বাতের চিকিৎসায় নিঃস্ব বহু পরিবার, ভুগছে ৩০ শতাংশ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৩০ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত। চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় এবং রোগীর কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারই আর্থিক সংকটে পড়ছে। অথচ অসংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকির তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাতরোগ এখনো জাতীয় পর্যায়ে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিএনআরএফআর) ট্রাস্ট আয়োজিত ‘১০ম রোগী শিক্ষা কার্যক্রম ও ১ম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে’ বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান।
সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের মাসকুলোস্কেলিটাল গবেষণায় দেখা যায়, ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব মানুষের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত। তাদের ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার এবং ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বছরের কোনো না কোনো সময়ে কর্মক্ষমতা হারান। এছাড়া দেশে অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব প্রায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএনআরএফআর ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও শমরিতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নীরা ফেরদৌস।
তিনি বলেন, বাতের চিকিৎসা ব্যয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া—দুই দিক থেকেই পরিবারে আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় বছরে ৪০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা এবং স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিসে ৪০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।
পিএনআরএফআর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও বাতব্যথা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন। এতে কর্মক্ষমতা কমার পাশাপাশি পরিবারও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোগীদের অসচেতনতা, চিকিৎসা ব্যয়ের সামর্থ্যের অভাব এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বল্পতা বাতরোগের চিকিৎসায় বড় বাধা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন, সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশে বাতরোগের চিকিৎসা ও গবেষণায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পিএনআরএফআর ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দুস্থ রোগীদের সহায়তার পাশাপাশি ‘সাপোর্ট সেন্টার বুথ’ ও বিশেষ ‘সার্ভিস কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ রিউমাটোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে সারাদেশ থেকে আট শতাধিক বাত ও ব্যথার রোগী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
