Logo
Logo
×

Advertisement

ডাক্তার আছেন

কিভাবে বুঝবেন আপনার আলসার হয়েছে

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

কিভাবে বুঝবেন আপনার আলসার হয়েছে

ফাইল ছবি

Advertisement

পাকস্থলীর ভেতর বা পরিপাকতন্ত্রের কোনো অংশে ক্ষত তৈরি হওয়াই মূলত আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার। পাকস্থলী ছাড়াও এটি পরিপাকতন্ত্রের অন্যান্য অংশেও হতে পারে। যেমন— পাকস্থলীর ঠিক পরের অন্ত্রের শুরুতে যে ‘ঘা’ হয়, তাকে ডিওডেনাল আলসার বলা হয়ে থাকে।

সাধারণত পেপটিক আলসার বলতে পাকস্থলীর আলসার এবং ডিওডেনাল আলসার— এই দুই ধরনের ক্ষতকেই একসঙ্গে বোঝানো হয়। এ লেখায় মূলত পেটের আলসার নিয়ে আলোচনা করা হলেও এর প্রতিটি তথ্য ডিওডেনাল আলসারের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য।

পেটের আলসার হলে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়?

পাকস্থলীর আলসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো বিশেষ এক ধরনের ব্যথা। পেটের আলসারে পেটের মাঝ বরাবর জ্বালাপোড়া করতে থাকে বা সারাক্ষণ ভোঁতা এক ধরনের ব্যথা হতে থাকে। তবে সবার ক্ষেত্রেই যে ব্যথা থাকে তা নয়। কারো কারো ক্ষেত্রে অন্যান্য লক্ষণও থাকতে পারে। যেমন— বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া করা ও বমি বমি ভাব।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে?

আপনার যদি পাকস্থলীর আলসারের কোনো লক্ষণ আছে বলে মনে হয় তবে ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন। এছাড়া নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন—

রক্তবমি হলে। বমির সঙ্গে উজ্জ্বল লাল রঙের রক্ত যেতে পারে। অথবা খয়েরী রঙের চাকাচাকা বা দানাদার রক্ত মিশ্রিত থাকতে পারে, যা দেখতে অনেকটা কফির দানার মতো।

কালো, আঠালো, আলকাতরার মতো পায়খানা হলে। পেটে হঠাৎ করে তীব্র ও তীক্ষ্ণ ব্যথা হলে, যা সময়ের সাথে ক্রমশ বাড়তে থাকে। এসব লক্ষণ শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (Internal Bleeding) এর মতো কোনো মারাত্মক জটিলতার কারণে দেখা দিতে পারে। তাই দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন।

আলসার কেন হয়?

পাকস্থলীর আস্তরণকে পেটের ভেতরে তৈরি হওয়া এসিডের সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করার জন্য এদের মধ্যে একটি প্রলেপ থাকে। প্রলেপটি মূলত মিউকাস নামের শ্লেষ্মার মতো পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি স্তর। কোনো কারণে এই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসিড সরাসরি পাকস্থলীর আস্তরণের সংস্পর্শে এসে একে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এভাবে পেটের আলসার তৈরি হয়।

প্রলেপটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণের মধ্যে রয়েছে— 

১. হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি (H. pylori) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ; ২. আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রক্সেন, এসিক্লোফেনাক বা অ্যাসপিরিনের মতো নন স্টেরয়ডাল অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস বা NSAIDs গ্রুপের ওষুধ বহুদিন ধরে বা উচ্চ ডোজে সেবন ও ৩. আগে ধারণা করা হতো যে মানসিক চাপ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে আলসার হয়ে থাকে। কিন্তু এগুলোর পক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। 

পেটের আলসার কাদের হয়?

পেটের আলসার বেশ কমন একটি রোগ, যা শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের মানুষেরই পারে। সাধারণত ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে রোগটি বেশি দেখা যায়। নারীদের চেয়ে পুরুষেরা সাধারণত পাকস্থলীর আলসারে বেশি আক্রান্ত হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম