Logo
Logo
×
   

Advertisement

ডাক্তার আছেন

নারীদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইঙ্গিত

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ এএম

নারীদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইঙ্গিত

Advertisement

ডিম্বাশয়ের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে তৈরি হয় ডিম্বাশয়ের ক্যানসার। এসব কোষ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে শরীরের সুস্থ টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে এবং তা ধ্বংস করতে পারে।

নারীর প্রজনন ব্যবস্থায় জরায়ুর দুই পাশে একটি করে দুটি ডিম্বাশয় থাকে। প্রতিটি ডিম্বাশয় আকারে প্রায় একটি কাঠবাদামের মতো। এগুলো ডিম্বাণু উৎপাদনের পাশাপাশি ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন তৈরি করে।

ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় সাধারণত অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপি করা হয়। তবে রোগটি শুরুর দিকে অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা দেয় না। উপসর্গ দেখা দিলেও তা অনেক সময় অন্যান্য সাধারণ শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়। ফলে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে।

ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

পেট ফাঁপা বা পেট ফুলে যাওয়া

খাবার খাওয়ার সময় দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি

ওজন কমে যাওয়া

তলপেট বা শ্রোণী অঞ্চলে অস্বস্তি

অতিরিক্ত ক্লান্তি

পিঠে ব্যথা

মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য

ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া

এসবের কোনো লক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কেন হয় ডিম্বাশয়ের ক্যানসার?

ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে চিকিৎসকেরা এমন কিছু বিষয় শনাক্ত করেছেন, যা এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ডিম্বাশয়ের ভেতরে বা আশপাশের কোষের ডিএনএতে পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটলে এই ক্যানসার শুরু হতে পারে। ডিএনএতে কোষের কী কাজ করতে হবে, তার নির্দেশনা থাকে। পরিবর্তনের কারণে কোষ দ্রুত বৃদ্ধি ও বিভাজিত হয়ে ক্যানসার কোষের একটি পিণ্ড বা টিউমার তৈরি করতে পারে। এসব কোষ স্বাভাবিক কোষের মতো মারা যায় না। পরে এগুলো আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং মূল টিউমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে।

ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ধরন

কোন কোষ থেকে ক্যানসার শুরু হয়েছে, তার ওপর এর ধরন নির্ভর করে। প্রধান ধরনগুলো হলো—

এপিথেলিয়াল ডিম্বাশয়ের ক্যানসার: এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরন। এর মধ্যে সিরাস কারসিনোমা ও মিউসিনাস কারসিনোমাসহ কয়েকটি উপধরন রয়েছে।

স্ট্রোমাল টিউমার: এগুলো বিরল এবং অন্যান্য ধরনের ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের তুলনায় সাধারণত রোগের প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত হয়।

জার্ম সেল টিউমার: এগুলোও বিরল এবং সাধারণত কম বয়সী নারীদের মধ্যে দেখা যায়।

যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়ে

বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া কিছু জিনগত পরিবর্তনও এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর মধ্যে বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২ জিনের পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য। এসব জিন স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়।

পরিবারে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, মেনোপজের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা, এন্ডোমেট্রিওসিস এবং কখন মাসিক শুরু ও মেনোপজ হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গেও ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। কখনো গর্ভধারণ না করলেও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ঝুঁকি কমানোর উপায়

ডিম্বাশয়ের ক্যানসার পুরোপুরি প্রতিরোধের নিশ্চিত কোনো উপায় নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। তবে এসব ওষুধের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। তাই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে সুবিধা ও ঝুঁকি বিবেচনা করা উচিত।

পরিবারে স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে তা চিকিৎসককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে জেনেটিক পরামর্শকের মাধ্যমে জিনগত পরীক্ষা করা যেতে পারে। ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় এমন জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত হলে ডিম্বাশয় অপসারণের অস্ত্রোপচারের বিষয়েও চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম