পূর্বপুরুষের আলঝেইমার থাকলে কি পরিবারের অন্য সদস্যেরও হয়?
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কোনো বাবা-মা বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের আলঝেইমার রোগ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে, আমারও কি এই রোগ হতে পারে? আলঝেইমার কি আমার ডিএনএতে লেখা আছে?
এর উত্তর শুধু হ্যাঁ বা না দিয়ে দেওয়া যায় না। আলঝেইমার রোগের সঙ্গে জেনেটিক উপাদানের শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। তবে অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে জিন হলো ঝুঁকির সমীকরণের মাত্র একটি অংশ। বয়স, হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্য, জীবনযাপন, পরিবেশগত সংস্পর্শ এবং অন্যান্য জৈবিক কারণও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, আলঝেইমার রোগ হলো ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ ধরন এবং ডিমেনশিয়ার মোট ঘটনার আনুমানিক ৬০–৭০ শতাংশের জন্য দায়ী। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিমেনশিয়া বেশি দেখা গেলেও এটি বার্ধক্যের অনিবার্য পরিণতি নয়।
আলঝেইমার ও জেনেটিক্স: সম্পর্কটা কী?
গবেষকেরা এমন কয়েকটি জিন শনাক্ত করেছেন, যেগুলো আলঝেইমারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে। তবে ঝুঁকি বাড়ায় এমন জিন এবং নির্ধারক জিন—এই দুটির মধ্যে পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো রোগসৃষ্টিকারী জিনগত পরিবর্তন উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গেলে বিরল কিছু ক্ষেত্রে সেটিই সরাসরি রোগের কারণ হতে পারে।
সাধারণত বেশি দেখা যায় এমন দেরিতে শুরু হওয়া আলঝেইমারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত জেনেটিক ঝুঁকি উপাদান হলো এপিওই জিন, বিশেষ করে এপিওই ই৪ ভ্যারিয়েন্ট।
আলঝেইমার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, দেরিতে শুরু হওয়া আলঝেইমারের ক্ষেত্রে শনাক্ত হওয়া সাধারণ জেনেটিক ঝুঁকি-উপাদানগুলোর মধ্যে এপিওই ই৪ সবচেয়ে শক্তিশালী। তবে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত প্রায় ৪০–৬৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে এপিওই ই৪ থাকার অনুমান করা হয়। কিন্তু এই ভ্যারিয়েন্ট থাকা মানেই যে ওই ব্যক্তির অবশ্যই আলঝেইমার হবে, তা নয়।
পরিবারে আলঝেইমার থাকলেই কি আপনারও হবে?
না। পরিবারের কারও আলঝেইমার থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে বাবা-মা বা ভাই-বোনের মতো প্রথম-স্তরের আত্মীয়ের এই রোগ থাকলে। তবে পারিবারিক ইতিহাসের পেছনে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জিনের পাশাপাশি একই ধরনের পরিবেশ, আচরণগত অভ্যাস এবং হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির ঝুঁকিও ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিবারে আলঝেইমার থাকলে কী করতে পারেন?
পারিবারিক ইতিহাসকে ভয়ের কারণ হিসেবে না দেখে সতর্ক ও সক্রিয় হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা ভালো। ভারতীয় চিকিৎসক সিং বলেন, যাদের পরিবারে আলঝেইমারের শক্তিশালী ইতিহাস রয়েছে অথবা পরিবারের সদস্যদের অস্বাভাবিক কম বয়সে এই রোগ হয়েছে, তাদের উচিত নিউরোলজিস্ট, জেরিয়াট্রিশিয়ান বা জেনেটিক কাউন্সেলরের সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা। এই আলোচনায় পরিবারের সদস্যরা কত বছর বয়সে উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছিলেন, পরিবারের কতজন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন, অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা এবং সম্ভাব্য হৃদযন্ত্র ও জীবনযাপন-সম্পর্কিত ঝুঁকি—এসব বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।
ডব্লিউএইচও’র ২০২৬ সালের হালনাগাদ নির্দেশিকায় শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, তামাকজাত পণ্য ব্যবহার বন্ধ করা, ক্ষতিকর অ্যালকোহল গ্রহণ কমানো, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা, সামাজিক ও মানসিকভাবে সক্রিয় থাকা, শ্রবণশক্তির সমস্যা সমাধান করা এবং বায়ুদূষণের সংস্পর্শ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডব্লিউএইচও’র অনুমান অনুযায়ী, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্ভাব্যভাবে পরিবর্তনযোগ্য কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
এই পদক্ষেপগুলো জেনেটিক প্রবণতা থাকা কাউকে আলঝেইমার থেকে নিশ্চিতভাবে রক্ষা করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। এগুলোকে বরং সামগ্রিক মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার এবং সম্ভাব্য পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি কমানোর উপায় হিসেবে দেখা উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি
