭. মলের রং অস্বাভাবিকভাবে হালকা হওয়া

৮. অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা

৯. ডায়াবেটিসের আবির্ভাব বা বিদ্যমান ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন

তবে এসব লক্ষণ শুধু অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের কারণেই হয় না। অন্য অনেক রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ থাকলেই ক্যানসার হয়েছে এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের ঝুঁকি

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কারণ সব ক্ষেত্রে জানা যায় না। তবে কিছু বিষয় রোগটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন— ধূমপান, বয়স বৃদ্ধি, পরিবারের সদস্যের অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের ইতিহাস, দীর্ঘদিনের ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও কিছু বংশগত জেনেটিক পরিবর্তন বা পারিবারিক ক্যানসার সিনড্রোম।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসার শনাক্ত 

উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষার ভিত্তিতে চিকিৎসক প্রয়োজনে একাধিক পরীক্ষা করতে পারেন। যেমন—

* ইমেজিং পরীক্ষা: সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা বিশেষ ধরনের আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে অগ্ন্যাশয়ে টিউমার আছে কিনা এবং সেটি কতটা ছড়িয়েছে তা বোঝার চেষ্টা করা হয়।

* রক্ত পরীক্ষা: লিভার ফাংশনসহ বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে। সিএ ১৯-৯ নামের একটি টিউমার মার্কারও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে সিএ ১৯-৯ একা অগ্ন্যাশয় ক্যানসার নিশ্চিত করতে পারে না।

* বায়োপসি: প্রয়োজনে টিউমার থেকে অল্প পরিমাণ টিস্যু সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা হয়। এভাবে ক্যানসারের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

* এন্ডোস্কোপিক আল্ট্রাসাউন্ড: ইউএসের মাধ্যমে হজমতন্ত্রের ভেতর থেকে অগ্ন্যাশয়ের কাছাকাছি গিয়ে বিস্তারিত ছবি দেখা যায় এবং প্রয়োজনে টিস্যুর নমুনাও সংগ্রহ করা সম্ভব। সব রোগীর জন্য একই পরীক্ষা দরকার হয় না। চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পরীক্ষা নির্বাচন করেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম