ল্যাবরেটরি ছাড়াই বিপাকীয় কার্যক্রম পরিমাপ করবে নতুন মাস্ক
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীর কীভাবে অক্সিজেন ব্যবহার করছে, কত ক্যালরি খরচ করছে এবং শক্তির জন্য চর্বি ও কার্বোহাইড্রেটের ব্যবহার কীভাবে বদলাচ্ছে—এসব তথ্য জানতে এত দিন বিশেষায়িত যন্ত্র ও প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন হতো। এবার সেই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পিএনওই। প্রতিষ্ঠানটি ১ অক্টোবর ‘পিএনওই ২.০’ নামে নতুন একটি শ্বাস বিশ্লেষণ মাস্ক বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নতুন ডিভাইসটি মূলত জিম ও ফিটনেস সেন্টারের মতো জায়গায় ব্যবহারকারীর নিজস্ব পরীক্ষার সুযোগ তৈরি করবে। মাস্কটি মুখে লাগিয়ে একটি বোতাম চাপার পর প্রায় আট মিনিট স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিলেই পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। এ সময় শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করা অক্সিজেন এবং বেরিয়ে যাওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরন সম্পর্কে তথ্য তৈরি করবে ডিভাইসটি।
পিএনওইর দাবি, পরীক্ষাটিতে মোট ২৩টি বায়োমার্কার বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিও২ ম্যাক্স, রেস্টিং মেটাবলিক রেট এবং মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি। ভিও২ ম্যাক্সের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মাত্রায় শরীরের অক্সিজেন ব্যবহারের সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অন্যদিকে রেস্টিং মেটাবলিক রেট বিশ্রামের সময় শরীরের ক্যালরি ব্যয়ের হার নির্দেশ করে।
পিএনওইর বর্তমান সংস্করণ পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন হলেও নতুন সংস্করণে সেই নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অ্যাপোস্টোলোস আতসালাকিস জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারী নিজেই মাস্ক পরে পরীক্ষা চালাতে পারবেন। ভবিষ্যতে ফার্মেসির মতো জায়গাতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
আগের সংস্করণের তুলনায় পিএনওই ২.০ আকারে ছোট এবং এতে যন্ত্রাংশের সংখ্যাও কমানো হয়েছে। এর ইলেকট্রনিক অংশটি সিলিকন মাস্ক ও স্ট্র্যাপ থেকে আলাদা করা যায়। ফলে মূল ডিভাইসটি একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারবেন, আর প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা মাস্ক রাখা সম্ভব হবে। এতে একই যন্ত্র দিয়ে একাধিক ব্যক্তির পরীক্ষা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধিও বজায় রাখা যাবে।
তবে ডিভাইসটির ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পিএনওই ২.০ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদিত চিকিৎসা সরঞ্জাম নয়। প্রতিষ্ঠানটি এটিকে রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং স্বাস্থ্য ও সুস্থতা পর্যবেক্ষণের ওয়েলনেস ডিভাইস হিসেবে বাজারজাত করছে। ফলে এর পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা শুরু কিংবা ওষুধ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার প্রায় ৮৫ শতাংশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর। তবে ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বাজারেও সম্প্রসারণ করছে পিএনওই। কোম্পানিটির দাবি, গত এক বছরে তাদের ব্যবসা ১০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং সম্প্রতি তারা লাভজনক অবস্থায় পৌঁছেছে।
